ছবি আঁকা পর্ব 2

S
sohel5454

কাগজে আঁকা রঙিন ছবি দেখে তুলার ফুলদানি, ফুল, পাতা, ইত্যাদি পিচবোর্ড লাগানো কালো কাপড়ের ওপর ছবির মতো সাজাই। ঠিকভাবে সাজানো হলে এক এক অংশ তুলে পেছনের কাগজে ভালো করে আঠা লাগাই এবং আবার ঠিক জায়গায় বসিয়ে চাপ দিয়ে কাপড়ের সাথে সেঁটে দিই। খেয়াল রাখব ছবির অংশগুলো চারদিকে যেন কাপড়ের সাথে ভালো করে লাগে, কোথাও যেন উঠে না থাকে। এবার দেখি, বিভিন্ন রঙের তুলা নিয়ে তৈরি ছবিটি বেশ সুন্দর লাগছে। ফুল ও পাতাগুলো আসল ফুল ও পাতার মতো নরম নরম মনে হচ্ছে। জামরা চেষ্টা করলে এই নিয়মে আমাদের খুশিমতো সুন্দর সুন্দর ছবি তৈরি করতে পারব। ফুলের ভেতর কেশরচাইলে পাপড়িগুলো আলাদা আলাদাভাবে কেটে মাঝখানে অন্য রঙের তুলার কেশর বসিয়ে চারদিকে পাপড়িগুলো বসিয়ে দিতে হবে। শুধু ফুল-পাতার ছবি নয়, এই নিয়মে বিভিন্ন রঙের জামা-কাপড় পরিয়ে মানুষের ছবি, পশু, পাখি, গাছপালা প্রভৃতির ছবি তৈরি করতে পারি। তুলা দিয়ে করা ছবি কাঁচ দিয়ে ফ্রেম করে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখলে খুবই সুন্দর দেখাবে।

আমরা বাড়িতে মাকে সেলাই করতে দেখি। আমাদের জন্য জামা-কাপড়, জামার ওপর সুন্দর নকশা ইত্যাদি অনেক সূচিশিল্প তাঁরা করেন। সুই, সূতার নানারকম কাজ আমরা নিজেরাও করি। যেমন-বোতাম লাগানো, ছেঁড়া কাপড় জোড়া দেয়া, ছোটখাটো রুমাল, টেবিলের কাপড় ইত্যাদি। গ্রামে ও শহরে অনেক বাড়িতেই আমরা কাঁথা ব্যবহার করি। কিছু আছে সাধারণ কাথা আবার কিছু আছে নকশিকাঁথা। কাঁথায় অনেক রঙের সুতা দিয়ে সেলাই ও নকশা থাকে। দেখতেও খুব চমৎকার । কাঁথায় পাখি, মাছ, ফুল, লতাপাতা, হাতি, ঘোড়া, মানুষ ইত্যাদি অনেক কিছুই রঙিন সুতায় সেলাই করে ছবি ও নকশা আকারে তুলে ধরা হয়। আবার অনেকে ছোট ছোট নকশিকাঁথা ছবির মতো বাঁধাই করে ঘরে সাজিয়ে রাখে। এই যে শিল্প, একে আমরা বলি সূচিশিল্প। এই শিল্প চারুশিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। বহুকাল ধরে নানি-দাদিরা নানারকম নকশা করা পাখা, তোয়ালে, জায়নামাজ, কাথা ইত্যাদি সেলাই করতেন। অবসর সময় তাঁরা অনেকদিন ধরে এক একটি কাঁথা তৈরি করতেন।সুই, সুতা দিয়ে নিজেদের সুখ-দুঃখের কাহিনী নকশা করে ফুটিয়ে তুলতেন। বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে সাধারণ পরিবারের মহিলারা এখনো নানারকম নকশিকাঁথা তৈরি করছেন। এই নকশিকাঁথার পরিচিতি ও খ্যাতি লোকশিল্প হিসেবে পৃথিবর সর্বত্র। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘরে ও পৃথিবীর অন্যান্য সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের এই লোকশিল্পের সংগ্রহ রয়েছে।

Comments