বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
যিনি ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনিই ব্যবসায় উদ্যো সে আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করাই হলো ব্যবসায় দেখাল। আর একটি কারবার প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির ভাবনা থেকে শুরু করে নবায়ন এবং কারবারি প্রতিষ্ঠানকে সাফল্যের যাতে পৌছে দেওয়ার সমিষ্ট যাবতীয় কাজ সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত বারিকেই বলা হয়। ব্যবসনা উদ্যোক্তা ব্যবসায়ে প্রাথমিক ঝুঁকি ও দায়-দায়িত্ব বহন করেন। একটি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তি হলেন ব্যবসায় উদ্যোক্তা।
কল্যাণমূলক উদ্যোগ বিষয়ক চিন্তা বা উদ্যোগ। সাধারণ অর্থে যেকোনো কাজের কর্মপ্রচেষ্টাই উদ্যোগ। অতএব উদ্যোগ ব্যবসায় কিংবা জনহিতকর উন্নয়ই হতে পারে। ব্যবসায় উদ্যোগের উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন আর অন্যান্য উদ্যোগের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। তাই ব্যবসায় মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হলেও জনহিতকর কাজ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয় না।
মুহাস এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং গ্রামের ঐতিহ্য পাপনের জন্য একটি পাঠাগার ও সাগ্রহশালা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে পাঠাগার স্থাপন করেছেন। তাই মুহাদের এ জনহিতকর কাজের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ যেমন উপকৃত হবে তেমনি এর মাধ্যমে সে তার গ্রামের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারবে। জনহিতকর চিন্তার মাধ্যমে নুহাস একজন মননশীল উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাঠাগার ও সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা একটি জনহিতকর কাজ বিধায় তার উদ্যোগটি জনকল্যাণমূলক বলে পরিগণিত হয়। অর্থাৎ গ্রামে পাঠাগার ও সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা হলো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বিষয়ক চিন্তা বা উদ্যোগ।
সেই উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। কেননা মেহদাদের উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যরাও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে।
যিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়। উদ্যোক্তা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। উদ্দীপকের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী হয়েছেন যা দেশের বেকার জনগোষ্ঠীকে ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমার এলাকার এক বড় ভাইয়ের চিন্তা-মুড়ি তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজে সফলতা লাভ করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন জীবনে সফলতা অর্জনের জন্যে বিদেশ যাবার প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তি থাকলে সহজে নিজ দেশেই সফল হওয়া যায়। তার গৃহীত উদ্যোগ দেশের এবং সমাজের জন্য উপকারী হতে পারে। নিজের উন্নতির পাশাপাশি গ্রামের কারিগরদেরও সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে পাশাপাশি নিজের এলাকার ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই মেহনাদের উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সেইএ উদ্যোগ থেকে অনারা আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারে এবং কীভাবে নিজের ব্যবসায়ে উন্নতি করা যায় সে বিষয়েও শিক্ষা নিতে পারে। অর্থাৎ তার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের উদ্যোক্তার পথ প্রদর্শক বা অনুকরণীয় ব্যক্তি।

