দিনটা ছিল শুক্রবার। সেদিন বৈশাখ মাসের 1 তারিখ ছিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ছিল। আমি এবং আমার দুই বন্ধু সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা মেলায় ঘুরতে যাব। আমাদের পাশের গ্রামে মেলা আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামটির নাম ছিল চাঙ্গিনী। আমাদের এই গ্রাম থেকে অনেক দূরে গ্রামটি কিন্তু আমাদের গ্রামের একটি বড় জমি পার হলেই গ্রামটি পাওয়া যায়। আমরা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা আজকে মেলায় ঘুরতে যাব। সময়টি ছিল আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম। তখন আমার বয়স ছিল 12 বছর'। অনেক আনন্দ লাগছিল। জীবনে প্রথম কোন মেলায় ঘুরতে যাব। হাতে কোন ধরনের টাকা ছিলনা। আমার বন্ধুর কাছে 20 টাকার সৌদি আরবিয়ান নোট ছিল। এই টাকাটা আমরা ভাঙ্গানোর জন্য বাজারে গেলাম। বাজারটি ছিল পয়ালগাছা বাজার। ওই বাজারে গিয়ে শহীদ আলি নামক একজন এ দোকানে গিয়ে টাকাটি ভাঙ্গায় নিলাম ও আমাদের থেকে 20 টাকা নিয়ে আমাদের বাংলাদেশি 200 টাকা দিল। আমরা অনেক আনন্দ-ফূর্তি করলাম আজকে টাকাটা মেলায় গিয়ে খরচ করব। অবশেষে রওনা দিলাম মেলার দিকে। আমরা জমিতে নেমে গেলাম। হাঁটতে শুরু করলাম জমির মাঝখান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে এক সময়ে গিয়ে আমরা মেলায় পৌঁছে গেলাম।
মেলায় পৌঁছানোর পর মেলার অপরূপ দৃশ্য দেখে অনেক ভালো লাগছে। মেলায় অনেক রকমের রং বেরংয়ের দোকান উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের দোকান দেখা যাচ্ছে। কেউ আইসক্রিম দোকান নিয়ে বসে আছে। কেউ অনেক ধরনের ফল নিয়ে বসে আছে। কেউ আবার আচারের দোকান নিয়ে বসে আছে। কেউ আবার ওদিকে সন্দেশ মিষ্টি দোকান নিয়ে বসে আছে। পিঠাপুলির অনেক রকমের পিঠা বানিয়ে বসে আছে। মোআলীরা মধু নিয়ে বসে আছে। অনেকেই দেখি বিভিন্ন ধরনের লটারি দোকান দিয়েছে। ওই গ্রামে মেলায় যেন এক হই হুল্লোড় লেগে গেল। সময় গুলো অনেক ভাল লাগছিল।
এখন আমরা কিছু কিনব এ নিয়ে কিছু ভাবতেছি। অবশেষে আইসক্রিম দোকানের দিকে চলে গেলাম। আমরা তিন বন্ধু তিনটি আইসক্রিম কিনে নিলাম পাঁচ টাকা পাঁচ টাকা করে তিনটা 15 টাকা। এবার গেলুম আচার দোকানে 10 টাকার আচার কিনে খাওয়া শুরু করলাম অনেক ভাল লাগছিল আচারে মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে মনে হচ্ছে এরকম আচার আর কখনো খাইনি আমরা আচার গুলো অনেক ধরনের লাল কালো ছিল। ওদিকে দেখতেছি কেউ মোরব্বা দোকান নিয়ে বসে আছে। তারা মোরব্বা বুঝবেননা মোরব্বা হল আম দিয়ে বানানো এক মিষ্টান্ন জিনিস। এগুলো বেশিরভাগ মেলায় পাওয়া যায়। গ্রামীণ মেলায় এ মোরব্বার কদর রয়েছে। মিষ্টি দোকানে দেখি মিষ্টি ওয়ালারা চিনি পুড়িয়ে জিলাপি বানাচ্ছে। একের পর এক মানুষ দলবেঁধে এসে তাদের থেকে জিলাপী কিনে নিচ্ছে। আমরা তা দেখে আর মুখ সামলাইতে পারলাম না। আমরাও এক প্যাকেট জিলাপি কিনে নিলাম। জিলেপি দোকানের সামনে একটি টেবিল ছিল ওই টেবিলে বসে আমরা জিলিপি খাওয়া শুরু করলাম। জিলাপি গুলো অনেক ভালই লাগছিল। একটু সামনের দিকে নজর দিয়ে দেখি হাইটা দেখি সিংগারা পুরি দোকান। সিঙ্গারার দোকানে গরম তেলে সিঙ্গারা বাজাচ্ছে সিঙ্গারা ওয়ালা রা। তিনজনে ছয়টা সিঙ্গারা কিনে নিলাম। একটা টেবিলে বসে খাওয়া শুরু করলাম অনেক ভাল লাগছিল। তারপর চা দোকান থেকে চা খেয়ে নিলাম।
মেলার এক দিক দিয়ে যেরকম খাবারের দোকান অপর দিক দিয়ে বাচ্চাদের দুষ্টুমি করার জন্য বিভিন্ন দোকান উঠেছে নাগরদোলা দোকান নৌকা দোকান আরো অনেক দোকান আছে। আমরা ওই সময় মোটামুটি বাচ্চা ছিলাম। আমাদের অনেক ইচ্ছে ছিল আমরা আমরা নাগরদোলায় চড়বো। ঠিক তাই হলো আমরা জনপ্রতি 10 টাকা করে জমা দিয়ে নাগরদোলায় উঠলাম। নাগরদোলা পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরে নাগরদোলা চালু করা হলো। এক ভয় লাগছিল যখন নাগরদোলা গুরাচ্ছিলো।
এভাবে শেষ হলো আমাদের পহেলা বৈশাখ। এসো হে বৈশাখ এসো হে এসো।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)