পর্বঃ১
আসসালামুআালাইকুম আশা করি সকলে ভালো আছেন।।আজকে আপনাদের সাথে আমার স্কুল জীবনের কিছু স্মৃতি শেয়ার করবো। সাধারনত সবাই মনে প্রতিবন্ধীদের স্কুল আলাদা হয়।কিন্তুু আমি সাধারন জেনারেল স্কুল এ লেখা পড়া করতাম।।আমি শুধু কথা বলতে পারি না বাক প্রতিবন্ধী। তা ছাড়া আমি সাধারন মানুষের মতোই।আমি একজন সুস্থ মানুষের মতোই পাঠ্য জীবন শুরু করি।আশা আমার স্কুল জীবনের স্মৃতি শুনলে আপনাদের ভালো লাগবে।
আমার পাঠ্যজীবন
আমাকে ২০০৬ সালে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেওয়া হয়।সবার মতো স্কুল ভর্তি করার আগে আমাকে বেসিক কিছু শেখানো হয় ক,খ,A,B,C,D,1,2 এসব কিছু শেখানো হয়।আমাদের সুস্থ সমাজের শিক্ষিত মানুষেরা মনে করেন বাক প্রতিবন্ধী মানুষ কানে ও শুনতে পারে না।যেমন প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর ক্লাসের একটা মেড্যাম বলেছিল প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা স্কুল আছে এসব কালা বোবা ছেলেরাই সব আমার কপালে জুটে।ম্যাডাম তখন জানত না ২০% বাক প্রতিবন্ধীর ন্যায় আমি সব কথাই শুনতে পারি।বাকপ্রতিবন্ধীদের ৮০ শতাংশ কানে শুনতে পারে না। ম্যাডাম এর কোনো গুরুত্ব ছিল না আমার উপর।। পড়াইতো ক্লাসে, বাড়ির কাজ দিত, আমি প্রতিদিন বাড়ির কাজ করে আনতাম। কিন্তুু কখোনো ম্যাডাম আমার বাড়ির কাজ দেখত না। আর আমি ও ম্যাডামকে ইশারা পূর্বক বুঝাই নাই যে আমি বাড়ির কাজ করে এনেছি।এভাবে চলতে চলতে একমাস পাড় হয়ে গেল।
স্কুল থেকে মাসিক পরীক্ষা নেওয়া হলো,সে পরীক্ষায় আমি প্রথম স্থান অধিকার করি।ওই ম্যাডাম তো অবাক আমি কেমনে প্রথম স্থান অধিকার করলাম।তারপর থেকে ম্যাডাম আমার প্রতি কেয়ার নিতে শুরু করলো। একদিন আমাকে এসে জিঞ্জাসা করলো তুমি কি আমার কথা শুনতে পার?আমি খাতায় লিখে উত্তর দিলাম হ্যাঁ শুনতে পারি।ম্যাডাম জিঞ্জাসা করলো এত দিন বলো নাই কেন শুনতে পার?তখন আমি কি লিখবো বুঝি নাই।আর তখন ও ভালো ভাবে লেখা শিখি নাই।তখন শুধু একটাউ কথা মনে পরতো। আমার তাড়াতাড়ি পুরো লাইন লেখা শিখতে হবে।আমি একটা একটা অক্ষর লিখতে পারতাম।কিন্তুু সব গুলো অক্ষর সাজিয়ে লাইন করে লিখতে পারতাম না।একদিন বই এর প্রথম পেইজ এ আমার জাতীয় সংগীত লেখা ছিল।ম্যাডাম ওইটা পড়ছিল তখন আমি লক্ষ্য করলাম কিভাবে রিডিং পড়ে আর কি লেখা আছে।।আমি তখন ও রিডিং পড়া পারি না।ম্যাডার এর কথা গুলো আমি মুখস্ত করে ফেলালাম। তারপর জাতীয় সংগীত দেখতাম আর ভাবতাম ম্যাডাম যা বললো ওইগুলো এখানে লেখা আছে।আ+ম+া+র এভাবে আমার হয়।এভাবেই আমি আমার মুখস্ত করা লাইন গুলো রিডিং পরতে পারি। পরতে পারি মনে মনে বলতে পারি।এভাবেই আমি রিডিং পরা শিখে ফেললাম আর লেখা ও শিখে ফেললাম।কেউ কোনো কথা জিঞ্জাসা করলে লেখে উত্তর দেওয়া শুরু করলাম।তখন আমার সাথে যারা পড়তো কেউই রিডিং পড়তে পারে না। তাই তাদের লিখে দেওয়া উত্তর টাও তারা বুঝতো না।ওই গুলো লেখা ম্যাডাম পড়ে শুনাতো আমার অন্য বন্ধুদের।ক্লাস এর মধ্যে সবার কাছে প্রিয় হয়ে উৎলাম।সবাই মুখে মুখে কথা বলতে পারতো। আমি ও কথা বলতে পারতাম কিন্তুু লিখে লিখে।আমার শিক্ষা জীবনের শুরু টা কিছুটা এধরনেরই ছিল।কিছুটা মনে ছিল।আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি।আগামী পর্ব গুলো পড়লে সব টুকু জানতে পারবেন।একদিনে তো পাঠ্য জীবন লিখে শেষ করা যাবেনা। আপনাদের অনুরোধ করছি বাকি পর্ব গুলো পড়বেন তাহলে আমার পুরো পাঠ্য জীবনের ইতিহাস জানতে পারবেন।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)