আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন৷ আমিও ভালো আছি৷ আবারও আপনাদের মাঝো হাজির হয়ে গেলাম আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে। আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার জীবনের একটা বাস্তব চিত্র তুলে ধরব। চলুন শুরু করি-
একজন মানুষ ছোটবেলা থেকে সব দিক থেকেই পারদর্শী হতে পারে না৷ কোনো না কোনো দিকে তার দূর্বলতা থাকবেই। ছোট বেলা থেকেই আমি একটু কাজ টাজ কম করতাম৷ বেশি একটা পড়াশুনা বাদে কিছু করতাম না। পড়াশুনা আর খেলাধুলার মাঝেই আমার দিনটা কেটে যেতো। আমি যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম, আমি তখন সকালে যেতাম বাসায় আসতাম সন্ধার দিকে। বাসার কোনো কাজই আমি করার সুযোগ পেতাম না। মাঝে মাঝে আমার বড় ভাই আমাকে বলতো তুই বাসার কোনো কাজ করতে পারবি না, খালি পড়াশুনাই করবি।
বাসার যেকোনো কাজ করতে গেলেই আমার হাতে পায়ে ফোসকা পরে যেতো। মাঠের যেকোনো কাজ করতে গেলে আমার মুখ অল্পতেই লাল হয়ে যেতো, চেহারার যেনো আলাদা এক ধরনের চিত্র ফুটে উঠত। তখন বাসার সবাই আমাকে বলত, এটা তোর কাজ নয়, তোর তো সুখের হাত৷ এই হাত দ���য়ে যে কাজই করতে যাস হাতে ফোসকা পরে যায়৷ আমি নিজেও বুঝতে পারতাম না, যেকোনো কাজ করতে গেলে কেনো আমার কোনো না কোনো সমস্যা হতোই, হয় হাতে ফোসকা পরবে, না হয় মাথা ঘুরবে ইত্যাদি সমস্যা হবে৷ একদিন বাসায় বাঁশ ঝাড় থেকে একটা বাঁশ কাটতে গিয়ে আমার হাতে দুইটা ফোসকা পরে গেল, তখন আমার মা বললো এতো সুখের হাত হলে কি হয়, যে কাজই করতে যাস ফোসকা পরে যায়৷
ছোট বেলা থেকে এই সুখের হাত,, সুখের হাত শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে নিজেকে নিয়ে নিজেই প্রশ্ন করতাম, আমি কেন কোনো কাজ করতে গেলেই হাতে ফোসকা পরে। যাই হোক, মাধ্যমিক শেষ করে কলেজে আসার জন্য বেশি একটা বাসায় থাকা হয় না, এজন্য এই সুখের হাত কথাটাও শুনতে হয় না। আজকে আমি কলেজ থেকে আমার বোনের বাসায় আসলাম, তখন আপু বললো একটু ফ্রেশ হয়ে ঘরে নারকেল আছে দা দিয়ে নারকেলগুলোর খোসা ছাড়িয়ে দিবি৷ আমি বললাম ওকে। পোশাক পাল্টায়ে আমি নারকেলগুলোর খোসা ছাড়িয়ে ভিতরের নারকেলটাকে বের করতে লাগলাম। তিনটা নারকেলের খোসা ছাড়ানোর পর আমি দেখি আমার হাতে দুইটা ফোসকা পরে গিয়েছে।
হঠাৎই আপু রুমে এসে বলতেছে কি রে হাতে কি হয়ছে আমি বললাম ফোসকা পরে গেছে। আপুও আবার সেই সবার বলা কথাই রিপিট করল, সুখের হাত তোর, তুইকি ওই হাত দিয়ে কিছু করতে পারিস। কথাটা শুনেই নিজেকে কেমন একটা মনে হতে লাগল। ব্যাথা হাত নিয়ৈ নারকেলগুলোর খোসা ছাড়িয়ে দিয়ে রুমে চলে আসলাম। আসলে আমি নিজেই বুঝতে পারি না কেনো, যেকোনো কাজ করতে গেলেই আমার হাতে ফোসকা পড়ে যায় কেনো। আসলেই কি হাতটা সুখের নাকি দুঃখের৷ সেটা একমাত্র আল্লাহ তায়ালায় জানেন৷
আমাদের সবার জন্য জীবনেই এমন কিছু ঘটনা থেকে থাকবে, হয়ত তার কারণটা ভিন্ন হতে পারে। আশা করি আমার আজকের পোষ্টটা পড়ে আপনারা আমার জীবন সম্পর্কে একটা বাস্তব কথা জানতে পারলেন৷ সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য।



যেকোন প্রয়োজনে আমাদের ডিসকোর্ড চ্যানেলে যোগাযোগ করতে পারেন। - https://discord.gg/P4UFyjaZ
আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে