বর্তমানকালে প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত উপায়-উপাদানের মধ্যে দক্ষ ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূ্ণ উপাদান
হিসেবে সকল মহলেই স্বীকৃত। একই স্থানে একই পরিমাণে অর্থ ও উপাদান বিনিয়ােগের পরও দু'জন ব্যবসায়ীর
মধ্যে সফলতা অর্জনে যে পার্থক্য লক্ষ করা যায় তার মধ্যে মূল পার্থক্য নির্ধারণকারী উপাদান হলাে ব্যবস্থাপকের
গুণাবলির ভিন্নতা। ব্যবসায়ের সফলতার জন্য একজন ব্যবস্থাপকের যে সকল গুণ কম-বেশি থাকা উচিত তা নিমে উল্লেখ করা হলাে ব্যবস্থাপনার নীতি
সাধারণ শিক্ষা ও জ্ঞান (General edtcation and knowledge) : বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানের একজন
নিক পরিচালনা সম্পর্কিত জ্ঞান একজন ব্যবস্থাপককে তার কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে সহায়তা করে। অভিজ্ঞতা বলতে কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে অর্জিত ও লঙ্ধ আনকে বুঝায়। ব্যবস্থাপনা একদিকে কলা ও অন্যদিকে বিজ্ঞান। তাই কলা হিসেবে একজন ব্যবস্থাপকের প্রয়ােগিক অভিজ্ঞতা থাকা অপরিহার্য। বিভিন্ন সমস্যা মােকাবিলা ও কার্যকলাপের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একজন
ব্যবস্থাপককে পূর্ণতা দান করে। শিক্ষিত কম হওয়ার পরও যারা ব্যবসায়ে ভালাে করছেন, এটা সম্ভব হয়েছে
তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই।
শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, শক্তি ও দৃঢ়তাকে এ ধরনের যােগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন ব্যবস্থাপককে বিশেষত শীর্ষ নির্বাহীদের ক্ষেত্রবিশেষে ২৪ ঘন্টা কাজ করতে হয়। তাই কর্তব্য কাজে তাদের যথেষ্ট পরিশ্রমী হওয়া আবশ্যক। সেই সাথে নানা প্রতিকূল অবস্থা ও ঝামেলার মধ্যে তাকে চলার জন্য যথেষ্ট মানসিক ভারসাম্যপূর্ণ ও দৃঢ় হওয়ার প্রয়ােজন
পড়ে। অন্যথায় দক্ষতার সাথে ব্যবস্থাপনা কার্য পরিচালনা তার পক্ষে সম্ভব হয় না।
আন্তরিকতা ও সংকল্পবদ্ধতা কোনাে কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কতব্য-কাজে একাগ্র ও মনােযােগী হলে তাকে আন্তরিকতা বলে। একজন ব্যবস্থাপক যদি তার কর্তব্য কাজে কারক না হয় এবং কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে না পারে তবে তার পক্ষে ভালাে ব্যবস্থাপক হওয়া সেই সাথে একজন ব্যবস্থাপক এ পেশায় ব্যক্তিক উন্নয়নের ব্যপারে সংকল্পবন্ধ না হলে তার পক্ষে
করতে পারে। যােগাযােগ দক্ষতা অন্যের বা অন্যদের নিকট সঠিক সময়ে সঠিক উপায় বা পতিতে নিজের বক্তব্য কার্যকরভাবে তুলে ধরে উদ্দেশ্য অর্জনের সামর্থ্যকে যােগাযােগ দক্ষতা বলে । বিভিন্ন জর সাথে যােগাযােগ রক্ষা ও কাজ আদায়ে একজন ব্যবস্থাপকের যােগাযােগ দক্ষতা থাকতে হয়। যে
সারস্থাপক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথে যতবেশি যােগাযােগ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন কার্যক্ষেত্রে তার পক্ষেই
ততবেশি কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়ে থাকে। তাই সকল অবস্থায় যােগাযােগ রক্ষার মাধ্যমে সঠিক তথ্য জানা
ও জানানাে এবং সহজে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে লক্ষ্যার্জনের গুণ ব্যবস্থাপকের থাকা উচিত। অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা অনুপ্রাণিত করা বলতে অন্যদেরকে উৎসাহিত, শক্তি সঞ্চারিত ও কাজে উদ্দীপ্ত করাকে বুঝায়। ব্যবস্থাপনার কাজ হলাে অন্যদের দ্বারা প্রয়ােজনীয় কাজ সম্পাদন করিয়ে নেয়া। এরূপ কাজ সম্পাদনের নিমিত্তে সংশ্লিষ্টদের অনুপ্রাণিত করা অপরিহার্য। তাই সহজে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে অনুপ্রাণিত ও প্ররােচিত করার ক্ষমতা ব্যবস্থাপকের একটি অন্যতম গুণ হিসেবে বিবেচিত। প্রজ্ঞা বা দূরদর্শী জ্ঞানচক্ষু বা বিশেষ জ্ঞান দ্বারা ভবিষ্যৎকে উপলব্ধি বা বুঝতে পারার
সামর্থ্যকে প্রজ্ঞা বা দূরদর্শী বলে। একজন ব্যবস্থাপককে সব সময়ই পূর্বানুমানের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে
হয়। তাই ব্যবস্থাপক যদি বর্তমান অবস্থা ও পারিপাশ্বিকর্তা বিবেচনায় ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক অনুমান করতে
ব্যর্থ হয় তবে তার পক্ষে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। একজন দূরদর্শী প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি
যােগ্য ও সফল ব্যবস্থাপক হিসেবে সহজেই প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে।

