শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। আসসালামুয়ালাইকুম আশা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে আপনারা সকলেই ভাল আছেন।
বন্ধুরা,
বিদুৎ উৎপাদনের জন্য বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বৃহৎ বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজারে। ওই অঞ্চলের বিদুতের চাহিদা মেটাতে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২২টি টারবাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে বেসরকারি উদ্যোগে। ইউএস-ডিকে গ্রিন এনার্জি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি নির্মাণ করছে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এলএনজি, কয়লা এবং জ্বালানি তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় বায়ুশক্তি পরিবেশবান্ধব এবং সস্তা। কক্সবাজারের এ প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পে ১২০ মিটার উচ্চতায় এনভিশনের ইএন ১৫৬ মডেলের ২২টি টারবাইন স্থাপন করা হবে। প্রতিটি টারবাইনের উৎপাদন ক্ষমতা ৩ দশমিক শূন্য মেগাওয়াট এবং রোটরের ব্যাস ১৫৬ মিটার। ২০২২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটির কমিশনিং করা হবে।
বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রধান ও পূর্ব শর্ত হচ্ছে বায়ু বিদ্যুৎ সম্ভাবতা যাচাই বা উইন্ড রিসোর্স অ্যাসিস্ট্যান্ট। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্রেডা কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশন ও তজুমুদ্দিন এবং কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় তিনটি মেট টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ বিভাগ বায়ুবিদ্যুৎ বিষয়ে নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কক্সবাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট 245 মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে নয়টি স্থানের তথ্য সংগ্রহ করে উন্ডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিস্টার জ্বালানি ব্যবহারের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৌরভ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ আগামী দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও গত কয়েক বছরে দেশে শুরু করা কিছু বড় প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার ফলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বৃহৎ এবং মাঝারি আকারের বায়ু চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকার আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রায় 350 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এক ডজন বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
কক্সবাজারে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বৃহত্তম 60 মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন শুরু হবে। এর আগে 2005 সালের দিকে ফেনীর সোনাগাজীতে মুহুরী নদীর বাঁধ এলাকায় দেশে প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এটি নির্মাণ করে।মুহুরী নদীর তীর ঘেসে প্রতিটি 225 কিলো ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি টারবাইন বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। স্থাপিত হওয়ার দুই বছর পর্যন্ত ওই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও পরবর্তী সাত বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে রয়েছে বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের অন্য আরেকটি বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়। 2008 সালে সেখানে পঞ্চাশটি টারবাইন বসানো হয়। প্রতিটির ক্ষমতা 20 কিলো ওয়ার্ড করে অর্থাৎ এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এক মেগাওয়াট। কক্সবাজারের নতুন প্রকল্প চালু হলে দেশে মোট ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াবে চারটি। অথচ এক দশকেরও বেশি আগে সরকার 100 মেগাওয়াট বায়ুশক্তি প্লান্ট এর জন্য দরপত্র আহবান করেছিল কিন্তু তথ্যের অভাবের কারণে এটি তেমন সাড়া পায়নি।
ধন্যবাদ আমার পোস্ট পড়ার
এবং আমার সাথে থাকার জন্য


