বাংলাদেশী গণমাধ্যমে সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্বের জায়গা এর শেষ পর্ব

R
rahat

বাংলাদেশী গণমাধ্যমে সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্বের জায়গাঃ

(শেষ পর্ব)

 

সাধারণভাবে যে দেশটি সম্প্রতি সীমাবদ্ধ একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছিল সে দেশের সাংবাদিকদের মিডিয়া স্বাধীনতার দীর্ঘ ইতিহাস সম্বলিত একটি দেশে তাদের প্রতিপক্ষের দক্ষতা এবং পেশাদার মানের অনেকের অভাব হবে। তবে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ নেতিবাচক নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে, সাহসী স্বাধীন সাংবাদিকতা রাজনৈতিক স্থান খোলার জন্য একনায়কতন্ত্রকে চাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই জাতীয় মিডিয়া পরিবেশে সংবেদনশীল গল্পগুলি সফলভাবে তদন্ত এবং প্রকাশিত সাংবাদিকরা পেশাদার দক্ষতা অর্জন করবেন যা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাদের সহকর্মীদের সাথে অতুলনীয়।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার পেশাদারিত্বের সঙ্কটের এই প্রেক্ষাপটকে ধাক্কা দেয়ার জন্য দরকার শক্তিশালী আইনি কাঠামো ও সাংবাদিকদের ঐক্য৷ দু’টিই আমাদের দেশে বিরল৷ আমাদের সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন না থাকলেও তাদের শেকল পরানোর মতো আইন ও নীতিমালার সংখ্যা অর্ধশতের কাছাকাছি৷ সবশেষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার অপরাধী ও সাংবাদিকদের একই কাতারে সামিল করার চেষ্টা পেশাদারিত্বে শৃংখল বাড়িয়েছে৷ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রগুলো দেখিয়েছে চাপকে ঠেকাতে নিজেদের মধ্যকার ঐক্য কতখানি জরুরি৷ কিন্তু বাংলাদেশে পেশাদারি সাংবাদিকতার জন্য ‘বিষফোঁড়া’র মত প্রতিবন্ধকতা হলো সাংবাদিকদের দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও দলাদলি৷ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু করে সাংবাদিক ইউনিয়ন দু’ভাগে বিভক্ত৷ দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে এডভোকেসি সাংবাদিকতার প্রবণতা ব্যাপক হারে বাড়ছে৷ 

 

এসব কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে চাকরির সন্তুষ্টির হার প্রায় শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে; অনেকেই উপায় না পেয়ে অন্তর্বর্তীকালীন পেশা খুঁজছেন৷ সঙ্কট শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলেই বেশি৷ ফলশ্রুতিতে পেশায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মীর অভাব খুব ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ উপরন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গুজব বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন, তথ্যের বিকৃতি, সূত্র উল্লেখের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি, তথ্য ও মতামতের মিশ্রণ, ভাষাগত ত্রুটি, সংবাদমূল্য নির্ধারণে পক্ষপাত, সংবাদের আদলে বিজ্ঞাপন৷ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নৈতিকতার এসব মৌলিক জায়গাগুলোতে স্খলন বেড়েছে৷ এখনকার সাংবাদিকেরা সৃজনশীলতা এবং নৈতিকতার চাইতে ব্রেকিং নিউজ আর প্রেসের পাস-সুবিধা নেয়া কিংবা বিদেশ ভ্রমণের পিছনে দৌঁড়াতে বেশি আগ্রহী৷ 

 

বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সাংবাদিকতা এখনও আমাদের কাছে ‘অকুপেশন’; এটি ‘প্রফেশন’ হয়ে উঠতে পারছে না৷ এই দু’য়ের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য ক্ষীণ হতে পারে, কিন্তু খুব শক্তিশালী৷ যেমন চলছে তাতে জীবিকার জন্য সাংবাদিকতা একটি চাকরি হতে পারে৷ 

পেশাদারিত্বের চর্চার জায়গা বাংলাদেশে এখন খুবই সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। 

নিবন্ধ টি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)