আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আবারও আপনাদের মাঝে হাজির হয়ে গেলাম আমার আরেকটা নতুন পোষ্ট নিয়ে। চলুন শুরু করি আমার আজকের পোষ্টটা -
দারিদ্র্যতা মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। কেউ দারিদ্র্যতার কারণে, খারাপ দিকে চলে যায়, কেউবা সেই দারিদ্র্যতাকে সহ্য করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যারা প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তারাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারে। আমি আমার কথাগুলো আজকে আপনাদেরকে বলব। আমি একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। অনেক ছোট বেলা থেকেই নিজের খরচগুলো নিজে জোগার করার চেষ্টটা করে আসছি। কারণ, পিতা-মাতার সামথ্য নেই যে আমার চাহিদাগুলো তারা সব সময় পূরণ করতে পারে। নিজের লেখা পড়া থেকে শুরু করে পোশাক সহ সকল কিছুই আমাকে বহন করা লাগে। আমি কখনও কষ্টকে দেখে ভয় পায় না। কারণ, আমি চেষ্টা করি শত কষ্টের মাঝেও যাতে আমার জীবনটাকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে পারি।
এখন রমজান মাস চলছে। এই মাসে বেশির ভাগ মানুষই চেষ্টটা করে একটু কম কাজ করতে, বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগী করতে। এমন কি নিজেদের ইচ্ছা মতো খরচ করতে৷ কিন্তু আমার জীবনটা সম্পূর্ণ আলাদা৷ আমার জীবনে রমজানেই যেনো সবচেয়ে বড় ব্যস্ততা কাটে। সকাল ৮:৩০ মিনিটে বাড়ী থেকে বের হই,, বিকাল ৫ টার সময় বাড়ী আসি। মাঝের সময়টা কখনও কলেজে ক্লাস করে কেটে যায়, কখনও ছাত্র পড়াতে পড়াতে এবং কখনওবা নিজেই অন্যের কাছে পড়তে পড়তে। ১২:৩০ পর্যন্ত কলেজে ক্লাস করার পর ১২:৩০ থেকে ৩ টা পর্যন্ত আমি নিজে পড়াই ছাত্রদের। এরপর আমি একটা ভাইয়ের কাছে পড়তে যায়। সেখান থেকে এসে আরেকজনকে পড়ায়ে তারপর বাড়ী আসি।
রোজা থেকেও সব কিছু করা লাগে। সারাটা দিন খুবই ক্লান্তির মাঝে কাটাতে হয়৷ তবুও ছাত্রদের সামনে গিয়ে জোর করে হলেও কথা বলে তাদেরকে বিষয়গুলো বোঝানোর চেষ্টটা করি। আসলে এই প্রাইভেট না পড়ালে, আমার টাকা আসার কোনো পথ নাই৷ এজন্য আমি নিজের খরচ চালানোর জন্য পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। তবে কলেজে ক্লাস শেষ করে পড়াতে খুবই ক্লান্তি লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই, ক্লান্তিকে দূরে সরে দিয়ে, নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টটা করি। বিকেলের সময়টা যেনো আমার আর কাটতে চায় না। নিজে মাঝে মাঝে অসহায় বোধ হয়। ভাবতে থাকি, আজ যদি বাবার সামথ্য থাকত, তাহলে হয়ত এতো কষ্ট করতে হতো না।
একজন দরিদ্র ঘরের ছেলে বুঝতে পারে জীবনের মানেটা কত কষ্টের। কখনও নিজের ইচ্ছা মতো চলা যায় না। শখের জিনিসগুলো কেনা যায় না। মন চাইলেও যেনো মনকে বেধে রাখা হয়। আজকে যখন বিকাল ৫ টায় পড়াচ্ছিলাম, তখন শরীরটা হঠাৎই খুবই খারাপ লাগছিল। একেতে রোজা তারপর সারাটা দিন কথা বলতে হচ্ছে পড়ানোর জন্য। আজকে এই পর্যন্তই, আবারও দেখা হবে আমার নতুন কোনো পোষ্ট নিয়ে৷ সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন৷
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য।


