হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন শোষণ নিপীড়ন বঞ্চনা থেকে তিনি আমাদেরকে মুক্তি দান করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি এই বাংলার মানুষের হাতেই শহীদ হন।
সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। যাদেরকে তিনি ভালবেসে বুকে টেনে নিয়েছিলেন সেই তারাই বঙ্গবন্ধুর বুকে গুলি করে। বঙ্গবন্ধুর লাশকে পর্যন্ত তারা ঢাকা শহরের দাফন করতে দেয়নি।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল কাজী হায়দার। তার সাথে ছিল ১৪ জন সৈনিক। তারা ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যান। তারা দুপুর দুইটার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে কফিন নামিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে লাশ বহন করে নিয়ে আসেন টুংগীপাড়া সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার কাশেম, আব্দুল হাই মেম্বার, আকবর কাজী, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সোনা মিয়া কবিরাজ, শেখ নুরুল হক মাস্টার সহ অন্যান্য।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আসা সেনাসদস্য গ্রহণ কখন সহবাস কবর দেওয়ার কথা বলেন কিন্তু মৌলভী আব্দুল হামিদ লাশ না দেখে দাফন করতে আপত্তি জানান। সেনা সদস্য গণ ১৫ হতে ২০ মিনিটের মধ্যে লাশ দাফন করার নির্দেশ দেন।
কাঠমিস্ত্রি আইয়ুব আলী শেখ ও তার পিতা রহিম শেখ হলে বঙ্গবন্ধুর লাশ বের করে নিয়ে আসেন। বঙ্গবন্ধুর গায়ে ছিল সাদা পাঞ্জাবি ও সাদা গেঞ্জি। পরনে ছিল সাদা চেকের লুঙ্গি পাঞ্জাবির পকেটে ছিল চশমা ও প্রিয় পাইপ। আশরাফ মোল্লার দোকান থেকে একটি ৫৭০ সাবান কিনে এনে বঙ্গবন্ধুকে গোসল করানো হয়। বঙ্গবন্ধুকে গোসল করান শেখ আব্দুল হাই, ইদ্রিস কাজী, তোতামিয়া শেখ।
টুঙ্গিপাড়ার শেখ সাহেরা খাতুন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল থেকে রিলিফের শাড়ী আনা হয়। শাড়ি লাল ও কালো পাহাড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং কাপড়ের কাপড় তৈরি করা হয়। এই কাপড় পরিয়ে বঙ্গবন্ধুর জানাজা করা হয়। এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর গোসল, জানাযা ও দাফন এ অংশগ্রহণ করেন ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো মানুষ। গ্রামবাসী জানাজায় অংশগ্রহণ করতে চাইলেও তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। জানাজা শেষে পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা শেখ সায়রা খাতুনের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। দাফন শেষে আর্মি সৈনিকেরা তিনবার বঙ্গবন্ধুর কবর কে স্যালুট প্রদান করেন।
বাঙালি জাতি চরম অকৃতজ্ঞ জাতি। যে মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা পেলাম স্বাধীন -সার্বভৌম বাংলাদেশ, সে লোকটাকেই আমারা নির্মমভাবে হত্যা করলাম।কিন্তু ইতিহাসের পাতায় চির অম্লান হয়ে থাকবেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

