আমরা সকলেই জানি সঞ্চয়ী হওয়া নিঃস্বন্দেহে অনেক ভালো একটি গুণ। কিন্তু কেন জানি আমরা অনেকেই সঞ্চয়ী বিমুখ। কাজের সুবাদে আমি সঞ্চয়ী হওয়া এবং না হওয়ার বিভিন্ন দিক খুঁজে পেয়েছি।
আবার সঞ্চয়ী হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে তিন ধরনের উদাহরণ খুঁজে পেয়েছি। প্রথমটি হলো সঞ্চয়ী মানুষ, দ্বিতীয়টি হলো অতিরিক্ত সঞ্চয়ী মানুষ, তৃতীয়টি হলো সঞ্চয়ী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে এমন মানুষ।
যারা সঞ্চয়ী তারা নিঃস্বন্দেহে সচেতন মানুষ। কেননা তারা জানে আমার আজকের সঞ্চয় আগামীর শক্তি ও সমৃদ্ধি। বিপদ কখনো বলে কয়ে আসে না। যেকোন সময় বিপদ আসতে পারে।
আর বিপদকে মোকাবেলা করতে শক্তি, সাহস আর অর্থ এই তিনটি জিনিসের দরকার হয়। শক্তি আর সাহস তো অর্জন করাই যায় কিন্তু অর্থ, পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করতে হয়।
আর এই অর্থ সবগুলো খরচ না করে কিছু কিছু করে সঞ্চয় করতে হয় যাতে যেকোন সময় কোন বিপদ আপদ আসলে সহজেই সেই বিপদ মোকাবেলা করা যায়।
তাছাড়াও অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হতে হলে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সঞ্চয়ী হবার প্রবণতাও নিজের মধ্যে রাখতে হবে।
অনেকেই আছেন আবার অতিরিক্ত সঞ্চয়ী। অর্থ বা টাকা পয়সা যেন খরচ করতেই চায় না। তাদের ধারণা অর্থ খরচ করলেই ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু আমার হাতে থাকলে বা সঞ্চয় করলে খরচ হবে না। কিন্তু এটা একটি ভুল ধারণা।
কেননা স্বাভাবিক জীবনে যতটা দরকার ঠিক ততটাই খরচ করতে হবে। কেউ যদি সঞ্চয়ী হওয়ার উদ্দেশ্যে সবসময় কম খাওয়ার চেষ্টা করে, বেশি পরিশ্রম করে, কম ঘুমায়, মন্দ পরিবেশে থাকে তাহলে সেই সঞ্চয় কিন্তু একদিন কোন কাজেই আসবে না।
কেননা স্বাভাবিকের থেকে সবকিছু কম করলে এবং মন্দ পরিবেশে বসবাস করলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে। তাই বুদ্ধিমান লোকেরা স্বাভাবিক ভাবেই সবকিছু করে থাকে।
একদল লোক আছেন তারা আবার সঞ্চয় না করে শুধু সঞ্চয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু কাজের বেলায় দেখা যায় তাদের কোন সঞ্চয় নেই। তারা মনে করেন যে হ্যা সত্যি সঞ্চয় করা তো উচিত।
ভবিষ্যতে সঞ্চয়কৃত সম্পদ বা অর্থ অনেক কাজে আসবে। তারা মুখে স্বীকার করে ঠিক কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ ঘটায় না। এটিও মূলত সচেতন ব্যক্তির কাজ নয়।
যেদিন আপনাকে দেখার মতো আর কেউ থাকবেন না, আপনি অবসর জীবনে পদার্পন করবেন সেদিন কিন্তু এই সঞ্চয়কৃত স্টিম আপনার যাবতীয় অভাব পূরণ করবে।
তাই আসুন বন্ধুরা সকলেই সঞ্চয়ী হই। যতটুকু পারি সঞ্চয় করি। অযাথা খরচগুলো কমিয়ে দেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করি। তাদের জন্য যেন কিছু হলেও রেখে যেতে পারি। আমরা যেদিন আর এই দুনিয়ায় থাকবো না, সেদিন যেন তারা বলতে না পারে আমার বাবা কিংবা মা আমার জন্য কিছুই রাখেনি।
আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।

