মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক:
(পর্ব -২)
সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করায় নতুন করে কিছু রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কিছু রোহিঙ্গা সেদেশে রাখবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখানোর জন্য।
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের যেহেতু সীমান্ত রয়েছে ফলে সেদেশে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার কারণে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। কিন্তু মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত যেহেতু কোনো উস্কানিমূলক তৎপরতা কিংবা বক্তব্য দেয়নি সেহেতু বাংলাদেশের আপাতত কোনো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দরকার নেই। তবে বাংলাদেশকে সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে।
২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে নীতিতে 'লুক ইস্ট' বা 'পূর্বমুখী' নীতি ঘোষণা করেছিল। সে নীতির মূলে ছিল মিয়ানমারের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করা। কিন্তু সে উদ্যোগ কোন ফল দেয়নি।
বাংলাদেশ আশা করেছিল মিয়ানমারে সামরিক শাসনের অবসান হলে হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং অবনতি হয়েছে।২০০৯ সালে থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছিল রোহিঙ্গা ইস্যুটি। যদিও বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে। মিয়ানমারে দীর্ঘ সময় সামরিক শাসন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে দেশটি চীনের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
পরবর্তীতে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলে মিয়ানমার। ফলে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে মিয়ানমার বাংলাদেশকে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য মিয়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও মিয়ানমার বাংলাদেশেকে সেভাবে দেখে না। তাছাড়া ভৌগোলিকভাবে মিয়ানমার বাংলাদেশের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।
মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব ততটা নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো - থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাণিজ্য বাড়াতে হলে বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমার হচ্ছে সে অঞ্চলের প্রবেশদ্বার।
বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেবার জন্য মিয়ানমারকে তাগাদা দেয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক খারাপ করতে চায় নি বাংলাদেশ।
নিবন্ধ টি পড়ার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।
Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.com/invite/kdatp2dX)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)