আসসালামুয়ালাইকুম,
সুপ্রিয় আমার ভাই ও বোনেরা জীবনে চলার পথে আমরা কত কিছুই না জেনেছি-শুনেছি এমনকি দেখেছি । এর মধ্যে সর্বোত্তম শুনা ও জানার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শুনা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহা মানব হুজুরে আকরাম হযরত মুহাম্মদ (সা.) যিনি পৃথিবীর বুকে তুলে ধরেছেন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহের ধ্বনি । যা দুনিয়ার বুকে শ্রেষ্ঠ ধ্বনির মর্যাদা লাভ করে।
আমার নবীর সম্পর্কে যতই বলবো কখনো শেষ করতে পারবো না কেননা তিনি তো সম্পুর্ণ কুরআনের ব্যাখ্যা । কুরআনের প্রকৃত অর্থে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা ওলামায়েকেরামরাও জানে না । এমন এমন কিছু শব্দ আছে যার অর্থ আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কেও সেইসবের অর্থ বিশ্লেষণ করতে পারবে না। যাই হোক আমরা অন্যদিকে না যাই আমাদের মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করি।
আমরা আল্লাহর হাবীবের কিছু উক্তি আজকে জানবো যা আমরা জানি কিন্তু ভুলে যাই জীবনের ব্যস্ততার কারণে। আমি নিচে তুলে ধরলাম -
- জান্নাতের চাবি হলো – ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই’ এ সাক্ষ্য দেয়া। (আহমদ শরিফে)
এখানে উল্লেখ্য যে ইলাহ মানে - সৃষ্টিকর্তা, হুকুমদাতা,রিজিকদাতা,উপাস্য, পালনকর্তা, আশ্রয়দাতা এবং প্রাথণা শ্রবণকারী। - আল্লাহ তা'য়ালা সুন্দর তাই তিনি সৌন্দর্যকেই পছন্দ করেন । ( সহিহ মুসলিম)
এখানে সৌন্দর্য্য বলতে বুঝানো হয়েছে পবিত্রতা বা পরিচ্ছন্নতা । মানে এমন ইবাদত যার মধ্যে সৌন্দর্য্যতা রয়েছে। - বলো - আমি একমাত্র আল্লাহর উপরই ঈমান এনেছি,অতপর এ কথার উপর অটল থাকা। (সহিহ মুসলিম)
- নামাজ বেহেশতের চাবি । (আহমদ)
- নামাজ হলো "নুর" । (সহিহ মুসলিম)
- সালাত মুমিনদের মি'রাজ । (মিশকাত)
মি'রাজ মানে হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। - কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। (তাবরানী)
- যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য নামাজ পরলো সে যেনো শিরক করলো। (আহমদ)
- আল্লাহর পথে একটি সকাল কিংবা একটি সন্ধ্যা ব্যয় করা গোটা পৃথিবী এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের চেয়ে উত্তম। (সহীহ বুখারী)
- যে লড়ে যায় আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্যে সেই আল্লাহর পথে ( জিহাদ করে )। (সহীহ বুখারী)
- সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। (সহীহ মুসলিম)
- যে আল্লাহর কিতাবের পথ ধরে সে দুনিয়াতে বিপথগামী হয়না এবং পরকালে হয়না দুর্ভাগা। (মিশকাত)
- সর্বোত্তম জীবন পদ্ধতি হচ্ছে মুহাম্মদ সাঃ প্রদর্শিত পদ্ধতি। (সহীহ মুসলিম)
- সকল কাজ নির্ভর করে নিয়্যতের উপর।(সহীহ বুখারী)
- প্রত্যেক ব্যক্তি তার কাজের সেই ফলই পাবে,যা সে নিয়্যত করেছে।[সহীহ বুখারী)
- ঈমানের পূর্ণতা লাভকারী মুমিন তারা,যাদের নৈতিক চরিত্র সর্বোত্তম।[মিশকাত)
-
দীন হলো – কল্যাণ কামনা। (সহীহ মুসলিম)
দীন ইসলামের মূল কথা হলো, নিজের এবং সকল মানুষের দুনিয়াবী ও পরকালীন কল্যাণ চাওয়া।
- আল্লাহকে ভয় করো, তাতেই সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হতে পারবে।(মিশকাত)
- দুনিয়া মুমিনের জন্যে কারাগার আর কাফিরের বেহেশত। (সহীহ মুসলিম)
- পৃথিবীতে মসজিদগুলোই আল্লাহর সবচাইতে প্রিয় জায়গা। (সহীহ মুসলিম)
- যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। (ইবনে মাজাহ)
- জ্ঞানীরা নবীদের উত্তরাধিকারী। (তিরমিযী)
- জ্ঞানবান আর দুনিয়াদার সমান নয়। (দারেমী)
- সুধারণা করা একটি ইবাদত। (আহমদ)
- যুলম করা থেকে বিরত থাকা। কেননা, কিয়ামতের দিন যুলম অন্ধকারের রূপ নেবে। (সহীহ মুসলিম)
- মযলুমের ফরিয়াদ থেকে আত্মরক্ষা করো। (সহীহ বুখারী)
- মুসলমান মুসলমানের ভাই। (সহীহ বুখারী)
- মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ভাইয়ের প্রতি যুলম করেনা এবং তাকে অপমানিতও করেনা। (সহীহ মুসলিম)
- যে তোমার সাথে বিশ্বাস ভংগ করেছে, তুমি তার সাথে বিশ্বাস ভংগ করোনা। [তিরমিযী)
- যে নেতার আনুগত্য করলো, সে আমারই আনুগত্য করলো। (সহীহ বুখারী)
এখানে নেতা বলতে ঈমাম/ একজন সৎ আল্লাহ ওয়ালা কে বুঝানো হয়েছে। - দান হচ্ছে একটি প্রমাণ। (সহীহ মুসলিম)
- যে আল্লাহর পথে একটি দান করে, আল্লাহ তার জন্যে সাতশ ; গুণ লিখে দেন। (তিরমিযী)
- যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেনো উত্তম কথা বলে। (সহীহ বুখারী)
- তোমার ভাইয়ের দিকে হাসি মুখে তাকানো একটি দান।(তিরমিযী)।
- যে আল্লাহকে ভয় করে, তার ধনী হওয়াতে দোষ নেই। (মিশকাত)
- সত্য দেয় মনের শান্তি আর মিথ্যা দেয় সংশয়। (তিরমিযী)
- যার দুটি দিন সমান গেলো, সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (দায়লমী)
ব্যাখ্যাঃ হাদীসটির মর্ম হলো, যে ব্যক্তি প্রতিদিন নিজেকে আগের দিনের চেয়ে এক ধাপ উন্নত কতে পারেনা, কিছুটা এগিয়ে নিতে পারেনা, সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিছিয়ে পড়ে। - তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ তারা, যাদের দেখলে আল্লাহর ক��া স্মরণ হয়। (ইবনে মাজাহ)
- ডান হাতে খাও এবং যা নিকটে তা থেকে খাও। (সহীহ বুখারী)
- মুসলমান সে, যে নিজের অনিষ্টকর ভাষা ও কর্ম থেকে মুসলমানদের নিরাপদ রাখে। (সহীহ বুখারী)
- মুসলমানের জন্যে মুসলমানের রক্তপাত করা এবং সম্পদ ও ইজ্জত নষ্ট করা হারাম।(সহীহ মুসলিম)
- যে খেয়ে শোক আদায় করে, সে ধৈর্যশীল রোযাদারের সমতূল্য। (তিরমিযী)
- যে কাউকেও প্রতারণা করলো সে আমার লোক নয়। (সহীহ মুসলিম)
- সাবধান! তোমরা হিংসা করা থেকে আত্মরক্ষা করো। (আবু দাউদ)
- তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করোনা, ঘৃণা বিদ্বেষ কারো না এবং পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়োনা। (সহীহ মুসলিম)
- তোমাদের মাঝে উত্তম লোক সে, যে তার পরিবার পরিজনের কাছে উত্তম। (ইবনে মাজাহ)
- রোগীর সেবা করো এবং ক্ষুধার্তকে খেতে দাও। (সহীহ বুখারী)
- আল্লাহ সকল কিছুর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখাবার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম)
- যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। (সহীহ বুখারী)
- আল্লাহ ততোক্ষণ বান্দাহর সাহায্য করেন, যতোক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে। (সহীহ মুসলিম)
- যে তার প্রভুকে স্মরণ করে, আর যে করেনা, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো। (সহীহ মুসলিম)
- যখন সাহায্য চাইবে, আল্লাহর কাছে চেয়ো। (মিশকাত)
- লজ্জা ঈমানের অংশ। (মিশকাত)
- যে তার প্রভুকে স্মরণ করে, আর যে করেনা, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো। (সহীহ মুসলিম)
- সত্য কথা বলো, যদিও তা তিক্ত। (ইবনে হিব্বান)
- প্রচেষ্টার চেয়ে বড় কোনো যুক্তি নাই। (ইবনে হিব্বান)
রাসূল (সা.) এর সারাজীবনের অনেক বাণী আছে কিছু লিপিবদ্ধ আকারে আছে আবার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের উচিত আল্লাহর হাবীবের প্রতিটা পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা যা আমদের শিক্ষা দিয়েছেন স্বর্ণ যুগের মানুষ যাদের আমরা সাহাবী নামে চিনি আর যাদের কথা মনে আসলেই (রা.) পড়ি, যাদের কারণে আজকে আমরা এত সম্মানিত পৃথিবীর বুকে। তা যদি আমার নবীর সঙ্গে না থাকতেন তাহলে হয়তো আমার নবীর ৬৩ বছরের জীবনটা অনেক কষ্টের হতো। আল্লাহ যাতে আমাকে এবং আমাদের মধ্যে যারা বাইতুল্লাহ যেতে পারিনি তাদের বাইতুল্লাহ এবং আল্লাহর হাবীবের রৌজা দেখবার তাওফিক দেন এবং সাহাবাদের কবর যিয়ারতের সুযোগ করে দেন। আমিন

