কি তার পরিচয় এবং কত টাকার মালিক...........

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। আসসালামুয়ালাইকুম আশা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সকলেই ভাল আছেন।

বন্ধুরা,

মুকেশ আম্বানি কিংবা গৌতম আদানি নয় ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ধনী একজন মুসলিম ব্যক্তি। কিছুটা অবাক হলেও সত্য যে সর্বকালের সবচেয়ে ধনীদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে এই মুসলিম ব্যক্তির নাম। মুসলিমের ধনী ব্যক্তির নাম মীর ওসমান আলী খান। তার ধন সম্পদ এবং বিলাসিতার গল্প হার মানাবে বর্তমান বিশ্বের সেরা ধনকুবেরদের। সৌখিন ধনীরা নামিদামি পেপারওয়েট ব্যবহার করেন নিজেদের টেবিলে। তবে ভারতীয় এই ব্যক্তির টেবিলে পেপারওয়েট হিসেবে ব্যবহার করা হয় পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম হীরা। ১৮৫ ক্যারেটের এই ডায়মন্ডের বর্তমান বাজারমূল্য হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিলাসবহুল গাড়ি পছন্দ করতেন ওসমান আলী খান।তার গেরেজে শোভা পেত রোজ রয়েসসহ পৃথিবীর নামিদামি ব্র্যান্ডের ৫০ টিরও বেশি গাড়ি। তার কাছে এত বেশি মনি মুক্তা ছিল যে তা দিয়ে ভরে যেত তার সুইমিংপুল। ওসমান আলী খান ২৫ বছর বয়সে হায়দ্রাবাদের সিংহাসনে বসেন এবং হাজার ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি শাসন করেন হায়দ্রাবাদকে।

তবে তার শাসনামলে শাসক পরিচয় ছাপিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত হন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিত্তশালী হিসেবে। ১৯৩৭ সালের টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে আসে তার নাম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে। ওই সময় এক মার্কিন ডলার সমান ৩.৩ রুপি ধরে ভূ-সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ মিলে নিজামের মোট সম্পদের অর্থমূল্য ছিল ৬০৭ কোটি রুপি।এই হিসেবে ওই সময়ের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির এক শতাংশ সমান সম্পদের মালিক ছিলেন নিজাম। ওসমান আলী খানের ধনী হবার প্রথম কারণটি ছিল ভৌগোলিক। তৎকালীন সময়ে হায়দ্রাবাদ ছিল বিশ্বের একমাত্র হীরা সরবরাহকারী এলাকা। নিজের সম্পদ এর প্রধান উৎস ছিল গোলকুণ্ডা হীরের খনি গুলো। এছাড়াও হায়দ্রাবাদের মোট আয়তন ছিল ৮৬ হাজার বর্গমাইল।এই বিশাল রাজ্যের পুরোটা জুড়েই ছিল ওসমান আলী খান সপ্তম আসাফ জাহের শাসন। তাকে ডাকা হতো হায়দ্রাবাদের নিজাম মহামন্য অদিপ্রতি বা হিকজ একজোটেট হাইনোটেট হিসেবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় তার রত্নাগার এর সোনাদানা ছিল ৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ডের। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পত্তি ছিল ১৫০.৪ মিলিয়ন ডলার। বর্তমান সময়ে যা ২৩৬ বিলিয়ন ডলারের সমান। এছাড়াও নিজামের রত্নাগারে ছিল একটি বড় হীরা যেটির নাম জেকক ডায়মন্ড। রানী এলিজাবেথের বিয়েতে তিনি অডেল অলঙ্কার উপহার দিয়েছিলেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল একটি নেকলেস। যেটি হায়দ্রাবাদের নিজাম নেকলেস নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। ভারতীয় হয়েও তিনি ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্যার উপাধি পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালের  ফরস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনীদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রাখা হয়েছিল এই মুসলিম ধনীর নাম। বিশ্বের সেরা ধনী হলেও সাধারণ জীবন যাপন করতে এই হায়দ্রাবাদের নিজাম। নিজের জামাকাপড় তিনি নিজেই সেলাই করে পরিধান করতেন মাত্র। এক টাকা ভাড়ায় ভারত সরকারকে ইজারা দিয়েছিলেন নিজের ব্যক্তিগত ১৪ হাজার একর জমি। তার শাসনামলে তিনি শুধু অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন এমনটি নয় মোটেই তিনি বেশকিছু জনকল্যাণমুখী কাজ করেছিলেন। তার শাসনামলে হায়দ্রাবাদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়, রেলপথ, সড়কপথ  ও বিমান পথেরও আমূল পরিবর্তন হয়। এছাড়াও অজস্র বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট, ব্যাংক নির্মিত হয় তার শাসনামলে।বন্যা প্রতিরোধের জন্য জলাধার নির্মাণ করেন তিনি। তার এসব কাজের জন্য তাকে আধুনিক হায়দ্রাবাদের স্থপতি হিসেবেও সম্মান করা হতো। ভারতের ইতিহাসের সেরা ধনী হাজার ১৯৬৭ সালের ইহলোক ত্যাগ করেন। বিখ্যাত যুদি মসজিদে সমাহিত করা হয় তাকে। মীর ওসমান আলী খানের উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিলেন ভারত সরকার। অডেল ধন-সম্পদ ছাড়াও তিনি ১৪৯ জন সন্তানের পিতা ছিলেন।

ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, নিরাপদে থাকুন

Comments