হিংসা কারো সাফল্যের চাবি হতে পারে না

S
sabus
অন্যরা তোমাকে দেখে কী ভাবছে সেটা ইম্পর্টেন্ট নয় তুমি নিজে তোমাকে নিয়ে কি ভাবছো সেটার অর্থই সমস্ত কিছু।

 হ্যালো ফ্রেন্ডস আজ আমি আপনাদের কে যে গল্প শোনাবো সেটার মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকেই অনেক বড় একটি শিক্ষা পাবো আর এই শিক্ষাটি আমাদের বর্তমান জীবনে খুবই প্রয়োজন।

 একবার একটি পার্কে ভীষণ গরিব একটি ছেলে পার্কের এদিকে ওদিকে ঘুরে বেড়াতে থাকে। তার জামা কাপড় ছেঁড়া জুতো ছেঁড়া এক কথায় ভীষণ খারাপ অবস্থা তার এভাবে উদাস মনে ঘুরতে ঘুরতে সে ওই পার্কের একটি খালি বেঞ্চে বসে পড়ে আর তার এ রকম অবস্থার জন্য ঈশ্বরকে দোষী করতে থাকে। তারপর একটু সামনের দিকে তাকাতেই একটু দূরে সে তারই মত আরো একটি ছেলেকে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে। তার জামাকাপড় খুব সুন্দর খুব সুন্দর গলায় একটি সোনার চেইন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে ছেলেটি একটি ধনী পরিবারের ছেলে আর ওই ধনী ছেলেটিকে দেখে এই গরিব ছেলেটি আরো বেশি আফসোস করতে থাকে।


 সে ভগবান কে জিজ্ঞাসা করে যে তুমি আমার সাথে এমনটা কেন করলে আমাকে কেন এত গরীব বানিয়েছো আর ওই ছেলেটিকে কেন এত ধনী বানিয়েছো। সে প্রার্থনা করতে থাকে ভগবান আমাকে ওই ছেলেটির মত একটি জীবন দাও অনেক সময় ধরে এমন প্রার্থনা করতে থাকে এবং ভীষণ মন খারাপ দিয়ে সেগুলো চাইতে থাকে আর ঈশ্বর তার কথা মেনে নেয় সে যেমনটি চেয়েছিল তাকে সেটাই বানিয়ে দেয়।

 তার পরের মুহূর্তেই সে দেখতে পায় যে সে ওই ধনী বাচ্চাটির জায়গায় বসে আছে সে নিজেকে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে যায়। ওই বাচ্চাটার গায়ের জামা কাপড় গুলো ছিল সেগুলো এখন তার গায়ে এসে গিয়েছে সেই দামী জুতো গলায় সোনার চেন এই সমস্ত দেখে সে ভীষণ খুশি হয়ে যায় আর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে থাকে।

 ধন্যবাদ ঈশ্বর তুমি আমার স্বপ্ন সত্যি করে দিয়েছো তারপর সে সামনের দিকে তাকায় সে দেখে যে সেই ধ্বনি বাচ্চাটির জায়গায় চলে গিয়েছে আর সে একদম গরিব হয়ে গিয়েছে সেই ছেঁড়াফাটা জামাকাপড় ছেঁড়াফাটা জুতো পরা কিন্তু সে একটি জিনিস লক্ষ্য করে অবাক হয়ে যায় যে ধ্বনি থেকে গরিব হয়ে যাওয়া সেই ছেলেটি তখন ভীষণ আনন্দ করছে যেন এরকম হওয়ার কারণে সে ভীষণ মাত্রায় খুশি হয়েছে। তখন সে মনে মনে ভাবতে থাকে যে ভাগ্য আমার বদলেছে গরিব থেকে ধনী আমি হয়েছি ওয়ার্ল্ডের ধনী থেকে গরিব হয়ে গিয়েছে তাহলে কেন এত আনন্দ করছে এত খুশি হচ্ছে এর কারণ সে কিছুই বুঝতে পারে না।


 তারপর কিছু সময় পরে সে ওই বেঞ্চ থেকে উঠতে চাই কিন্তু উঠতেই পারে না সে অনেক চেষ্টা করে চেষ্টা করে কিন্তু কিছুতেই সেই বেঞ্চ থেকে এসে উঠতে পারে না এরপর সে দেখে যে পাশ দিয়ে একজন হুইল চেয়ার নিয়ে তার দিকেই এগিয়ে আসছে তখন সে বুঝতে পারে যে আগের ওই ধ্বনি বাচ্চাটি সে আসলে প্যারালাইজড ছিল। আর ধনী থেকে গরীব হওয়ার পরও তার এত আনন্দ খুশি হওয়ার কারনটা হল তার পা এখন ঠিক হয়েছে কারন সে এখন তার জায়গায় চলে গিয়েছে আর তার জায়গায় সে চলে এসেছে।


 এই একটি মাত্র ভুলের কারণে অন্যকে দেখে তার মত হওয়ার প্রার্থনা করে সে এখন সারা জীবনের মতো প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছে তাকে এই হুইলচেয়ার এই জীবন কাটাতে হবে।


 তো বন্ধুরা এই গল্পটি থেকে আমরা এটাই শিখতে পারি যে আমাদের জীবনেও এরকমটাই হয় আমরা নিজেরা যে কাজটি করি না কেন সেটা কে ছেড়ে অন্যদের কাছ থেকে দেখে ভাবি যে কি খুশি তে আছে। সে আমার থেকে তার কাজটি সবথেকে ভালো সে খুব লাকি কিন্তু আমরা তার সম্পূর্ণ কাহিনীটি জানি না। সেই জন্য অন্যদেরকে দেখে সাথে সাথে এরকম প্রভাবিত হয়ে যেও না। যে তার জীবনটা খুব ভালো আর আমার জীবনে একদম বেকার কিংবা তুমি যে কাজটা করছো সেটা একদম বেকার কাজ ও যে কাজটা করছে সেটা দেখো কত সুন্দর ওর কাজটা কি দারুন এরকমই যারা ব্যবসা করে তারা চাকরিজীবীদের দেখে ভাবে যে বাহ কি দারুন এর জীবন করুক আর না করুক মাসে এত টাকা করে ফিক্স তো রাস্তায় থাকবে আবার চাকরিজীবীরা ব্যবসায়ীদেরকে দেখে ভাবে যে আজ তো আমার কাজে যেতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু দেখো তবু যেতে হচ্ছে আরো কি মজা তে আছে। যখন ইচ্ছা তখন কাজে যায় ইচ্ছা না থাকলে কাজে নাও যেতে পারে। কর্মচারীরা এই সমস্ত কাজ করে দেয় দিব্যি ব্যবসা চলে যাচ্ছে ব্যবসা করার এটাই তো মজা। চাকরিতে কোন মজা নেই।



 বন্ধুরা এই ভাবে ভাবনা-চিন্তা করে কখনই আগে এগোনো যায় না তুমি যে কাজটা করছো সেটা নিয়েই ভাবনা চিন্তা করো সেটা আগে এগিয়ে নিয়ে যাও নাকি অন্যদেরকে দেখে প্রভাবিত হয়ে তার মতো হওয়ার চেষ্টা করো। তার কাজটি করার চেষ্টা করো তোমার নিজের কাজটিতে নিজের জীবনকে উন্নত হয়ে দেখাও। সেই জীবনের সেই কাজটিতেই তুমি আসল মজা পাবে। 



আশা করি আজকের গল্পটা থেকে আপনারা অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন সবাই ভাল থাকবেন ধন্যবাদ

Comments