ভয়ানক ভুতের গল্প।

S
sibli123

আসসালামুয়ালাইকুম। সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল আছেন।

 

আজকে আমি আমার মামার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ভূতের গল্প শেয়ার করতে যাচ্ছি। আমি আমার মামার কাছ থেকে শুনেছি। তো চলুন শুরু করা যাক। 

ইমেজঃ  https://www.pexels.com/

প্রথমেই বলে নেই আমার মামা তেমন শিক্ষিত না। আর রাশির দিক থেকে আমার মামা ছিল তুলো রাশি। তো মামার সাথে আসলে ঘটনাটা শুরু হয় মামার বয়স যখন ২১থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। 

 

মামার সাথে স্বভাবতই জ্বিন ছিল যেহেতু তিনি তুলো রাশি ছিলো।

 

তিনি ছোটবেলায় থেকে রাতে নানা রকম স্বপ্ন দেখতেন। 

 

একদিন রাতে তিনি দেখতে পান তাকে কেউ যেন ডাকছে। অন্ধকার একটি কালো ছায়া তাকে ডাকছে খুব জোরে জোরে। ডাকের কারণে তার মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। 

 

ঘুম থেকে উঠে তিনি সত্যি সত্যি বুঝতে পারে না আসলেই তাকে কে ডাকছে। কারণ এত রাতে কেউ বিপদে পরলেই শুধু ডাকতে আসেন। 

 

যাই হোক মামা ঘরের দরজা খুলে বাইরে দেখেন কালো পাঞ্জাবি পড়া এবং কালো দাড়িওয়ালা এক লোক দাঁড়িয়ে আছেন। 

 

মামার বুঝতে বাকি রইল না সে আমাদের বাড়ির পাশেই থাকা কালো জাদুকর। যে মানুষের ক্ষতির জন্য জাদু করে বেড়ায়। তিনি মামাকে বলল এই মাসের ২১ তারিখে তার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে। আর তিনি নম হুমকি দিয়েছিলেন যে মামা যদি তার সাথে না যায় তাহলে মামার পরিবারের সাথে খুব খারাপ কিছু হবে। যেহেতু মামার সাথে জ্বিন ছিল তো মামা যেতে রাজি হয়ে যায়।

 

 চলতি মাসের ২১ তারিখে ঠিক ওই 

সময়ে মামার কাছে ওই লোকটি এসে হাজির হলো।মামা বাইরে বের হয়ে দেখেন যে গ্রামের আরো চারজন তুলা রাশি কে উনি জোগাড় করে রেখেছেন। মামা সহ মোট পাঁচজন তুলারাশি মিলে তারা যাত্রা শুরু করেন। মামার বক্তব্য এমন ছিল যে তিনি যে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তা একদম অন্ধকার ছিল অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। একে অপরের হাত ধরে হাঁটা শুরু করেছিলেন তারা। হঠাৎ করে তিনি লক্ষ্য করেন যে তারা একটি কবরস্থানে চলে এসেছেন। 

 

তখন তান্ত্রিক সে পাঁচজন তুলো রাশি কে বলার শুরু করেন সামনে যে খবরটি দেখতে পাচ্ছ এই কবরটি ১৭ বছর বয়সী এক অবিবাহিত মেয়ের। 

 

তোমরা মেয়েটির মাথা কেটে নিয়ে আসবে এবং বা হাত কেটে নিয়ে আসবা। 

ইমেজঃ https://www.pexels.com/

আর যদি তোমরা এই কাজটি সফলভাবে করতে পারো তাহলে তোমাদের টাকা পয়সার অভাব হবে না। 

 

যেহেতু মামা এরকম কাজ আগে কখনও করেনি তাই ভয়ে তার হাত-পা কাঁপতে লাগলো। কিন্তু কোন উপায় ছিলনা দুষ্ট তান্ত্রিকের কাজ না করে দিলে অনেক বিপদে পড়তে হবে। বলে রাখা ভালো তান্ত্রিক টির নাম ছিল কালাম ফকির। 

 

কবর খুঁড়ে লাশ থেকে মাথা ও হাত কাটার আগে তান্ত্রিক তাদের খুব ভালোভাবে একটি কথা বলে দেন। আমি এখানে থাকতে পারবো না। তোমরা সবাই মিলে কবরটি খুড়া শেষ হলে। কবরটির চারমাথায় চারজন চোখ বন্ধ করে দাঁড়ায় থাকবে। আর একজন কবরে নেমে লাশটির মাথা এক নিঃশ্বাসে কাটতে হবে। আর বাঁ হাতটি একটানে ছিড়ে ফেলতে হবে। 

 

তান্ত্রিকের কথা শুনে মামা সহ বাকি চারজন অনেক বেশি ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু কিছু করার ছিলনা। পাশে থেকে কুকুরের ঘেউঘেউ আওয়াজ আসতে থাকে। এবং ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ টা যেন ভয়ের পরিমাণটা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।

 

কথামতো সব ঠিক ঠাকই চলছিল।মামাকে কবর থেকে লাশের মাথা কাটা ও হাত টেনে ছেড়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। বাকি চারজন কবরে চারমাথায় চোখ বন্ধ করে হাত মুঠো করে দাঁড়ায় থাকে। 

 

মামা কবরে নেমে যখন লাশটির মুখ খুলতে ছিল তখন খুব গরম একটা হাওয়া এসে মামার শরীর লাগে। একটু পরেই টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়া শুরু করে এবং আবহাওয়া যেন আরো ভয়ানক হয়ে যায়। লাশ থেকে লাশের মাথাটি কাটার সময় তেমন কিছুই ঘটেনি। মাথাকাটার পরও মামা যখন বা হাতটি এক নিশ্বাসে টান দিতে যাবে তখন মামার দুই কানের মধ্যে এত জোরে চিল্লানি আওয়াজ শোনা যায় মনে হচ্ছিল একসাথে কয়েক হাজার লোক তার দুই কানের মধ্যে জোরে চিল্লাতে থাকে। ধীরে ধীরে মামার শরীর ভারী হতে থাকে এবং মামা বেহুশ হয়ে যায় । 

 

পরিবেশের অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে যায় যে বাকি চারজন মামাকে কোন মত কবর থেকে টেনে তুলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। বাড়িতে আসার পর মামার হুশ কোনভাবেই ফিরতেছিলো না। টানা সাতদিন বেহুশ থাকার পর তার জ্ঞান ফেরে। 

 

ওই দুষ্টু তান্ত্রিকের লাশ সাতদিন পর ওই কবরের উপর এই পাওয়া যায়। 

 

বাকি চারজন তুলা রাশির কিছু না হলেও আমার মামার বা হাতটি আস্তে আস্তে পচতে শুরু করে।

 

অবশেষে মামার বা হাতটি কেটে বাদ দিতে হয়। গল্পটি বলতে বলতে মা আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গিয়েছিল। 

ইমেজঃ https://www.pexels.com/

এটাই ছিল আজকের গল্প। সবাই ভালো থাকেন আল্লাহ হাফেজ।

Comments

sereybd

আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

৥mahmud552 দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে