ক্ষুদ্র পিপীলিকা থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশে কিংবা মহাশূন্যে কোথায় কী হচ্ছে সবই তিনি জানেন। আল্লাহ তায়ালার এ গুণবাচক নামটি মানুষকে জ্ঞান অর্জনের দিকে উৎসাহিত করে। সর্বজ্ঞানের অধিকারী হওয়া আল্লাহ তায়ালার গুণ। এগুণে গুণান্বিত হতে গেলে বেশি বেশি জ্ঞান অর্জন করতে রিসালাতকে অস্বীকার করে। হবে। জানার জগৎ আরও বাড়িয়ে নিতে হবে। জ্ঞানী ব্যক্তিকে ইসলাম উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছে। মাদ্রাসার ছাত্রটিকে আব্দুল আলিম নাম দেওয়ার কারণে এ নামের গুণে সে জ্ঞানার্জনে আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
সোহান রিসালাতে বিশ্বাসের কথা বলেছে। নবি-রাসুলদের দায়িত্বকে বলা হয় রিসালাত। এতে বিশ্বাস না করলে ৯৯টি নাম রয়েছে, যার একটি কেউ মুমিন হতে পারে না। কেননা নবি রাসুলগণই আমাদের আল্লাহ তায়ালার পরিচয় জানিয়েছেন। তাঁর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস না করলে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর বাণীকে অস্বীকার করা হয়। এ জন্য ইমানের অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে রিসালাতে বিশ্বাস স্থাপন করা। সোহানের সহপাঠী একরাম বলে, মানুষ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন। তাই নবি রাসুলের কোনো প্রয়োজন নেই। সোহান তার প্রতিউত্তরে বলে, যুগে যুগে পথহারা মানুষকে পথ দেখানোর জন্য নবি-রাসুলদের আগমন ঘটেছে। এদের মধ্যে সর্বশেষ রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। মানুষের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁদের প্রেরণ করেছেন। তাই একজন মুসলমান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে একরামের কর্তব্য হলো- নবি রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা,
মহান আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নামের মধ্যে রয়েছে
আল্লাহ করিম যার অর্থ আল্লাহ ক্ষমাশীল, উদার, দয়াবান আল্লাহ হাকিম- যার অর্থ আল্লাহ প্রজ্ঞাময়, সুবিজ্ঞ, সুনিপুণ কর্মদক্ষ। এ রকম আরও নাম রয়েছে যা মহান আল্লাহর গুণ এবং ক্ষমতা প্রকাশ করে। উদ্দীপকে আমরা শুধু মহান আল্লাহর আলিম নামটির পরিচয় পাই। আল্লাহ আলিম অর্থ- আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি সব জ্ঞানের অধিকারী। এখানে শুধু আল্লাহর জ্ঞানগত গুণের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ জ্ঞান-গরিমা, ক্ষমা, দয়া, ন্যায়বিচার, মহানুভবতা প্রভৃতি অনেক গুণে গুণান্বিত এক মহান সত্তা। যেমন মালিক নামটি দ্বারা বোঝায় আল্লাহ তায়ালা আসমান জমিনের সবকিছুর মালিক, একচ্ছত্র অধিপতি। আবার করিম হলো উদারতা, দয়া, ক্ষমা, ঔদার্য ইত্যাদি গুণাবলিতে পরিপূর্ণ এক মহান সত্তার নাম। এভাবে আল্লাহর প্রতিটি নামই তাঁর অসীম ক্ষমতা আর মহিমান্বিত গুণাবলি প্রকাশ করে।দিক বিবেচনায় বলা যায় নামটি আল্লাহর গুণের পরিপূর্ণ প্রকাশ নয়।
একরাম ও সোহান দুই সহপাঠী। প্রসঙ্গক্রমে একরাম বলল, মানুষকে সৎপথ দেখানোর জন্য নবি-রাসুলগণ এসেছেন। আমি মনে করি, যেহেতু মানুষ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন। তাই নবি-রাসুলের কোনো প্রয়োজন নেই। সোহান দ্বিমত পোষণ করে বলল, যুগে যুগে পথহারা মানুষদের পথ দেখাতে লক্ষাধিক পয়গাম্বর এসেছেন। এদের মধ্যে ৩১৩ জন রাসুল। মুহাম্মদ (স.) শেষ নবি ও রাসুল। তাঁর পরে আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। ইমানদার হতে হলে এ বিশ্বাস আমাদের রাখতে হবে।

