বাংলাদেশের সংস্কৃতির স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য

S
sohel5454

 বাংলাদেশের সংস্কৃতির স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য আমাদের ভূমি যেমন উর্বর তেমনি সংস্কৃতিও বেশ সমৃদ্ধ। এখানে আগত নানা জাতের মানুষ ও তাদের সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। প্রাচীনকাল থেকে এদেশের উর্বর ভূমি মানুষকে কৃষিজীবী হতে উৎসাহিত করেছে। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মানুষের আচার-আচরণ, সংগীত, নৃত্য, ঘরবাড়িসহ সংস্কৃতির সকল দিক। রাখালিয়া, মুর্শিদি, জারি-সারি সকল গানেই থাকত কৃষির কথা।

                                 Source 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মাটির ব্যবহার খুব বেশি, সেটি হাড়ি-কলসি থেকে পোড়ামাটির ফলক পর্যন্ত দেখে বেশ বোঝা যায়। এ দেশে বাঁশ, বেত, কাঠের ব্যবহার বহুকালের। দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য ও অন্যান্য কাজে গাছপালা, জলাশয়ের অবদান বেশি। নদী-নালার সাথে নৈকট্যের কারণে আমাদের সংস্কৃতিতে মাঝি, জেলে, নৌকা বানানোর কারিগর ইত্যাদি পেশা গড়ে উঠেছে। নদীভিত্তিক ভাটিয়ালি গান, সারি গান ইত্যাদিতে নদী আর নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনের কথা উঠে আসে সাবলীলভাবে। কৃষক, তাঁতি, মাঝি, জেলে ছাড়া আরও রয়েছে কামার, কুমার, নাপিতসহ অসংখ্য শ্রেণি পেশার মানুষ।

                           Source 

এখানে তিনটি বড় ভাষাগোষ্ঠী তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এসেছে। তারা হলো অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ইন্দো-ইউরোপীয়। তাদের প্রভাব আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে এখনও রয়েছে। ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকেও আমাদের দেশে বৈচিত্র্য কম নয়। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট এবং অন্যান্য ধর্ম এখানে পালিত হচ্ছে। প্রাচীন হিন্দুধর্মের পাশাপাশি পাল আমলে বৌদ্ধধর্ম, মুসলিম সুফি-সাধকদের মাধ্যমে ইসলামধর্ম এবং পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসকদের মাধ্যমে এটাশে খ্রিষ্টধর্ম বিস্তার লাভ করে। তাই আমাদের রয়েছে প্রকৃতির সাথে বসবাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য, নানা জাতের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সংস্কৃতি, বিভিন্ন ধর্মের কাই লেক পাওয়া প্রেরণা। এসব মিলে জনবৈচিত্র্যের মতোই বাঙালি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে লালন করে আসছে।

                            Source 

চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এখানে প্রকৃতি যেমন সমৃদ্ধ তেমনি তার রয়েছে ভাঙাগড়ার খামখেয়ালিপনা। একে কোনোভাবেই এড়িয়ে চলা সম্ভব ছিল না, এখনও সম্ভব নয়। প্রকৃতির বিরূপ আচরণে যেহেতু কখনো ঝাড়, কখনো বন্যা, কখনো অনাবৃষ্টি, হঠাৎ ঢল এসব অনিশ্চয়তা থাকে, তাই এখানকার মানুষকে পরমশক্তির প্রতি আকৃষ্ট ও বিশ্বস্ত রেখেছে। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাস থেকে এ সাধনা করছে। এ সাধনার মধ্যে আল্লাহ বা ঈশ্বরের কথা যেমন আছে তেমনি আছে মানুষের কথা। বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মধ্যে যে সুরটি প্রধান সেটিকে বলা হয় মানবতাবাদ। অর্থাৎ মানুষের জন্য ভালোবাসা, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি। এসব কথার প্রতিফলন আমরা পাই লালন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের গানে। সেই সুলতানি আমলে কবি চণ্ডীদাস লিখেছেন - সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। আর নাম না-জানা লোককবি লিখেছেন চমৎকার কবিতা- নানাবরণ গাভীরে ভাই একই বরণ দুধ/জগৎ

Comments

sereybd

অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

@shariarr দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
20220913_222205.png
shariarr
Congratulations, your post has been curated by @shariarr

Pink Yellow Flash Sale Watercolor Background Animated Instagram Post (800 × 500 px).gif

please Vote for @shariarr serey witness