মানুষ সাভাবিকভাবেই কৌতূহলী ও ভ্রমণপ্রিয়। অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা যেন প্রতিটি মানুষই অন্তরে কঠিনভাবে লালন করে। এই ভ্রমণপিপাসু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই হোক কিংবা কৌতূহলের বশেই হোক না কেন, মানুষের মনে চাঁদ সম্পর্কে নানা কৌতূহল ও আবেগ হাজার বছর ধরেই চলে আসছে। মনে মনে চাঁদে ঘুরে আাসার আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি মানুষই করে, আর সেটাই সাভাবিক। আর সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানুষের এই চাঁদের অভিযাত্রা।
যখন থেকেই টেলিস্কোপ আবিষ্কার হয়, মানুষ চাঁদকে আরো কাছে থেকে দেখার সুযোগ পায়। তখন চাঁদের ছোটখাটো খাঁদ, উচু-নিচু পাহাড় মানুষকে আরও কৌতূহলী করে তুলে। এখন তো মানুষ চাঁদে স্থায়ী বসবাসের চিন্তা পর্যন্ত চলে গিয়েছে। যাই হোক, মানুষের চাঁদের প্রথম অভিযান ছিল সাভাবিকভাবেই খুবই চ্যালেন্জিং। প্রথম প্রতিযোগীতা শুরু হয় আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে। কিন্তু প্রথমেই মানুষ চাঁদে ভ্রমণ করেনি। প্রথমে চাঁদের চারদিকে পরিভ্রমণের জন্য মনুষ্যবিহীন যান পাঠানো হত।
এই প্রতিযোগীতায় সর্বপ্রথম বিজয়ী হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরী করা লুনা-১, যা কিনা চাঁদের সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটারের ভিতর সফলভাবে প্রবেশ করতে পারে।এরপরই ১৯৫৯ সালে চাঁদে সর্বপ্রথম পা রাখতে পারে লুনা-২।এরপর লুনা-৩ চাঁদের অপর পাশের ছবি তুলতে সফল হয়, যা কিনা চাঁদে অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করে।
এরপর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হয়। এরপর ১৯৬৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা-৯ সর্বপ্রথম নিরাপদে চাঁদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এরপর আমেরিকা সর্বপ্রথম মানুষ পাঠায় চাঁদে, যার মধ্যে ২৪ জন নভোচারীর মাত্র ১২ জন চাঁদে পা রাখার সৌভাগ্য অর্জন করে। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম চাঁদে পা রাখেন নীল আর্মস্ট্রং ও সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন জিন কার্নান।নীল আর্মস্ট্রং ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই এপোলো-১১ তে করে সর্বপ্রথম চাঁদে পা রাখেন।এরপর ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মানুষ চাঁদের অভিযানে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। এজন্য এরপর আর কোন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র চাঁদের অভিযানে নজর দেয় নি।এরপর অবশ্য চীন, ভারত, ইজরায়েলসহ কয়েকটি দেশ অভিযান চালায় কিন্তু চীন ছাড়া বাকিরা তেমন কোন সফলতা পায় নি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল পরবর্তীতে যখন চাঁদে বরফ থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয় তখনই চাঁদে বসবাস ও প্রাণের অস্তিত্ব বিষয়গুলো মানুষের নজরে আসে। এরপরই শুরু হয় সরকারি ও বেসরকারিভাবে আরও নানা অভিযান। এবারের মিশন গুলো শুধুমাত্র চাঁদে গিয়ে ঘুরে আসা নয় বরং চাঁদে একটি স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলা ও নানা ধরনের ভ্রমণ প্যাকেজ বের করা।

