হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সাথে অনেক সুন্দর দিন অতিবাহিত করছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমিও ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমার জীবন কাহিনী নিয়ে। আশা করি আমার লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে।
আমি শারমিন সুলতানা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার জন্ম সাতক্ষীরা জেলার ঝাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিহারিনগর গ্রামে। এই গ্রামেই আমার বেড়ে ওঠা। আমার বয়স ২৫ বছর। আমার ছেলেবেলা কেটেছে এই গ্রামের হাওয়া বাতাস খেয়ে।প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে শৈশব খুবই গুরুত্বপূর্ণ তেমনি আমার জীবনের শৈশব খুব স্মৃতি মধুর বহন করে থাকে আমার জীবনের সবচেয়ে স্মৃতিময় ঘটনা হলো আমার শৈশবের বেলা। শৈশব আমার জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার ছোটবেলা কেটেছে এই গ্রামেই আমি গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমার লেখাপড়ার হাতে খড়ি। আমি যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলের নাম ছিল বারুইবায়েসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আমি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো ছিলাম তার ফলশ্রুতিতে আমি প্রত্যেক শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করতাম আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আমার গ্রামের একটি ছেলে তার নাম ইমরান।তার সাথে আমার প্রত্যেক ক্লাসে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত ক্লাসের সব বিষয়ে আমরা দুজন অনেক বেশি দুজনকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতাম এবং সবসময় শত্রু ভাবা পণ্য আচরণ করতাম আসলে সেই সময়টা ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় সময়।
আমরা অনেক বেশি আনন্দ করতাম স্কুলে সময়গুলোতে আমার আরো দুটো বান্ধবী ছিল একজনের নাম শাকিরা অন্যজনের নাম পাপিয়া। আমরা তিনজনের গলায় গলায় ভাবছিলাম আমরা বিকালে খুবই দুরন্তপনা ছিলাম যার কারণে ছুটে চলা গ্রামের খেলাধুলায় মেতে থাকতাম অনেক বেশি খেলাধুলা করতে পছন্দ করতাম।
স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলায় আমি যথেষ্ট পারদর্শী ছিলাম এবং তার কৃতিত্ব স্বরূপ আমি অনেক বেশি পুরস্কার অর্জন করেছি আমার ছোটবেলা থেকেই। এরপর আমার মাধ্যমিক শুরু হয় আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ের একটি স্কুলে আমাদের স্কুলের নাম ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সেখানে আমার মাধ্যমিক লেখাপড়া চলতে থাকে। এই ঝাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আমি এসএসসি পাস করি সাইন্স থেকে জিপিএ 4.88 নিয়ে। আমার এসএসসিতে এ প্লাস না পাওয়ায় আমি অনেক বেশি কান্নাকাটি করেছিলাম।আমার স্বপ্ন ছিল আমি এসএসসিতে এ প্লাস পাব কিন্তু সে স্বপ্ন আমার পূরণ না হয় আমি অনেক বেশি আপসেট হয়ে গেছিলাম। কিন্তু আমার আব্বু আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিতো তিনি বলত এবার হয়নি পরবর্তীতে হবে।তিনি আমার সবচেয়ে সুপারহিরো আমার বাবা আমাকে সব সময় অনেক বেশি সাপোর্ট দিতো এবং উৎসাহ দিত সব কাজে। আমি আমার বাবাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।
বাবার অনুপ্রেরণায় এসএসসি পরে আমি কলেজে ভর্তি হই। কলেজেও অনেক আনন্দে সময় অতিবাহিত হয়ে থাকে। কলেজের অনেক সুন্দর স্মৃতি আছে কলেজে মাঝে মাঝে ক্লাস অফ দিয়ে গল্প করতাম আসলে ক্লাসের টাইমে ক্লাস অফ দের বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এটা খুবই চমৎকার মুহূর্ত ছিল অনেক বেশি মিস করি সে সময়টাকে এটা আমার জীবনে খুবই স্মরণীয়।
কলেজের গণ্ডি পার হয়ে এরপর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হলাম ম্যাথমেটিক্সে। লেখাপড়ার সাথে সাথে আমার স্বপ্ন ছিল আমি পরিবারের কিছু ভূমিকা রাখব এরপর আমি কিছু টিউশনি করতে থাকি ছেলেপেলে পড়াতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে কারণ ছেলেপেলে পড়ালে নিজেরও জ্ঞানের চর্চা হয় এবং আমি অনেক বেশি ভালোবাসি ছেলেমেয়েদেরকে পড়াইতে আমার বেশিরভাগ সময় কাটে পড়াশোনা বিভিন্ন ম্যাগাজিন অথবা গল্পের বই পড়তে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি। আমার শখ আমার একটি ফুলের বাগান করা। আমি আমার বাড়িতে নানান রকম ফুলের গাছ রোপন করেছি এবং সেগুলোতে এখন ফুল ধরে আমি মাঝে মাঝে সেগুলোকে পরিচর্যা করি যখন আমার মন খারাপ থাকে তখন আমি ফুলের বাগানে আমার সময় অতিবাহিত করি আসলে ফুলের বাগানে যখন আমি সময় অতিবাহিত করি আমার মন ভালো হয়ে যায় ফুলের সুবাসে। আমার বাগানে প্রায় ২০/ ২২ রকমের ফুল আছে।
বন্ধুরা আমার স্বপ্ন আমি বড় হয়ে শিক্ষকতা পেশায় পদার্পণ করব। আমি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাবো খুব যত্ন করে এটা আমার স্বপ্ন আমি ছেলে মেয়ে পড়াতে অনেক বেশি ভালোবাসি সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। এবং আমার পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারি।
মাঝে মাঝে আমি গান শুনতে পছন্দ করি। যখন অবসর সময় পাই মন খারাপ থাকে তখন আমি গান শুনি বাংলা গান আমার পছন্দ। বন্ধুরা আমি ব্লাড ডোনেশনে কাজ করে থাকি মাঝে মাঝে আমি রক্ত দান করি এটা আমার মনকে প্রফুল্ল করে। আসলে সামাজিক কোন কাজে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত রাখতে পারার মধ্যে একটা অনাবিল প্রশান্তি কাজ করে। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার সর্বাত্মক মঙ্গল কামনা করবেন আশা করি আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।
এই আধুনিক যুগে সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও দিন দিন যান্ত্রিকমুখী হয়ে যাচ্ছে আমি এই ব্লক সাইডে প্রায় নতুন গত একপাশ ধরে আমি এখানে কাজ করি। ব্লগ লিখতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে।
আমার লেখার মধ্যে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে বন্ধুরা সকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এ প্রত্যাশা রইল সকলের প্রতি।
আমার এই ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।

