পুরান ঢাকা

R
riyadx2

ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকা সর্বপ্রথম রাজধানীর মর্যাদা পায় ১৬১০ সালে। ১৬০৮ সালে মোঘলদের প্রথম পদচরন দেখা যায় এই প্রাচীন নগরীতে। সুবেদার ইসলাম খান চিশতি সম্রাট জাহাংগীরের নামে এই নগরীর নামকরন করেন জাহাংগীর নগর। বাংলার রাজধানী স্থানন্তরিত হয় জাহাংগীর নগরে। মোঘল, ব্রিটিশ, পাকিস্তান আমল পার করে আজকের বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজও ধরে রেখেছে তার পুরান ঐতিহ্য। আজও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা টিকে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে। পুরান ঢাকার এই সব ঐতিহ্য আপনাকে নিয়ে যাবে ৪০০ বছর পিছনে।

 

পুরান ঢাকায় গণপরিবহনের অবকাঠামো খুব কম রয়েছে তাই সাইকেল বা রিকশা আপনার সেরা যানবাহন। জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বুড়ি গঙ্গা নদীর সদরঘাট নদী টার্মিনাল নদী পরিবহনের একটি বড় বন্দর এবং অন্যান্য শহর থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।

 

৮০০ বছরের পুরান এই মন্দিরটি নির্মান করেন রাজা বল্লাল সেন। এইটি মূলত দূর্গা মন্দির। ঢাকার বৃহৎ যে কয়েকটি পূজা মণ্ডপ আছে ঢাকেশ্বরী মন্দির তার মধ্যে অন্যতম। জাতীয় এই মন্দিরের নামকরন হয় ঢাকার ঈশ্বরী অথাৎ ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে। উইকিপিডিয়ায় ঢাকেশ্বরী মন্দির  (হালনাগাদের তারিখ জুলাই ২০১৮)

4 লালবাগ কেল্লা। মোগল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যময় স্থানের মধ্যে অন্যতম। সম্রাট আওরঙ্গজেবের ৩য় পুত্র আযম শাহ ১৬৭৮ সালে এর নির্মান কাজ শুরু করেন। কিন্তু দূ্র্গের কাজ হাত দেবার ১বছরের মাথায় মারাঠা বিদ্রোহ শুরু হয় আওরঙ্গজেব পুত্রকে দিল্লি ডেকে পাঠান।এরপর ১৬৮০ সালে অসম্পূর্ণ কাজে হাতে দেন সুবেদার শায়েস্তা খান। এর মধ্যে ১৬৮৪ সালে শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবি মারা গেলে তিনি দুর্গ কে অপয়া মনে করে এর নির্মান কাজ স্থগিত করেন। এই পরীবিবিকে সমাহিত করা হয় দরবার হল ও মসজিদের ঠিক মাঝখানে উক্ত স্থান বর্তমানে পরিবিবির মাজার নামে পরিচিত। বর্তমান কেল্লা চত্বরে তিনটি স্থাপনা রয়েছে-কেন্দ্রস্থলের দরবার হল ও হাম্মাম খানা,পরীবিবির সমাধি,উত্তর পশ্চিমাংশের শাহী মসজিদ। এছাড়া দক্ষিণ-পূবাংশে কিছু সুদৃশ্য ফটক রয়েছে। উইকিপিডিয়ায় লালবাগের কেল্লা  (হালনাগাদের তারিখ জুলাই ২০১৮)

5 চকবাজার শাহী মসজিদ। সুবেদার শায়েস্তা খান ১৬৭৬ সালে এই মসজিদটি নির্মান করেন। বহুবার সংস্কারের ফলে এর আদিরুপটি না থাকলেও এর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। উইকিপিডিয়ায় চকবাজার শাহী মসজিদ  (হালনাগাদের তারিখ জুলাই ২০১৮)

6 বড় কাটরা। শাহজাহান পুত্র শাহ সুজার নির্দেশে ১৬৪১খ্রিস্টাব্দে বড় কাটরা নির্মান করা হয়। বর্তমানে এই স্থাপনাটি বেহাল অবস্থা। বেশির ভাগ অংশই ভূমি দস্যুর দখলে। হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা বর্তমানে এই বড় কাটরার তত্ত্বাবধানে আছে। উইকিপিডিয়ায় বড় কাটরা (হালনাগাদের তারিখ জুলাই ২০১৮)

7 আর্মেনীয় গির্জা, ৬৯৫৩। ১৭৮১ সালে নির্মিত চার্চটি ঢাকায় আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। অন্য সব ক্যাথলিক/ব্যাপ্টিস্ট চার্চ থেকে এই চার্চ সম্পূর্ণ আলাদা। এখনও আর্মেনীয়দের অবশিস্ট বংশধর এই চার্চের রক্ষনাবেক্ষন করছে। ঐতিহ্যবাহী এই চার্চের সাথে জড়িয়ে আছে ঢাকায় আর্মেনীয়দের ইতিহাস। অনুমানিক সপ্তদশ শতকের শুরুর দিকে দুই একজন করে আর্মেনীয় বণিক ঢাকায় আশা শুরু করে।ধারনা করা হয় তাদের নাম অনুসারে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নামকরন করা হয়। বিনামূল্য। উইকিপিডিয়ায় আর্মেনীয় গির্জষ হালনাগাদের তারিখ জুলাই ২০১৮)

8 তারা মসজিদ। সুন্দর স্থাপত্য শিল্পটি শুধু মাত্র দেশি বিদেশি পর্যটকদের হৃদয়ে নয়, স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের টাকায়। নয়ানিভিরাম স্থাপনাটি প্রচলিত ১০০টাকাত নোটে সচরাচর দেখা যায়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার এই স্থাপনাটি কেন্দ্র করে ৫ থেকে ৫০০টাকা সিরিজের ব্যাংক নোট মুদ্রণ করে। পুরান ঢাকার আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত স্থাপনাটি নির্মান করেন তৎকালীন ব্যবসায়ী জমিদার মির্জা গোলাম পীর। সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে। মির্জা গোলাম পীরের মৃত্যুর পর ১৯২৬ সালে মসজিদটির প্রথমবারের মত সংস্কার করা হয়। আলী জান বেপারী নামক স্থানীয় ব্যবসায়ী মসজিদটির সংস্কার করেন। তখন এই মসজিদের মোজাইকের কারুকার্যে জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয়। মোগল স্থাপত্য শৈলীর প্রভাব রয়েছে এ মসজিদে। ১৯৮৭ সালে শেষবারের মত সংস্কারের সময় মসজিদটিকে তিন গম্বুজ থেকে পাঁচ গম্বুজ করা হয়। উইকিপিডিয়ায় তারা মস হালনাগাদের তারিখ জুলাই ২০১৮)

Comments