মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক:
(শেষ পর্ব)
খনিজ, আকরিক, তেল, গ্যাস, মূল্যবান পাথর ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর মিয়ানমার। দেশটি বিশ্বের প্রাকৃতিক কাঠের প্রধান সরবরাহকারী। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ তেল ও গ্যাস খাতে সীমাবদ্ধ থাকলেও দেশটি সম্প্রতি উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগ আকর্ষণে মনোযোগী হয়েছে। জলবিদ্যুত উৎপাদনে ভাল বিনিয়োগ হওয়ায় দেশটি বিদ্যুত উৎপাদনে বেশ এগিয়ে আছে। পর্যটন শিল্পও দেশটির একটি সম্ভাবনাময় খাত। মায়ানমারের অর্থনীতি এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ বিধায় এভাবে চলতে থাকলে সম্পদের অভিশাপ এ ভুগতে হবে দেশটিকে।
আফ্রিকার নাইজেরিয়া, সুদান ও বেনিনসহ কিছু সম্পদনির্ভর দেশ দুর্নীতি, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও দারিদ্র্যের শিকার হয়েছে। সম্পদই ছিল দেশগুলোর কাল। মায়ানমারে গণতন্ত্র ফিরে আসলে এবং দুর্নীতি কমাতে পারলে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ দেশগুলোর পর্যায়ে যেতে হবে না বলেই অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছেন। তাই ধরে নেয়া যায়, মিয়ানমার কয়েক বছরের মধ্যেই দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশে পরিণত হবে। দেশটির বড় অর্থনৈতিক সুবিধা হচ্ছে, এরা দশ-জাতির আশিয়ানের সদস্য। বিশ্বের সফল তিনটি বাণিজ্য ব্লকের মধ্যে আশিয়ান একটি। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ব্রুনাই, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাউস ও মিয়ানমারকে নিয়ে গঠিত এ বাণিজ্য।
মোট বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ২৪ শতাংশ এ জোটের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং প্রতিবছরই বিশ্ব বাণিজ্যে তাদের শেয়ার বাড়ছে। বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক গভীরতর হচ্ছে। আশিয়ান দেশগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে ও এ তিনটি দেশের সঙ্গে মোট বাণিজ্যের ৫০ শতাংশেরও বেশি করছে। ফলে এ বাণিজ্য জোট তথা মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে বাংলাদেশের উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ বা বিমসটেকের সাত সদস্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আছে। তাই বিমসটেকের মাধ্যমেও দুই দেশের বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
মায়ামারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধির অনেক সুযোগ আছে। গ্যাস ও বিদ্যুত আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যত জ্বালানি নিশ্চয়তা লাভ করতে পারে। দুই দেশ যৌথ উদ্যোগে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করতে পারে। বাংলাদেশ মায়ানমারের অবকাঠামো উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়নে প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণের মাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে স্থল যোগাযোগ বাড়তে পারে। এবং নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধিরও যথেষ্ট সুযোগ আছে। এছাড়া সার, প্লাস্টিক, সিমেন্ট, ফার্নিচার প্রভৃতি খাতে যৌথ বিনিয়োগ করা যেতে পারে। মায়ানমারের কাঁচামাল এবং বাংলাদেশের দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও শ্রমিক দিয়ে উৎপাদন করলে উভয় দেশই লাভবান হবে। কারণ, মিয়ানমার এ প্রতিটি পণ্যই আমদানি করে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাকও রফতানি করতে পারে। কৃষিখাতেও উভয় দেশ যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়াতে পারে। যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণ ছাড়াও বাংলাদেশ ডাল, মসলা, মাছ, চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আমদানি বাড়াতে পারে। এভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে পারলে তা আশিয়ান ও বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারবে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও জঙ্গী তৎপরতা বন্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই বাংলাদেশের উচিত মিয়ানমারের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন কার্যকর করা।
নিবন্ধ টি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)