কষ্ট তখনই হয় 😭😭যখন কাছের কেউ হঠাৎ করে না ফেরার দেশে চলে যায়😭😭

S
sabus

সালামুআলাইকুম আশা করি সবাই ভালো আছেন আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি

১১ আগস্ট ২০১৯

আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। এসএসসি পরীক্ষার্থী আমার ছোট ভাই নয়ন সেদিন আকস্মিকভাবে পরপার হয়েছে। আজ দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেল কিন্তু তার প্রতিটি কথা, স্মৃতি এতটুকু ম্লান হয়নি। একমুহূর্তের জন্য তার স্মৃতি কল্পনার কল্পনার আড়াল হয়না। 

সে বছর ১২ আগস্ট কোরবানির ঈদ ছিল। ১০ আগস্ট নয়নকে ঈদের জামা কাপড় কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল, আমাকে বলেছিল আমি কাল যাব। পরেরদিন অর্থাৎ ১১ তারিখ সকালে সে মার্কেটে যাবে বলে রেডি হয়ে আমার দাদির সাথে ভাত খায়। তারপর মাকে বলে যায় যে ওর বন্ধুর বাড়িতে সাইকেলটা পৌঁছে দিয়েই শহরে যাবে। কে জানে এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া হবে।

আমি ছিলাম মামার বাড়িতে, সকাল ৯ টার একটু পরে ফোনে কল আসলো, জানলাম নয়ন ওর বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ইলেক্ট্রিক শকে অচেতন হয়েছে, তারা হাসপাতালে নিয়েছে। খুব দ্রুত হাসপাতালে গিয়েই জানতে পারি আমার আদরের ছোট ভাই আল্লাহ্ তায়ালার মেহমান হয়েছে।  

ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ঢুকে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় নয়নকে দেখি। আমি আর মামা কোনভাবেই সহ্য করতে পারছিলাম না। হাতে ঘড়ি, টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরিহিত আমার নয়নের সেই অবয়ব দেখে বোঝার উপায় ছিলনা মাত্র কয়েক মিনিট আগেই সে পরপারের যাত্রী হয়েছে। ওকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে কত চেষ্টা করেছি একটাবার ওর সাথে কথা বলবো বলে। বারবার মনে হচ্ছিল ঘুমিয়েছে একটু পরই জাগবে হয়তো। কিন্তু আর জাগেনি, আমাকে এত বড় নিঃস্ব করে চলে গেল। হাসপাতালের ওয়ার্ডের সেই স্মৃতি যতবারই মনে পড়ে কলিজাটা ছিড়ে যায় আমার। নয়নের এমন আকস্মিক প্রয়াণে গ্রামের সবাই শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

নয়নকে এক বছর বয়সী রেখে আমার আন্টি পরপারে চলে যায়৷ তারপর থেকে ও আমার তাঁতি আদর স্নেহে বড় হয়। ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে। অনেক যত্নে গড়া, হৃদয়ের মণিকোঠায় পুষে রাখা প্রিয় বস্তু ছিল সে আমার। ভাই বোন এমনকি আত্নীয়দের মাঝে সে ছিল আমার সবচেয়ে আদরের। গত দুই বছরে নিজেকে কতভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার শূন্যতা পূরণ হবার নয়। 

নয়ন চলে যাওয়ার পর বছর না ঘুরতেই ৪ মে ২০২০ ইং তারিখে আমার দাদা অসুস্থতা জনিত কারণে ইহকালের মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিয়েছেন। একের পর এক শোকে এত কম বয়সে আমি এত নিষ্ঠুরতম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আছি। স্বজন হারানোর এই প্রকট ব্যথা প্রতি মুহূর্তে আমাকে ছোবল দিয়ে যায়।

যে সময়টাতে পড়াশুনা শেষে ছোটখাট চাকরি করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাসিখুশি থাকার কথা সেই সময়ে আমার বাড়িতে শুনশান নীরবতা। কিছু একটা হলেই শুধুই ওর কথা মনে পড়ে। ঈদ বা অন্য কোন আয়োজনের আমেজ আর থাকেনা আমার বাড়িতে।ঈদের দিন গুলোতে আরও বেশি মুহ্যমান থাকে। শুধুই বিলাপ করে, আজ তাঁরা থাকলে এটা করতো ওটা করতো।  

কিন্তু এই ধরার নিয়ম যে এমনই, সবাইকে সেই একই পথের যাত্রী হতেই হবে।

সবসময়ই আল্লাহ্ তায়ালার কাছে দোয়া করি যেন আমার দাদা এবং ছোট ভাই জান্নাতবাসী হয়। তাদের কবর যেন আলোকিত এবং প্রশস্ত হয়।

সবাইকে তুমি হেফাজত করো হে পরম দয়াময়, আমিন।

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/nMmgAEQn)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)