এটা যেনো একটা সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে  ।

rasel72



হ্যালো বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম।  সবাই কেমন আছন? আশা করি সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি৷ আজকো আবারও চলে আসলাম আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করার জন্য। আজকো আমি সামাজিক কিছু কমর্কান্ড নিয়ে আপনাকে বলার চেষ্টটা করব। যেগুলো বর্তমান সময়ে একটা নতুন রীতিতে রূপ লাভ করেছে। চলুন শুরু করি-


আমি ছোট বেলা থেকে আমার বর্তমান বয়স পর্যন্ত দেকে এসেছি গ্রামে শুধু কোনো মেয়ের বিয়ে অথবা সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠানে জন্য বাসায় সাউন্ড সিস্টেম আনা হতো। বিশেষ করে বিয়ে অনুষ্ঠানে এটা বেশি আনতে দেখা যেতে। তারপর কিছু দিন পর শুরু হলো সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠানে এই সাউন্ড সিস্টেম প্রচলণ। বর্তমান সময়ে সাউন্ড সিস্টেমের এমন একটা প্রভাব পড়েছে, এটা ছাড়া যেনো বিয়ে বা সুন্নতে খাৎনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ধনী থেকে শুরু করে গরিব এমন কি যারা দুবেলা ভালো করে খেতে পায় না তারাও তাদের বাড়ীতে বিয়ে বা সুন্নতে খাৎনার সময় এই সাউন্ড সিস্টেম এনে থাকেন। উচ্চ জোরে,  হাই বিট দিয়ে বাজানো হয় গান। যেটা মানব জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।  

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে নতুন এক ধরনের অনুষ্ঠান দেখা যাচ্ছে। এটা হলো জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন৷ আগে মানুষ শুধু বিয়ে বা সুন্নতে খাৎনার সময় অনুষ্ঠান পালন করত,  কিন্তু এখন সন্তানদের জন্মের প্রতিটা বছর পার হতে থাকলে এক বছর পর পর পালন করা হচ্ছে জন্ম দিন অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয় অনেক মানুষকে। এটা যেন আমাদের সামাজিক একটা নতু৷ রীতিতে পরিণত হয়েছে। বিয়ে অনুষ্ঠানের মতো এই জন্ম দিন অনুষ্ঠানেও আনা হয় বড় বড় সাউন্ড সিস্টেম।  যেটা শব্দ দূষণের মূল কারন হয়ে দাড়াই। দিন দিন সামাজিক সকল ক্রিয়াকলাপগুলো রূপ পরিবর্তন হচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের কমর্কান্ডের। 

আমাদের বাড়ীর পাশে একটা বাড়ীতে এভাবে সাউন্ড সিস্টেম এনে পালন করা হচ্ছে জন্মদিন অনুষ্ঠান। সাউন্ড সিস্টেমের শব্দে আমাদের বাসায় টিকে থাকায় কষ্টকর। প্রচন্ড জোরে সাউন্ড এবং বিট দিয়ে বাজানো হচ্ছে গান৷ যেটা কিনা সৃষ্টি করছে শব্দ দূষণ। এভাবে উচ্চ সাউন্ড দিয়ে গান শুনলে আমাদের শরীরের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-

১.কানে শুনতে সমস্যা হয়৷ 
২.উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়৷ 

এছাড়াও আমাদের শারীরিক আরও নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটা প্রচলন হয়ে গিয়েছে, তাই কেউ এটার বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। 

আসলে আমরা যদি সচেতন নাগরিক হতাম তাহলে হয়ত এভাবে উচ্চ স্বরে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে অন্যদের অসুবিধায় ফেলতাম না। আজ আমরা আমাদের চিন্তা ভাবনাগুলো পাল্টাতে পারি না বলেই এই ধরনের কর্মকান্ডের সাথে নিজেদেরকে জরিয়ে ফেরি। আমাদের সবার উচিত, এই ধরনের কাজ থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যকে বিরত রাখার চেষ্টটা করা৷ 

আশা করি আমার আজকের লেখাটা আপনাদের সবার কাছে ভালো লেগেছে। আমি বাস্তব সমাজের কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।  আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে। 

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য। 

Comments