পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব।

S

হ্যালো গাইস,

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন বন্ধুরা সকলে? আশা করি সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর দিন অতিবাহিত করছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমিও ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে। আশা করি আমার লেখাটা আপনাদের সকলের ভালো লাগবে সকলের পড়বেন আমার লেখাটি এ প্রত্যাশা রইল।

পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর শব্দ হল বাবা এবং মা। এই দুটি শব্দের মধ্যেই পৃথিবীর সমস্ত ভালবাসা স্নেহ মায়া মমতা সব কিছু লুকায়িত আছে। পিতা মাতা সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে বড় নিয়ামত। পিতা মাতার কারণেই আজ আমরা এই সুন্দর পৃথিবীতে আমাদের আগমন ঘটেছে তাই আমাদের সকলের প্রত্যেক সন্তানের পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে আজ সে বিষয়টি নিয়ে আমি শেয়ার করব আমার লেখাটি।

 

যে পিতা মাতা আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন এ পিতা-মাতা তারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দিয়ে আমাদের লালন পালন করে থাকেন তারা তাদের নিজের সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে প্রত্যেকটি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদেরকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন কিন্তু আমরা সন্তানেরা যখন বড় হয়ে যাই তখন পিতা-মাতার সেই কষ্টের কথা আমরা ভুলে যেয়ে আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য পিতা-মাতাকে অনেক সন্তান বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়।

 

পিতা-মাতা যখন তাদের যৌবন ছিল তারা সন্তানের কথা চিন্তা করে তাদের সমস্ত জীবন বিসর্জন দিয়েছে শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিলে তিলে নিজেরা না খেয়ে সন্তানকে খাইছে তাদেরকে সুন্দরভাবে লালন পালন করার জন্য সুন্দর স্কুলে পড়ানোর জন্য পিতা-মাতা-পেক্ষ করেছে সেটা কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পিতা-মাতা তাদের নিজেদের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়েছে হাসিমুখে।

 

কিন্তু সেই সন্তানরা যখন বড় হয়ে যায় নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শেখে তখন তারা সেই বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ভুলে যায় কারণ তারা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সেই সময় বোঝা মনে করে থাকে কিন্তু ইসলাম ধর্মে পিতা-মাতার সম্মান অনেক বেশি দিয়েছে ইসলাম ধর্ম। আত আর পায়ের নিচেই সন্তানের জান্নাত নির্ধারণ করা হয়েছে। পিতা মাতা খুশি হলে সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে যান তাই আমাদের কারোর উচিত নয় পিতা-মাতার মনে সামান্য পরিমাণ কষ্ট দেওয়া পিতা-মাতা আমাদেরকে যা আদেশ করেন তা আমাদেরকে সকলকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব কর্তব্য পিতা-মাতা যে কাজে কষ্ট পান আমাদের সেসব কাজ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখা সকলের উচিত।

 

সব সময় মনে রাখতে হবে ছোটবেলায় আমাদের পিতা-মাতা আমাদেরকে যেভাবে লালন পালন করেছে আমাদের ঠিক তদ্রূপ পিতা-মাতা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাবে তখন তাদেরকেও সেভাবে লালন-পালন করা আমাদের প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্বও কর্তব্য।যেন কোন সন্তান ভুলে না যাই যে আমরা যখন নিজেরা চলতে পারতাম না তখন আমাদের পিতা-মাতা হাত ধরে গুটি গুটি করে আমাদেরকে আজ এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে তাই আমাদের নিজেদের কোন শক্তি নাই পিতা-মাতাকে ছাড়া কারণ পিতা-মাতা যদি আমাদেরকে ছোটবেলায় ফেলে দিতেন তাহলে আমরা রাস্তায় মানুষ হতাম কুকুরের সাথে বিড়ালের সাথে পথ শিশু হয়ে জীবন কাটাতাম তাই আমাদেরকে সকলের উচিত পিতা-মাতার প্রতি যত্নশীল হওয়া কারণ পিতামাতা তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় ব্যয় করেছে সন্তানদেরকে মানুষের মত মানুষ করার জন্য।

 

কোন পিতা-মাতার স্থান যেন বৃদ্ধাশ্রমে না হয় এটি সবচেয়ে অমানবিক একটি কাজ যখন সন্তান বড় হয়ে যায় তখন সে তার শুধু নিজের চিন্তা করে এবং তার পরিবারের কথা চিন্তা করে পিতা-মাতাকে বেমালুম ভুলে যাই কারণ পিতামাতা তাদের কাছে বোঝা স্বরূপ হয়ে যায় চিন্তা করে পিতা-মাতা এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছে তাদের পিছনে কোথাও সময় নষ্ট করা এবং অর্থ ব্যয় করা এটা কোন সন্তান করতে চায় না তাই কোন সন্তানের এটা কাম্য নয় সেজন্য তার পূর্বের কথা ভুলে না যায় যখন সে নিজে চলতে পারতো না তখন পিতা-মাতা হাত ধরে তাকে হাটতে শিখিয়েছে মুখের ভাষা শিখিয়েছে যখন সে কথা বলতে পারতো না তখন মুখের ভাষা শিখিয়েছে যখন সে খেতে পারতো না তখন তাকে গালে তুলে খেয়েছে যখন সে হাঁটতে পারতো না তখন তাকে ধরে ধরে হাঁটতে শিখেছে তাই আমরা যেন কোন পিতা-মাতার ঋণের কথা আমরা ভুলে না যাই কারণ আমরা আমাদের শরীরের চামড়া দিয়ে যদি পিতা-মাতার পায়ের জুতা বানিয়ে দেয় তাও আমাদের সামান্য পিতা-মাতার একফোটা ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।

তো বন্ধুরা আমরা সকলের চেষ্টা করব আমাদের পিতা-মাতার আদেশ মান্য করে চলতে তাদের কখনো যেন আমরা কষ্ট না দিয়ে ফেলি সেদিকে আমাদের সকলের লক্ষ্য রাখা উচিত কারণ পিতামাতা যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তারা তাদের শিশুসুলভ আচরণ করে তাই আমরা পিতা-মাতাকে বেশি বেশি সময় দিব তারা যাতে খুশি হয় আমরা সে কাজ করব তাদের আদেশ-নিষেধগুলো আমরা মান্য করে চলবো তাহলে আমরা ইহকাল এবং পরকালে উভয় জায়গায় শান্তি লাভ করব।

বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এ প্রত্যাশা রইল আমার লেখাটি আপনাদের কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Comments