মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক:
(পর্ব - ১)
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন তলানিতে ঠেকেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক দিয়ে এই অবস্থার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব নয়।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও অং সান সু চির সরকারের দমননীতির কারণে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। একইভাবে সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয় অপ্রীতিকর বৈঠকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সব সময় মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও মিয়ানমার কখনও এগিয়ে আসেনি। তারা বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার জন্য ১৯৭৮ সালে আড়াই লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে তারা এ দেশে তাড়িয়ে দিয়েছিল। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তারা ১৯৯২ সালে। এবং শেষ ধাক্কাটা তারা দেয় ২০১৭ সালে। তখন তারা গোটা রোহিঙ্গা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।
গত ১৫ বছর যাবত বাংলাদেশের দিক থেকে নানাভাবে আগ্রহ দেখানো হলেও মিয়ানমার সবসময় নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরালো করার জন্য মিয়ানমার কোন প্রয়োজন মনে করছে না। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেয়ার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি হবে না। আগে যে ধারায় কূটনৈতিক সম্পর্ক চলছিলো সেই ধারা স্থবির হয়ে পড়বে।
তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে রোহিঙ্গা ইস্যু। মিয়ানমার থেকে যখন রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে বিতাড়িত করা হয় তখন সবচেয়ে বড় ভূমিকায় ছিলো দেশটির সেনাবাহিনী আর এখন সেই সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে। কাজেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বড় ধাক্কা। আর এ কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের কূটনৈতিক তৎপরতা যে পর্যায়ে ছিলো এখন এর কোনো পরিবর্তন বা আপাতত এই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।
বোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের আগে যে অবস্থান ছিলো সেই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার কৌশল নিয়েছিলো যে আস্তে আস্তে তারা রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত নেবে কিন্তু এখন এই কৌশল আর কোনো কাজে দেবে না। অর্থাৎ মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশের জন্য কোনো ভালো খবর না। ফলে মিয়ানমার দ্রুতই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করবে না।
নিবন্ধ টি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)