মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কঃ
(পর্ব - ৩)
বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশ ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া চীন এবং ভারতের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক জোরালো হবার কারণে বাংলাদেশর তাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় ।
বাংলাদেশের অন্যতম নিকটতম প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। যা বার্মা নামেও পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে বাংলাদেশের অনেক মানুষ জীবিকার সন্ধানে বার্মায় যাতায়াত করতেন। তখন থেকেই বার্মার সঙ্গে এ দেশের মানুষের একটা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভারত বাদে একমাত্র মায়ানমারের সঙ্গেই বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত ভূকৌশলগত কারণে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে যোগাযোগের জন্য স্থলপথে মিয়ানমারকেই বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারে। মায়ানমারের মধ্য দিয়েই সড়ক যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব। হতে পারে সম্পর্ক এবং সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত।
মিয়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ দেশ। টিন, জিঙ্ক, কপার, টাংস্টেন, কয়লা, মার্বেল, লাইমস্টোন, প্রাকৃতিক গ্যাস, জলবিদ্যুত ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ। এই দেশের বড় শক্তি খনিজ সম্পদ। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার বাংলাদেশের জ্বালানির বড় উরস হতে পারে। খাদ্যদ্রব্য, শস্যদ্রব্য বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয় মায়ানমারে। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও মিয়ানমার বড় সহায়ক দেশ হতে পারে বাংলাদেশের।
অথচ বাংলাদেশ কখনও এই সুযোগকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি। ১৩৫টি উপজাতি এবং ভিন্ন ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর এই দেশটিতে সামরিক শাসন চলছে অনেক বছর ধরে। সম্পর্ক গভীরতর না হওয়ার হয়ত সেটাও একটা কারণ। মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক হলে ভারতের ওপর নির্ভরতা অনেক ক্ষেত্রে কমানো যেত। মায়ানমারের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং চীনে যোগাযোগ তৈরি হলে, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরি হতো।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুটোই স্বল্পোন্নত দেশ। চীন, ভারত, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া মায়ানমারের তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও সামরিক বাজারসহ নানা বিষয়ে মিত্র হয়ে উঠছে এদেশের। আমেরিকার অবহেলাকে সুযোগ বানিয়ে মায়ানমারের সামরিক জান্তা চীনকে দুহাত বাড়িয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিনিয়োগে। তাই এ দেশের বড় বিনিয়োগকারী দেশ এখন চীন। আর্থ-রাইটস ইন্টারন্যাশনাল নামের এক বেসরকারী গ্রুপের তথ্যমতে, ২৬টিরও বেশি চাইনিজ কোম্পানি মায়ানমারের তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ এবং তৎসংলগ্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করছে। ইতোমধ্যে মায়ানমারের অস্ত্র কারখানা নির্মাণ ও অস্ত্র সরবরাহে চীন তার বড় বন্ধুপ্রতিম দেশে পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার শুধু চীনের সঙ্গেই নয়, সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছে ভারতের সঙ্গেও। ভারত ও চীন পাল্লা দিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। মিয়ানমার প্রশ্নে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে আমেরিকাও। তাই সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশ আমেরিকা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ-মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নিয়ে ৪১ বছরের বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ফলে ১ লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মায়ানমারের জলসীমাও চিহ্নিত হয়েছে। ফলে এই সমস্যাটি কেটে গেছে। বঙ্গোপসাগরে উত্তেজনা সৃষ্টির পথ বন্ধ হয়েছে।
নিবন্ধ টি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)