জীবনে বড় হতে গেলে তিনটা জিনিসের প্রয়োজন সাহস সাহস আর একটু বেশি সাহস

S
sabus

আসালামুআলাইকুম"

আজকে আমি এমন একজনের সম্পর্কে বলব তার হাত পা নেই কিন্তু সাফল্যের আকাশ ছুঁয়েছে।

কথায় বলে নিজেকে বড় করতে গেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা সবার আগে দরকার। কারণ পায়ের তলার মাটি যদি শক্ত না হয়। তাহলে নাকি আকাশ ছোঁয়া যায় না সাফল্য পাওয়া যায় না কিন্তু তার জন্ম থেকেই দুইটা পা নেই হাত নেই। সে মানুষ কী জীবনে বড় হতে পারবে না ছুঁতে পারবে না সাফল্যর আকাশ।

 আজ হাত-পা হীন এক মানুষের গল্প বলবো।

যিনি জন্মের পর থেকেই প্রতিবন্ধীকতার সাথে লড়াই করে আর সাফল্যর শৃঙ্গ জয় করেছেন। তার জন্ম হয়েছিল শরীরে টেট্র্যা আ্যমিলিয়া নামক এক ভয়ংকর রোগ কে সঙ্গে নিয়ে। ফলে মাতৃগর্ভে তার হাত-পার কোন কিছুর বিকাশ ঘটেনি। হাসপাতালের বেডে হাত পা হীন নিজের সন্তানকে দেখে জ্ঞান হারিয়েছিলেন তার বাবা।

তার মা সন্তান কিভাবে জন্ম গ্রহন দেখে এতটাই দুঃখ পেয়েছিল যে প্রথম এক মাস তার সন্তানকে নিজের কোলে পর্যন্ত নিতে চাননি। তারপর তারা বুঝতে পারলেন সৃষ্টিকর্তা তাদের সন্তানকে যেভাবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এভাবেই তাকে বড় করতে হবে এবং ছোট্ট শিশুটির এমন প্রতিবন্ধকতা তাদের মেনে নিতেই হবে বাবা মা মেনে নিল মেনে নিলোনা সমাজ ।

তিনি যখন স্কুলে ভর্তি হলেন প্রতিদিন তারে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগলো তার সহপাঠীরা। কেউ ব্যাগ ফেলে দিত কেউ মাথায় চাটি মারত।

এভাবেই ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদ গ্যাস করে বসল অল্প বয়সে। তিনি ভাবতে শুরু করলেন জীবনে তার সাথে কখনো ভাল কিছু হবে না।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন স্কুলে এক একটা দিন এত খারাপ যেত যে বাড়ি ফিরে মনে হতো এভাবে বেঁচে থাকার কোন মানে নেই আমার দ্বারা জীবনে ভালো কিছু হবে না যে হাঁটাচলা করতে পারে না। নিজের খাবারটুকু নিজে খেতে পারে না তার জীবনে কোনো মূল্যই নেই।

কখনো কখনো মনে হয় নিজেকে শেষ করে দেই।

কিন্তু তখনই মা-বাবার হাউমাউ করে কান্না মুখটা মনে পড়তো আমি ছাড়া তো তাদের কেউ ছিলনা। ভাগ্যিস তখন ভুল কিছু করিনি।

এভাবেই 17 বছর বয়স অবধি এক টানা জীবনের সাথে লড়াই করার পর।

হঠাৎ একদিন ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিন থেকে স্টিফেন হকিং এক বিজ্ঞানির সম্পর্কে জানতে পারেন। বুঝতে পারেন একটা হুইলচেয়ারে বসে। শুধুমাত্র তার মাথাকে কাজে লাগিয়ে স্টিফেন হকিং কিভাবে বিজ্ঞানে তার অবদান রেখে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। আর ওই ম্যাগাজিন টা বদলে দিলো তার জীবন।

মাত্র 18 বছর বয়সে তিনি খুলে বললেন লাইফ উইদাউট লিম্বস নামে একটি এনজিও। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে শুরু করলেন মোটিভেশনাল স্পিচ দেওয়া। এবং বছর দুই এর মধ্যে হাত পা হিন মানুষ হয়ে উঠলেন লক্ষ লক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষের অনুপ্রেরণা।

নিক ভূজিসিক নামের মোটিভেশনাল স্পিকার ইতিমধ্যে দুইটা ছবি করেছেন সাফল্যের সাথে 2টা টিপি সো সঞ্চালনা করেছেন মূখ সঞ্চালনা হিসাবে। এ ছাড়া 800 বেশি সেমিনারে অল্প বলে ভালো থাকতে শিখে গেছে। 

2011 সালে এমনি এক সেমিনারে এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয় তার । 2012 সালে তিনি বিয়ে করেন সেই মেয়ে কে।

বর্তমানে হাত পা হীন চারটি সুন্দর সুস্থ সবল সন্তানের গর্বিত বাবা।

নিক পৃথিবী কে দেখিয়ে দিয়েছেন জীবনে বড় হতে গেলে শুধু ইচ্ছা শক্তি আর মনোবল থাকলেই চলে।

জীবনে বড় হতে গেলে তিনটা জিনিসের প্রয়োজন সাহস সাহস আরও একটু বেশি সাহস।

আপনাদের গল্পটা কেমন লাগলো আশা করি অনেক ভাল লাগছে আসলে নিক ভূজিসিক হাত-পা হীন মানুষ হয়ে সাফল্যর আকাশ ছুঁয়েছে।

আর আমরা হাত পা নিয়ে কেন সফলতার আকাশ ছোঁয়াতে পারবো না। অবশ্যই পারবো সেজন্য আমাদের সাহস আর মানবল‌ এর দরকার। আজ‌ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সবাই।

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)