আশা করি সকলে ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও অনেকে ভালো আছি। আজকে আপনাদের মাঝে আমি সমাজ সেবা নিয়ে আলোচনা করবো ।আশা করি সকলের ভালো লাগবে। আপনাদের মাঝে আমি সব সময় নতুন কিছু আনে থাকি এটা সকলে জানেন আপনাদের পাশে আছেন বলে আল্লাহর রহমতে এগিয়ে যাচ্ছি। কথা না বাড়িয়ে কাজের কথায় আসা যাক।
মানুষ মানুষের জন্য এটা মানুষের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়নি বরং যুগ যুগান্তর ধরে চলে আসা মানব সম্প্রদায়ের বৃহত্তর স্বার্থ অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সমাজজীবন মাত্রই সহযোগিতা, মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ও প্রতিফলন। সমাজ সেবার মাধ্যমে একটি কর্মমুখর, সচল ও উন্নত সমাজ গঠন করা সম্ভব। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই জীবনের যথার্থ সার্থকতা নিহিত। অপরের কল্যাণ কামনাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের স্বার্থকে ত্যাগ করার নামই সমাজসেবা।সমাজে কেউ বিত্তবান, আবার কেউ অসহায়। যারা সম্পদশালী তারা আর্থিকভাবে সাহায্য দিয়ে সমাজের দীন-দুঃখীদেরকে সাহায্য করতে পারে। আর যাদের সে সামর্থ্য নেই, তারা সান্তনা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, অসুস্থকে সেবা দিয়ে, সাধ্যমতো শ্রম দিয়ে অপরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পারে। সমাজসেবা করতে যখন বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোক একতাবদ্ধ হয় তখন সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে সঙ্গতি রেখে পাঠ কার্যক্রম পরিচালনা ও স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যথা-অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ভূমিকম্প-এসবের সময় জনসাধারণের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং পূর্ব থেকে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সভা-সমাবেশ, সিম্পোজিয়াম, পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্নভাবে জনমনে সমাজসেবা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সমাজ সেবা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি প্রথা। যুগের বিবর্তনে সমাজ ক্রমশ বিকাশ ও উন্নতি লাভ করছে। সমাজ সেবার প্রবণতা যদি প্রাচীন আমল থেকে প্রচলিত না থাকতো তাহলে বর্তমানে আমরা এমন সুসভ্য সমাজজীবন উপভোগ করতে পারতাম না।সমাজসেবায় মনুষ্যত্বের বিকাশ লাভ হয়। সমাজসেবার মাধ্যমে একজন অপর জনের কাছাকাছি আসতে পারে। ফলে সমাজে মানুষের সাথে মানুষের আত্মার বন্ধন গড়ে ওঠে। নিঃস্বার্থ সমাজসেবা মানুষের সুন্দর গুণাবলির একটি। খোদা হাফেজ।

