বাল্যবিবাহের ফলাফল ও প্রতিরোধের উপায়

P
piya3

 

 বাল্যবিবাহ এক প্রকার একটা পরিবার একটা সমাজ একটা দেশের জন্য বড় রকম এক প্রকার ক্ষতি। এটা যেমন একটা পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে তেমনি দেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। এটার ওদের অনেক উপায় আছে।

 

বাল্যবিবাহ:

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায় মেয়েদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রযোজ্য। বাংলাদেশের মেয়েদের বিবাহ বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ বছর। ১৮ বছরের পূর্বে যদি কোন মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয় তাহলে সেটাকে বলা হয় বাল্যবিবাহ।

 

বাল্যবিবাহের কারণ:

বাল্যবিবাহের জন্য বলব আমাদের বাংলাদেশ প্রথমত দায়ী আমার আপনার মতো সমাজের কিছু মানুষ এবং আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। এবং আমাদের বাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ। যার ফলে আমাদের দেশের নারী এবং পুরুষ উভয় সন্তান ধারণ ক্ষমতা লাভ করে থাকে অন্যান্য দেশের তুলনায় পূর্বে থেকে। এই প্রাকৃতিক কারণে সন্তান ধারণ ক্ষমতা বাংলাদেশের নারী-পুরুষ উভয় অন্যান্য দেশের তুলনায় একটু এগিয়ে আছে বললেই চলে। এবং আমাদের সমাজ এবং পরিবার পুরুষশাসিত। তাই এখানে দেখা যায় নারীদের প্রাধান্য একটু কম বললেই চলে। কোন পরিবারে যখন কোন কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে তখন ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একটু অখুশি হয়। এমনকি ওই সন্তানের জন্মদাতা পিতা ও সন্তুষ্ট থাকেন না এই কন্যা সন্তানের জন্মতে। কারণ আমাদের সমাজে এখনো কুসংস্কারে ডুবে আছে। এখনো পরিবারের সম্প্রতি বাবা বাবা মনে করেন ছেলে সন্তান ভবিষ্যতে যখন তারা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হবে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেবে। এবং এটার জন্য কন্যা সন্তান উপযুক্ত নয়। যার ফলে দেখা যায় কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণের পরপরই সমাজ পরিবারের পিতা-মাতার মাথায় একটা চিন্তা থাকে তাদের কন্যা সন্তানকে বিবাহ দিতে হবে। এই চিন্তা ভাবনা ওই ছোট শিশু কন্যা শিশুর মধ্যে প্রবেশ করে যেভাবে সে তার জীবনকে গড়ে তোলে কারণ আমরা জানি একটা সন্তানের কাছে পরিবাহিতার প্রথম বিদ্যালয়। সুতরাং এটাই স্বাভাবিক যে তার পরিবারের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা তার ভিতরে ধারণ করবে। এবং অনেক বাবা-মা চিন্তা করেন মেয়েদেরকে লেখাপড়া শিখিয়ে টাকা ব্যয় করে কোন লাভ নাই। তার জন্য দেখা যায় বাংলাদেশের আমাদের এই সমাজের নারীরা এখনো শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে। আমরা জানি একমাত্র স্বীকৃত একটি সমাজ অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে যেহেতু শিক্ষার আলো নারীদের মধ্যে নাই সেহেতু তাদের পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব? আর এটার জন্য সাধারণত দেখা যায় কন্যা সন্তান যখন ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে অবস্থান করে অধিকাংশ পরিবারের মেয়েদের এই বয়সে বিবাহ দেওয়া হয়ে থাকে।

 

বাল্যবিবাহের ফলাফল:

কিন্তু এই বাল্য বিবাহের ফলাফল টা খুবই কষ্টের। একটা মেয়েকে যখন ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সে বিবাহ দেয়া হয় তখন সে বিবাহের কিছুই বোঝেনা। আর এই বয়সে একটা মেয়েকে বিবাহ দেওয়া মানে তার মাথায় একটা পরিবারের সকল বোঝা এসে পড়ে। বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তাকে বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করতে হয়।এবং ওই পরিবারের সকল সদস্যের জন্য খাবার প্রস্তুত এবং সাংসারিক অন্যান্য কাজ কামের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হয়। এবং দেখা যায় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ওই সদ্যবিবাহিত ছোট কন্যা শিশুটি একটি সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন। তার শারীরিক গঠন আসলে একটা সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত নয়। যার ফলে দেখা যায় ওই কন্যা সন্তান যখন সন্তান ধারণ করে তখন বিভিন্ন সমস্যায় বিভিন্ন বড় বড় রোগে আক্রান্ত হয়। এবং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তান জন্ম গ্রহণের সময় ওই বাল্যবিবাহের শিকার হওয়া ছোট্ট শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।

 

এবং যদি বাল্যবিবাহের শিকার হয় কোন মা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার সন্তান লালন পালন করেও থাকেন; তাহলে দেখা যাবে যে ওই মা কোনো না কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। যার ফলে দেখা যায় তার ওই রোগীর পিছনে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেটা হয়তো ওই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। এবং ওই অসুস্থ মা তখন পরিবারের সকল কাজকর্ম সঠিক ভাবে পালন করতে পারেন না। যার জন্য ঐ পরিবারে ঝগড়া লেগেই থাকে। এবং দেখা যায় ওই অসুস্থ মায়ের স্বামী পুনরায় বিবাহ করে। যার ফলে দেখা যায় একাধিক সন্তান জন্মগ্রহণ করে এবং এটার জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যেহেতু আমরা সকলে জানি বাংলাদেশের জমির পরিমাণ অনুযায়ী জনসংখ্যা অনেকাংশে বেশি এবং তার জন্য দায়ী করা হয় এই বাল্যবিবাহ মত একটি কারণ কে।

 

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করার উপায়:

প্রথমত শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। প্রতিষ্ঠিত পরিবারের বাবা-মায়ের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকে এটা উপলব্ধি করাতে হবে ছেলে মেয়ে উভয় তাদের সন্তান। একটা ছেলে যদি পারে মা-বাবার দায়িত্ব নিতে পারে, তাহলে একটা মেয়ে ও বাবা মায়ের দায়িত্ব নিতে পারে। এবং এটা পরিপূর্ণতা পাবে তখনই যখন কোন পরিবারের বাবা-মা সচেতন হবে তাদের কন্যা সন্তানের উপর। এবং তারা গুরুত্বটা অনুভব করবে যে আমাদের কন্যাসন্তানের লেখাপড়া দরকার। এবং এটার মাধ্যমে আমাদের কন্যা সন্তান ভবিষ্যতে দেশের একজন আদর্শ নাগরিক এবং শিক্ষিত সমাজের কাতারে দাঁড়াতে পারবে। এবং এই শিক্ষা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে যেখানে সে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে। যেখানে এসে বিবাহ জীবনের সঙ্গে আবদ্ধ হলেও তার স্বামী আর স্বামীর পরিবারের কারো উপর নির্ভর করতে হবে না। কারন সে শিক্ষিত সে চাকুরী করে সে অর্থ উপার্জন করে। 

 

তবে সমাজ ব্যবস্থাকে আগে বদলাতে হবে তার পূর্বে নিজে থেকে মানসিকভাবে সচেতন হতে হবে। কারণ আমাদের সমাজটা এমনেই কেউ যদি ভালো কিছু করে তাকে উৎসাহ না দিয়ে বরং তাকে কিভাবে বশ করা যায় এটাই সমাজের রীতি-নীতি। সমাজ এমনই যে যে ভালো থাকবে সে ভালো থাকবে সে অনুযায়ী না না কখনোই সে অন্য কেউ একজন তার কাতারে এসে দাঁড়ান। এটাই একটা বড় সমস্যা নারী জাতির জন্য। 

যাহোক এভাবেও যদি সম্ভব না হয় তখন আইনের সহায়তা নিতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বাল্যবিবাহের ওপর নজর দিয়েছে এবং সেইসাথে নারীদের শিক্ষার উপর নজর দিয়েছেন।

 

প্রিয় বই পিপাসু বন্ধুরা,

ধন্যবাদ আপনাদেরকে আমার লেখাটি পরিদর্শন করার জন্য।

Comments