আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালা অশেষ রহমতে ভালো আছি৷ আবারও হাজির হয়ে গেলাম আপনাদের সামনে আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে৷ আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার শৈশবের স্মৃতি নিয়ে আরও একটা পোষ্ট শেয়ার করতে চলেছি৷ আশা করি পোষ্টটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে৷ চলুন শুরু করি-
শৈশব, মানেই খাওয়া দাওয়া ঘুম, আর খেলাঘুলা৷ শৈশবে পড়াশুনার কথা মনে আসলেই যেনো আমাদের শরীরে ভাল্লুকের মতো জ্বর এসে যেতো। ছোট বেলা থেকেই আমি পড়াশুনায় তেমন একটা ভালো ছিলাম না৷ এজন্য স্কুল, বাসায় সব সময়ই রাগ শুনতে হতো। গ্রামের একটা স্কুলে আমি আমার প্রাইমারি স্তরের শিক্ষাটা গ্রহণ করেছিলাম। সেখানে তেমন কোনো ভালো শিক্ষা ব্যবস্তা ছিল না৷ যেহেতু আমার পরিবারের সামর্থ্য ছিল না শহরের কোনো স্কুলে পড়ানো।এজন্য গ্রামের স্কুলেই পড়াশুনা করতাম।
আমি যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তাম, তখন কার একটা ঘটনা, আমি কেবল মাত্র বাসা থেকে হেটে স্কুলে গেলাম। আমাদের বাসা থেকে হেটে স্কুলে যেতে ৭/৮ মিনিট সময় লাগত৷ স্কুলে গিয়ে দেখি একটা ম্যাম, আমাদের ক্লাসে চলে গিয়েছেন৷ আমার বাসা থেকে যেতে একটু দেরি হয়েছিল। ম্যামের অনুমতি নিয়ে আমি ক্লাস রুমে প্রবেশ করলাম। এরপর দেখি ম্যাম সবাইকে গত দিনের দেওয়া পড়া মুখে ধরতেছেন। আমি দেরি করে যাওয়ায় পড়াটা আমাকেই আগে ধরলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার সেদিন পড়া হয়েছিল না। ম্যাম আমাকে বললো কান ধরে দাঁড়াও, আমি দাড়ালাম, এরপর একটা লাঠি এনে হাতের উপর এমন জোরে দুইটা বারি দিলো,। সেই কষ্টটা লিখে বোঝানোর মতো নয়।
সেদিনের পর থেকে আমি ওই ম্যামের ক্লাসে আর কোনো দিন মার খাই নাই৷ আমি ছোট বেলা থেকেই মাইর দেখে খুবই ভয় পেতাম৷ এজন্য যে স্যার বা মেডাম বেশি কড়া ছিল, তাদের পড়া আগে মুখোস্ত করতাম। হাতে ম্যামের করা আঘাতের দাগটা কয়েক দিন ছিল৷ এই দাগ দেখে বাসা থেকে আবার আমাকে রাগ করল, বলতে লাগক পড়াশুনা করতে কি হয়, সারা দিন তো বাইরে খেলে বেড়াস, এবার দেখ কেমন লাগে। তারপর থেকে মোটামুটি একটু কয়েক দিন ভালো ভাবে পড়াশুনা করেছিলাম৷ তারপর আবার সেই যা, তাই হয়ে গেলাম।
এবার আসুন অন্য একটা বিষয় জানা যাক। আমি যখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশুনা করতাম, তখন আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে সবাই প্রাইভেট পড়তে যেতাম৷ একদিন আমাদের ম্যাথ পরিক্ষা ছিল, কিন্তু আমি সেটা জানতাম না৷ গিয়ে শুনি পরিক্ষা,, পরিক্ষায় না পারলে স্যার কুব মারবে, এটা ভেবে আমি কয়েকটা ম্যাথ আমার বসার বেঞ্চে লিখে রেখে ছিলাম। পরে সেগুলো দেখে পরিক্ষা দিয়েছিলাম। আমার জীবনে ওইটায় ছিল প্রথম নকল করা৷ তবে তারপর থেকে আর কখনও ওই কাজটা করি নাই৷
আমাদের সবার জীবনেই শৈশবের এই রকম দুষ্টু মিষ্টি স্মৃতি রয়েছে যেগুলো কখনও ভোলা যায় না। আশা করি আমার আজকের শেয়ার করা স্মৃতিগুলো আপনাদের সবার কাছে ভালো লেগেছে৷ সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য।


