বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘটিত একটি ঘটনা। এই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা তাপ বৃদ্ধি বর্তমানে সারা বিশ্বের জন্য একটি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন ভবিষ্যতে এটি অনেক বেশি বিপদ আনতে পারে পৃথিবীর দক্ষিণ অঞ্চলের জন্য।
*** বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কি?
এটিই প্রকৃতির এমন একটি পরিবর্তন যা গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা জানি যে কৃষি মতামতে জলবায়ু বলতে বোঝায় কোন স্থানের ২০ থেকে ৩০ বছরের পর আবহাওয়ার সামগ্রিক অবস্থা। আর এই কস্মিক উষ্ণতা সহজ কথায় আমরা বুঝি তাপমাত্রা হিসেবে এটা কিন্তু আসলেই একদিনে এতটা পারেনি। এই তাপমাত্রা প্রকৃতির কারণে বা প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। একশত বছরের পূর্বের তাপমাত্রা তুলনায় বর্তমানে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় .৬০° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানের তাপমাত্রা যে অবস্থা সেই সাথে বিজ্ঞানীরা বিচার-বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে সম্ভাব্য একটি অবস্থা যে ভবিষ্যতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২১ শতকের শেষ দিকে ২.৫ থেকে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস আরো বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারন:
আমাদের কমবেশি হয়তোবা সবারই জানা আছে যে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া কি? এটা আসলে কাছে তৈরি একটা ঘর সাধারণত শীতপ্রধান দেশে গাছ বাঁচিয়ে রাখার জন্য এরকম কাজের তৈরি ঘর তৈরি করা হয় যেখানে তার শুধু প্রবেশ করতে পারবে কিন্তু বের হতে পারবে না। এই পৃথিবীর কেউ ঠিক ওই তিন হাজার সাথে তুলনা করা হয় কারণ আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি যে প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা কিন্তু বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। কেন পাচ্ছে? এটা হচ্ছে সাধারণ একটা বিষয় কিন্তু আমরা হয়তো বা মাথা খাটিয়ে কখনোই দেখি না কিন্তু এ বিষয়টা খুবই জরুরী আমাদের জন্য না হলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। পৃথিবীতে গ্রীন হাউজ এর মত কাচের ঘরের সঙ্গে তুলনা করা হয় কারণ আমরা জানি সূর্য থেকে আমরা আলো এবং তাপমাত্রা পেয়ে থাকি। এবং আমরা এটাও জানি সূর্যের আলো ছাড়া কিন্তু উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকার কথাই নয়। সূর্যের তাপের যেমন প্রয়োজন আছে প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য কিন্তু এই সূর্যের তাপ যখন পৃথিবীতে প্রবেশ করার পর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন সেইটা তাপমাত্রা বৃদ্ধির দিকে চলে যায় এবং উদ্ভিদ প্রাণী এবং জনজীবনের উপর হুমকি নিয়ে আসে। পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমণ্ডল ভিজে আছে কার্বন ডাই অক্সাইড মিথেন এবং ক্লোরোফ্লোরো কার্বন এবং এগুলো ওই আমরা যে গ্রীনহাউজ সম্পর্কে জানি ঐদিকে হাউজের ঘরটা যেমন কাজ দিয়ে তৈরি ঠিক তেমনি এই পদার্থগুলো কাজ বা প্লাস্টিকের কাজ করে থাকে। এই যে গ্যাস গুলো সম্পর্কে আমরা জানলাম এই গাছগুলো পৃথিবীতে সূর্যের আলো বাতাস তে কোন প্রকার বাধা সৃষ্টি করে না। কিন্তু আবার একটা বড় সমস্যা হচ্ছে এই গাছগুলো পৃথিবীতে একে অপরের জন্য তাপ বের হয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি করে যার ফলে দিন দিন পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।
এই গাছগুলো আবার পৃথিবীর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কারণ এই গাছগুলো যদি পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল এভাবে অবস্থান না করতো তাহলে পৃথিবীর সকল তাপমাত্রা পুনরায় ফিরে যেত বায়ুমণ্ডলের বাইরের মহাবিশ্ব অঞ্চলে সে ক্ষেত্রে দেখা যেত পৃথিবীর মানুষ জীবজন্তু উদ্ভিদ বসবাস উপযোগী হয়ে যেত। আর পৃথিবী রাতের বেলা ভীষণ ঠান্ডা হয়ে যেত যেটা একজন অসাধারণ মানুষের সহনশীল পর্যায়ে থাকতো না। কিন্তু সমস্যা হল বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে । এবং বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাওয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেশি ধরে রাখে যার জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের কলকারখানায় জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস কয়লা পোড়ানো হচ্ছে এবং এটা থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে এটাও তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। একই সাথে মানুষ বন উজাড় করে ফেলছে যার ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড আর কমতে পারছে না।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে যা ঘটতে চলেছে পৃথিবীতে:
এটার অনেক খারাপ প্রভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আমরা দেখতেই পারছি যে প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা এত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে জীবজন্তু মানুষের জন্য অসহনীয় পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। এবং বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন তাপমাত্র যদি এভাবে বাড়তে থাকে তবে হিমালয়ের বরফ খন্ড এত পরিমান গলে যাবে যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। এটার ফলাফল পৃথিবীর দক্ষিণাংশ বিশেষভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এবং বাংলাদেশের সংবাদ বার্তা এটা যে এই তিন থেকে চার দিনের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি সরকারি শিশু হাসপাতালের শিশু অসুস্থ তার হার অনেকাংশে বেড়ে চলেছে। আর এই সংখ্যাটা এত পরিমান যে অনেক বাবা মা তার সন্তানকে যখন শিশু হাসপাতালে নিয়ে পৌঁছাচ্ছেন তখন তারা আর থাকার জন্য নির্দিষ্ট স্থান পাচ্ছেন না। এবং গবেষকরা আরো বলেছেন যে ঘূর্ণিঝড় হারিকেন এরকম বিভিন্ন ধরনের বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির থেকে রক্ষা পেতে যে কাজগুলো করা সম্ভব:
মূলত যে সমস্ত কার্যকলাপ গুলো কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস বৃদ্ধি করে এই কাজগুলো কমাতে হবে আর যদি আমরা দেখি যে না এটা করতে হবে কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিকল্প পথ অনুসরণ করতে হবে যাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড স্বল্প পরিমাণে নির্গত হয়। এবং সব থেকে সহজ এবং সাধ্যের মধ্যে যে কাজটি সবাই পড়তে পারে সেটি হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। তবে আর একটা দিক খেয়াল রাখতে হবে যে আমাদের বনজ সম্পদ অর্থাৎ উদ্ভিদ যারা নির্বিচারে অবিবেচকের মত কাটছে এদিকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সতর্ক থাকতে হবে। সুন্দরবন এলাকার পাশে অবস্থিত যে বসতিগুলো আছে এদের মধ্যে গাছের প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তবে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এই যে সচেতনতাটা এটা কিন্তু ব্যক্তিগত কারো দায়িত্ব নয় আবার ব্যক্তিগত কারণ একজন ব্যক্তি যদি পেটের সমস্যা এবং ক্ষতিকারক দিকগুলো উপলব্ধি করতে পারে সেই ব্যক্তি নিজে অবশ্য সচেতন হবে। সেই সাথে ওই ব্যক্তির দরকার অন্য আরো দশ জনকে জানানো এবং তাদেরকে উপলব্দি করানোর যে তাদের উচিত আরো লোকজনকে দাঁড়ানো এভাবে যদি দলবদ্ধভাবে প্রচারণা চালানো হয় তাহলে দেখা যাবে এক সময় প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। এবং আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত জানাবো প্রত্যেকটি দেশের বনবিভাগ অধীনস্থ যত সম্মানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ আছেন এবং সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আকুল আবেদন আপনারা অবশ্যই সচেতনতার সাথে বনভূমি রক্ষা করবেন এবং বেশি বেশি গাছ লাগাবেন।
ধন্যবাদ সকলকে আমার এই লেখাটি পরিদর্শন করার জন্য।

