মোহাম্মদ রুহুল আমিন
আসসালামু আলাইকুম।
প্রথমে এই প্লাটফর্মের সবাই আমার ভালোবাসা নিবেন। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো নোয়াখালী জেলার গুনীজন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন সম্পর্কে।
১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। মোহাম্মদ রুহুল আমিনের পিতা নাম আজহার পাটোয়ারী এবং মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মায়ের নাম জোলেখা খাতুন। আজহার পাটোয়ারী ও জোলেখা খাতুন দম্পতির ছিলো মোট ছয়টি সন্তান। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ছিলেন বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাঘচাপড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন এবং পরবর্তীতে আমিষাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এসএসসি পাশ করেন। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগদান করেন। মোহাম্মদ রুহুল আমিন নৌবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য আরব সাগরে মধ্যে অবস্থিত পাকিস্তানি নৌঘাঁটিতে যোগ দেন। প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর মোহাম্মদ রুহুল আমিন সেখান থেকে পি.এন.এস. যোগদান করেন এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষ করেন। পি.এন.এস. কোর্স সমাপ্ত করার পর মোহাম্মদ রুহুল আমিন আর্টিফিসার পদে নিযুক্ত হন। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের এপ্রিলে ঘাঁটি থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে যান। বাড়িতে গিয়ে ছাত্র, যুবকদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেন। কিছুদিন পর মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে আগরতলা যান এবং সেখানে মেজর শফিউল্লাহর অধীনে ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং এই সেক্টরের অধীন থেকে বিভিন্ন স্থলযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তানি ৩ টা হেলিকপ্টার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের জাহাজে হামলা করে ও তিনি ও হামলা চালান। একসময় বোমার আঘাতে তার ডান হাত উড়ে যায় এবং তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রচুর প্রশিক্ষণ থাকায় কোনো মতে নদীর কিনারায় উঠে আসেন তিনি। পরে নদীর ধারে থাকা রাজাকারদের হাতে শহীদ হন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মৃতদেহ বেশকিছুদিন সেখানে পড়ে ছিলো অযত্নে, অবহেলায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারণ রূপসা নদীর পাড়ে তাকে দাফন করে এবং সেখান একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যে সাতজন বীর সন্তানকে মরণোত্তর বীর শ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে রুহুল আমিন সেই সাতজনের একজন ছিলেন। রো রো ফেরির নামকরণ করা হয়েছে বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে। মোহাম্মদ রুহুল আমিনের গ্রামের নাম পরিবর্তন করে এখন রাখা হয়েছে আমিননগর৷ বাড়ির সম্মুখে তার পরিবারের দেয়া ২০ শতাংশ জমিতে সরকারী উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার৷ চট্টগ্রামে তার নামে বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। মোহাম্মদ রুহুল আমিনের নামে অনেক পুরস্কারও প্রচলিত রয়েছে।
আশা করি আমার লিখাটা আপনাদের অনেক অনেক ভালো লাগবে। আরো নতুন নতুন লিখা পেতে আমার সাথেই থাকুন।
কষ্ট করে পুরোটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।❤️❤️🥀🥀


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)