বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল কখনো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি আজ পর্যন্ত।কিন্তু ১৯ তারিখ সেই অসাধ্যটাই সাধন করলো টাইগার বাহিনী আবারও প্রমাণ করলো সবাই মিলে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে কোনো ম্যাচই জিতা অসম্ভব এর কিছু না।বাংলাদেশের ইতিহাস জয়ী ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ান এ ১৯ তারিখ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫ টায়।
প্রথমে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা ক্যাপ্টেন মাভুদা।ফলে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুব দেখেশুনে খেলা শুরু করে।কারণ তাদের পিচ এমনিতেই খুব বাউন্সি। তারপর তাদের বোলাররাও যথেষ্ট ভালো বাউন্স দিতে সক্ষম।কিন্তু বাংলাদেশের প্লেয়াররা বাউন্স খেলায় তেমন পারদর্শী নয়।ফলে বল গুলো মোকাবেলা করাটা একটু কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছিল।যার ফলে ১৬ অভার শেষে স্কোরবোর্ড এ মাত্র ৩৯ রান।কিন্তু কোনো উইকেট পড়তে দেয়নি।ওপেনিং পার্টনারশিপ থামে ৯৫ রানের মাথায়।তামিম আউট হন ৪১ রান করে।তারপর লিটন আউট হন ৫০ রান করে আর মুশফিক মাত্র ৯ রান করে। চতুর্থ উইকেট এ আবার জুটি বাঁধেন সাকিব এবং ইয়াসির আলী।৮৩ বলে যোগ করেন ১১৩ রান।তারপর সাকিব আউট হন ৭৭ রান করে।আর ইয়াসির আলী করেন ৫০ রান।পরে একে একে মাহমুদুল্লাহ ২৫, আফিফ ১৭ রান করে আউট হন।আর মেহেদী ১৯ এবং তাসকিন ৭ রান করে অপরজিত থাকেন।ফলে বাংলাদেশের একটি বড় সংগ্রহ দাড়ায় ৭ উইকেট এ ৩১৪ রান।
৩১৫ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশী বোলারদের ঠিকমতো মোকাবিলা করতে না পারায় তাদের প্রথম থেকেই রানরেট কম এবং উইকেট পড়তে থাকে।তবে ডাসেন এবং মিলার খেলা জমিয়ে তুলেন।তাদের ভয়ংকর জুটি বাংলাদেশের জিতার সম্ভাবনা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনছিল।কিন্তু তাসকিন এবং মেহেদী মিরাজ এর বোলিং নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থামে ২৭৬ রানে।শরিফুল ইসলাম ২ টি,মাহমুদুল্লাহ একটি,মেহেদী মিরাজ ৪ টি এবং তাসকিন নেন ৩ টি উইকেট।এর মধ্যে ভালো রান করেন ডাশেন (৮৬) এবং মিলার (৭৯)।তাদের ২ জনকে সহ দলের গুরুত্তপূর্ণ চার ব্যাটসম্যানকে আউট করায় ম্যান অফ দা ম্যাচ নির্বাচিত হন মেহেদী হাসান মিরাজ।ফলে বাংলাদেশ পায় ৩৮ রানের জয়।
এই জয়টি শুধু টাইগারদের নয়।জয়টি পুরো বাংলাদেশের মানুষদের। ইতিহাসের প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে ম্যাচ জয়।তবে খেলাটি খুবই উপভোগ্য ছিলো।
আর্টিকেলটি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

