আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি৷ আবারও আপনাদের মাঝে হাজির হয়ে গেলাম আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে। আজকে আমি আপনাদেরকে কুঁচ গাছের পাতার ঔষুধীগুণ সম্পর্কে জানাবো। চলুন শুরু করি-
আদীম যুগ থেকে মানুষ বিভিন্ন গাছের শিকড়, পাতার রস খেয়ে তাদের নানা ধরনের রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতেন৷ বিভিন্ন ধরনে গাছ থেকে তৈরি করা হয় নানা ধরনের গুণ সম্পূর্ণ ঔষুধ৷ যেগুলো সেবন করার মাধ্যমে আমরা রোগ থেকে নিরাময় পায়। বিশেষ করে যারস গ্রামে বাস করেন তারা রোগ থেকে মুক্তি লাভের জন্য গাছের উপর নির্ভর করে। তারা সাধারণ সর্দি জ্বর হলে কখনও ডাক্তারের কাছে যায় না, বিভিন্ন গাছের মাধ্যমে এটা সারানোর চেষ্টটা করে যায়। অনেক সময় ছোট বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগলে আমরা তুলসি গাছের পাতার রস করে খাওয়ায় যাতে ঠান্ডাটা চলে যায়।
এরকমই একটা ঔষুধীগুণ সম্পূর্ণ গাছ হলো কু্ঁচ গাছ। এটাকে গ্রামের মানুষেরা লাল কুঁচের গাছও বলে থাকে। ছোট বাচ্চা বা বড়দের ঠান্ডা লাগলে এই গাছের পাতা খেলে খুব দ্রুত ঠান্ডা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এই গাছটা দেখতে লতা গাছের মতো। এর পাতাগুলো অনেক ছোট ছোট এবং চিকন চিকন হয়ে থাকে। এই পাতাগুলো ছিড়ে এনে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে চিবিয়ে রস খেতে হয়৷ এই রস খেতে অনেকটা মিষ্টি মিষ্টি লাগে৷ রস খেয়ে পরে অবশিষ্ট অংশ ফেলে দিতে হয়৷ সর্দির জন্য এটা খুবই ভালো উপকারে আসে।
আমাদের বাসায় আমার আব্বু কুঁচের একটা গাছ কিনে এনে লাগাইছে৷ পূরো গ্রামের মধ্যে আমাদের বাসাতেই একটা মাত্র গাছ আছে। বেশির ভাগ সময় এলাকার মানুষ তাদের ছোট বাচ্চাদের ঠান্ডা থেকে বাঁচানোর জন্য আমাদের বাসায় কুঁচের পাতা নিতে আসেন। এটা ছোট বাচ্চাদের খুবই উপকার করে। এই গাছের ফলগুলোও অনেক উপকারি। ফলগুলো থোপায় থোপায় হয়, এর ভিতরের ফলগুলো দেখতে লাল রঙের হয় এবং ফলের মাঝে একটা কালো আস্তরণ থাকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে।
এই ফলগুলো পাকার পর মহিলাদের মাথায় নেওয়া নারিকেলের তেলের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়৷ এতে তেলের গুণাগুণ বেড়ে যায়৷ এই ফল মিশ্রিত তেল মাথার জন্য খুবই উপকারি৷ তবে এটা বেশির ভাগ সময় গ্রামের লোকদেরই ব্যবহার করতে দেখা যায়৷ শহরের খুব কম সংখ্যক মানুষই এটা ব্যবহার করে। আমি নিজেও বাসায় আসলেই এই পাতা খেয়ে থাকি, বিশেষ করে ঠান্ডা লাগলে বেশি খায়৷ এটা খাওয়ার কিছুটা সময় পরই অনেকটা সময় ঠান্ডা কমে যায়।
আপনারাও হয়ত অনেকে এটার গুণ নিজে দেখেছেন৷ এর উপকারিতা সম্পর্কেও জানেন৷ আশা করি আমার আজকের পোষ্টটা আপনাদের সবার উপকারে আসবে। সবাই ভালো থাকবপন, সুস্থ থাকবেন। আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে৷
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য।


