আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবার ছাড়া প্রয়োজনে বাইরের কিছু লোকের সঙ্গে চলাফেরা করি। এবং এই ভিড়ের মধ্যে একেকটি মানুষ এক একটি বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। তবে সাধারণত আমরা তাকে বেশি মূল্য দিয়ে থাকি যে ব্যক্তি একটু কম কথা বলে এবং কোনো কথা বলা মাত্রই উত্তর দেন না।
বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ:
ইতিহাসের একজন বিখ্যাত ব্যক্তির চাণক্য জি বলেন "বুদ্ধিমান লোক তখনই কিছু বলেন যখন তার বলার মত কিছু থাকে অপ্রয়োজনে সে কোন কথা বলে না।" আর অন্যদিকে দেখা যায় বেশিরভাগ লোক শুধু কথাই বলতে চায় কারণ তারা শুধু কথাই বলতে চাই কিন্তু এই কথাটার মূল্য তারা অনুধাবন করতে পারে না। কথা বলার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। যদি আপনি মনে করে থাকেন আপনি কথা বলেন কম তার জন্য আপনার বুদ্ধি কম বা আপনি দুর্বল এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
বুদ্ধিমান লোকের কিছু বিশেষ গুণাবলী:
* যারা অনেক কম কথা বলে সাধারণভাবে তারা বেশি বুদ্ধিমান হয়। যখন আপনি কথা না বলে কারো কথা শুনবে না তাহলে ওই মুহূর্তে আপনার সামনে উপস্থিত ব্যক্তি তার কথা বলার সুযোগ পাবে। আর সেই মুহূর্তে সামনের মানুষটি ভাবেনা যে আপনি মূর্খ। কারণ পৃথিবীতে অন্য মানুষের কথা শোনার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আর আপনি যদি কাউকে এভাবে সুযোগ দেন কথা বলার তাহলে ওই মানুষটি ভাববে যে আপনি তাকে মূল্য দিচ্ছেন। এটার কারণ আপনি একজন বুদ্ধিমান মানুষ ওই মানুষটার ধারণা এরকমটাই হবে তখন। কারণ বুদ্ধিমান মানুষ কথা কম বলে এবং অন্যের সুবিধা-অসুবিধা মতামতের প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
* পরবর্তীতে বৈশিষ্ট্য এটা হচ্ছে কম কথা বলা বা বুদ্ধিমান লোকের এটাই লক্ষণ যে সাধারণত তারা বেশি মেধা শক্তির অধিকারী হয়ে থাকেন। কারণ এই মানুষগুলো নির্বোধ লোকের মত অনর্গল কথা বলতে থাকে না। এ বুদ্ধিমান লোক গুলো যখন তার মতামত প্রকাশ করে সেটি স্বল্প বাক্য বা স্বল্প শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে এবং অর্থবহুল ভাবে যেটা একজন সাধারন মানুষের জন্য বোঝা সহজ। তাই আপনি যদি আপনার কথাগুলো কাউকে বোঝাতে চান তাহলে কম কথার মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করুন তাহলে ওই শ্রোতা খুব সহজে বুঝে নেবে। এবং যারা কম কথা বলে সাধারণত তারা সহজে মানুষের বন্ধু হতে পারে কারণ মানসিকভাবে অনেক ভালো মনের হয়ে থাকে। যখন তারা কোন কথার উত্তর দিয়ে থাকেন তখন সেটা মন থেকে দিয়ে থাকেন।
* এরপরের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যারা একটু কম কথা বলে অন্যদের তুলনায় তারা সাধারণত সফলতা অর্জন করতে পারে। কারণ এই কম কথা বলা বুদ্ধিমান মানুষ গুলো অযথা কথা বলে সময় নষ্ট করে না। তারা এই সময়টাকে বাঁচিয়ে তাদের কাজে প্রয়োগ করে বা মনোনিবেশ করে থাকে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যেকোনো কাজের শুরু থেকে কার্যকরীতা এটার ফলাফল বা খারাপ দিক সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে এরা একটি কাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া এই ব্যক্তি গুলো শুধু মুখে বলা নয় এরা কাজেই বিশ্বাস করে এবং কাজে তাদের সফলতা অর্জন করে দেখায়। কম কথা বলার কারণে দেখা যায় কারো সঙ্গে ঝগড়া সৃষ্টি হয় না এই কথা বুদ্ধিমান লোক গুলোর ক্ষেত্রে। যার ফলে দেখা যায় এদের মন সবসময় সতেজ থাকে এবং সহজেই এ রকম জটিল সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে। এবং এটাই স্বাভাবিক যে এইগুলা বলে যে মানুষটার মধ্যে থাকবে সে সহজেই তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।
* যারা এই বুদ্ধিমান বা কম কথা বলা লোকের কাতারে পড়ে যারা, তারা সাধারণত মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে খুব সহজে। যারা কম কথা বলে এরা গোপন তথ্যগুলোকে গোপন রাখতে পারে যেহেতু এরা অপ্রয়োজনে কোন কথা বলে না। আর এদের মস্তিষ্কে কি চলছে এটা জানা খুব একটা সহজ নয়। এটাই তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে খুব সহজে কারণ একজন মানুষ জানে যে এই লোকটির কাছে তার গোপন সমস্যা গুলো যদি বলা হয় তাহলে সেখান থেকে বুদ্ধিমান লোকদের কিছু সমাধান দেবে। এবং এই গোপন কথাটি সে গোপন রাখতে সক্ষম।
* এরপর দেখা যায় যারা কম কথা বলে এরা সাধারণত কারো সাথে তর্কে জড়ায় না। যার জন্য নিজের আত্মসম্মানকে সে রক্ষা করতে জানে। যারা কম কথা বলে তাদের জীবনের সম্পর্কের অবনতি দেখা যায় না বললেই চলে। কারণ এদের বন্ধুত্বটা অটুট থাকে যার প্রধান কারণ হচ্ছে এরা বিনা প্রয়োজনে অযৌক্তিক কোন কথা হঠাৎ করে বলে না। যদি তোমার বন্ধুটি কোন কথা বলেও ফেলে তখন সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে পরবর্তীতে বুদ্ধি খাটিয়ে অল্প কথার মধ্যে থাকে সেই কথাটা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলে।
* যারা কম কথা বলে এরা কখনো একা থাকতে ভয় পায় না। এদের মধ্যে একটি ভালো দিক আছে, এটি হচ্ছে তারা বেশিরভাগ সময় নিজেকে দিয়ে থাকে। টাকা থাকলেও ওই কম কথা বলা মানুষটি খুশি থাকে। আর একা থাকা কে এই ব্যক্তি গুলো কখনোই তাদের দুর্বলতা মনে করে না। বরং তারা এই একা থেকে নিজের বুদ্ধি কে কাজে লাগিয়ে জীবনে কিছু করে দেখায় প্রথম সফলতা এনে দেখায়। এদেরকে যদি আপনি এক হাজার লোকের মাঝেও রেখে দেন তারপর ও রাও ভুলে যায় না যে সে একা এবং তার নিজের কাজের কথা। এই মানুষগুলো কখনো নিজেকে দুর্বল ভাবে না যে তার পাশে কেউ নেই এভাবে। সে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে সব সময় ব্যস্ত থাকে।
সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা বা সম্মানিত করতে হলে নিজের আত্মসম্মানকে বিসর্জন দেওয়া যাবে না। এবং আমরা দেখে থাকি সমাজের কিছু লোকের কাছে আমরা ও আমাদের প্রয়োজনে উপস্থিত হইয়া আমাদের সমস্যাগুলো বলার জন্য। ওই মানুষগুলো দেখতে কিন্তু আমাদের মত কিন্তু ব্যতিক্রম এটাই যে ওরা বুদ্ধিমান। নিজেকে এই কাতারে প্রতিষ্ঠা করার জন্য খুব বেশি পরিশ্রম করার প্রয়োজন পড়ে না।
লেখা প্রিয় বন্ধুরা,
ধন্যবাদ সকলকে আমার লেখাটা পরিদর্শন করার জন্য।

