প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনকথা

R
rizoan

পর্ব-১

আসসালামুআালাইকুম।সকলে ভালো আশা করি। আজ আপনাদের সাথে প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন নিয়ে কথা বললো।লেখাটা পড়লে প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন কত কষ্টের তা বুঝতে পারবেন।আমি নিজেও বাক প্রতিবন্ধী। আমার জীবনে এমন ঘটনা অনেক দেখা যায়।

 

                প্রতিবন্ধীর প্রতিবন্ধকতা 

ছবি সূত্র

প্রতিবন্ধী ও অক্ষম মানুষেরা চিরকালই আমাদের সমাজে সুস্থ ও সবল মানুষ দ্বারা উপেক্ষিত ও অবহেলিত হয়ে আসছে। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা,তাদের সাহায্য-সহযোগিতা এবং অন্যদের থেকে তাদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিপদ-আপদে সময়মতো তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবতা ইসলামের আদেশ। প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অসদাচরণ, উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা ঠাট্টা-তামাশা করা সৃষ্টিকে তথা আল্লাহকে উপহাস করার শামিল ইসলামে উল্লেখ আছে। শারীরিক, শ্রবণ, বাক্, বুদ্ধি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের একটি অংশ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। অপর অংশ দুর্ঘটনার কারণে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হয়।আজকে আপনি সুস্থ দেখে প্রতিবন্ধী নিয়ে উপহাস করছেন, কাল কোনো দূর্ঘটনায় আপনি ও কারো উপহাস এর পার্ত হয়ে যাবেন।গর্ভাবস্থায় মায়ের দৈহিক কোনো ঘাটতি, পুষ্টিহীনতা বা অসুস্থতা, জন্মের পর বেড়ে ওঠার সময় অপুষ্টি, রোগাক্রান্ত হওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রভৃতিসহ পিতামাতার অমনোযোগ, অযত্ন ও অবহেলার কারণে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। এ সম্পর্কে আমাদের পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তুমি তোমার সুমহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, যিনি সৃষ্টি করেন ও সুঠাম করেন এবং যিনি পরিমিত বিকাশ সাধন করেন ও পথ প্রদর্শন করেন। অন্য আয়াতে আরো বলা হয়েছে, আল্লাহ্ মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা মানুষ এর আকৃতি গঠন করেন।

 

সমাজে প্রতিবন্ধী মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে মানুষকে কর্তব্যপরায়ণ ও দায়িত্বসচেতন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একজন প্রতিবন্ধী সমাজে সুস্থ-সুন্দরভাবে বিকশিত হয়, যদি দেশের অবকাঠামো ভালো হয়। ইসলাম মানুষকে হতদরিদ্র অসহায়ের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্য-সহযোগিতার শিক্ষা দেয়। প্রতিবন্ধীরা শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থসামাজিক অক্ষমতা বা অসুবিধার কারণে স্বাভাবিক ও স্বাবলম্বী জীবনযাপন করতে পারে না। প্রতিবন্ধীদের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করতে পারে সেসব ধর্মপ্রাণ সংবেদনশীল মানুষ, যাঁরা অন্যের দুঃখ-বেদনাকে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখে। এ জন্য প্রতিবন্ধীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, দয়া-মায়া, সেবা-যত্ন, সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহৃদয়তার হাত সম্প্রসারিত করা ইসলামের অনুসারীদের অবশ্যকর্তব্য।কিন্তুু এমন ব্যক্তির নজির খুব কম দেখা যায়। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও ন্যায্যপ্রাপ্য। তাই প্রতিবন্ধীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়া সকল সুস্থ মানুষের দায়িত্ব। যেমনভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তির খোঁজখবর নাও এবং বন্দীকে মুক্ত করে দাও।আশা করি কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধী জীবনের কতটা কষ্টকর বুঝতে পেরেছেন।আমি আরো ২,৩ পর্ব লিখবো এটা নিয়ে।আপনারা পড়বেন আশা করি ভালো লাগবে।

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)