কৃষক রাজনীতি
বিশ শতকের প্রথমার্ধের জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ মহাজনি শাসন বন্ধ করার লক্ষ্যে একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে বাংলায় গড়ে ওঠে শক্তিশালী প্রজা আন্দোলন। কৃষক প্রজাতির অকৃতির বন্ধু ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৯২৯ সালে গঠিত হয় নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি যা পরবর্তীতে কৃষক প্রজা পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
কপিমুক্ত ছবির উৎস এখানে
১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন
ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ভারত শাসনের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি এবং প্রদেশগুলোর প্রাদেশিক স্বায়ত্ব শাসন প্রবর্তন। আইটি কার্যকর হলে ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এ নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসব বর্ণ এবং মুসলিম লীগ ৩৯ টিসক পূজা পার্টি ৩৬ টি আসন লাভ করে। এবং বর্তমান আমরা যে নির্বাচনী কার্যক্রম গুলো পর্যবেক্ষণ করি এই নির্বাচনী পদ্ধতি কিন্তু অনেক আগে থেকেই চলে আসছে এবং এখনকার যে অবস্থা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন পূর্বের অবস্থা থেকে সংস্কার হতে হতে এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ফজলুল হকের প্রথম মন্ত্রিসভা
কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যাস্ত হওয়ায় একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির সরকার গঠিত হয়। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন একে ফজলুল হক এবং বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য ১৯৩৮ সালে হক মন্ত্রিসভা একটি কমিশন গঠন করে যা ফাউন্ড কমিশন নামে পরিচিত। ১৯৩৮ সালে হক মন্ত্রিসভার বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করে জমিদারদের অধিকার রাশ এবং কৃষকদের অধিকার বৃদ্ধির চেষ্টা করেন এবং ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় চাষী খাদক আইন প্রবর্তন করেন। এই আইনের ফলে বাংলার সর্বোচ্চ রিন শালিশি বোর্ড গঠিত হয় এবং ঢাকার বেঙ্গল এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট অর্থাৎ বর্তমানের শেরি বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশালের চাকার কলেজ স্থাপিতের কৃতিত্ব শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের। তিনি মুসলিম নারীদের শিক্ষার জন্য ঢাকায় ইডেন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
এ কে ফজলুল হকের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা
১৯৪১ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহু সাথে মতানৈক্যের ফলে এ কে ফজলুল হক মুসলিম লীগ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তিনি ডক্টর শ্যামাপ্রসাদের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন। এ মন্ত্রিসভার শ্যামা হক মন্ত্রিসভার নামে পরিচিত এবং এই মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ কে ফজলুল হক। ১৯৪৩ সালে এই মন্ত্রিসভার পতন হয়।
খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভা
১৯৪৩ সালের শ্যামা হক মন্ত্রিসভার পতন ঘটলে খাজানা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং খাজা নাজিম উদ্দিন ছিলেন অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।
লাহোর প্রস্তাব
১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্না দ্বিজাতি তত্ত্ব এর প্রচারণা শুরু করেন এবং ওই বছর ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত হয় নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। এ অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং লাহোর প্রসবের মূল কথা ছিল উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।
ক্রিপস মিশন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মিত্র পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করলে জাপানি আক্রমণের বিরুদ্ধে এদেশীয় সাহায্য সহযোগিতা লাভ করার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সারসিল স্যার স্টার্ট ফর ক্লিপস কে ১৯৪২ সালে এ উপমহাদেশে প্রেষণ করেন। তিনি রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে যে কয়টি প্রস্তাব গ্রহণ করেন তা প্রস্তাব নামে খ্যাত।

