গ্রাম্য জীবনযাপন ধারার পরিবর্তন

P
piya3

 

গ্রাম্য জীবনযাপন ধারনার পরিবর্তন দরকার

 

আমাদের দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান একটি দেশ। সাধারণত দেখা যায় গ্রামের মানুষগুলো একটু ঘরোয়া প্রকৃতির। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই মানুষগুলোকে অবশ্যই তাদের জীবন ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে।

 

গ্রাম্য মানুষের জীবনযাপন:

গ্রামের মানুষ আসলে জন্মগ্রহণ করার পর থেকে গ্রামের পরিবেশে বেড়ে ওঠে। আর এটাই স্বাভাবিক যে গ্রামীণ প্রথা বা নিয়মকানুন এগুলো সেই মানুষগুলোর ভিতরে থাকবে। গ্রামের নারীরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে। তারপর তারা ঘরোয়া যে কাজগুলো এগুলো সেরে রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। আমার পরিবারের কর্তা বা পুরুষ লোক যারা তারা তাদের কাজে বেরিয়ে পড়েন। শ্রমিক ছাড়া কৃষিকাজে সম্পর্কিত থাকে অধিকাংশ পরিবারের লোকজন। যার জন্য দেখা যায় ওই পরিবারের সন্তানেরা তাদের পিতার সাথে কৃষি কাজে অংশগ্রহণ করে। আর এই যে তাকে সাহায্য করার জন্যে ওই ছেলে বা মেয়ের যাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা ছিল সেই সুযোগটা আর হয়ে ওঠে না। কারণ সব সময় কৃষি ফসল ভাল উৎপাদন হয় না। শীতের সময় বা বর্ষা ঋতুতে সারা বছরের জন্য অনেক কষ্ট ক্লান্ত করে এই ফসলগুলো গ্রামের মানুষদের ঘরে তুলতে হয় না হলে সারা বছর হয়তো না খেয়েই কাটাতে হবে এরকম একটা বিষয়। মুসলমান প্রধান দেশ হওয়ার জন্য এখানে বছরে দুইটি ঈদ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বারো মাসে তেরো পার্বণ অর্থাৎ পূজা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা যার যার ধর্ম পালন করে থাকেন। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু অন্যরকম অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং মানবতা পূর্ণ দেশ। এখানে ধর্ম আলাদা আলাদা ব্যক্তির হলেও উৎসব-আনন্দ সব ধর্ম অবলম্বী লোকজন একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করে থাকেন।

 

গ্রামের মানুষের অসুবিধা গুলো:

সাধারণত এই গ্রামগুলো প্রত্নতত্ত্ব স্থানে অবস্থিত যেটা বলতে বোঝায় একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি স্থান। অর্থাৎ যেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য অনুপোযোগী। বর্ষা ঋতুতে রাস্তা থাকে কাদাযুক্ত সাধারণত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে থাকে। এখন হয়তবা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে কেন সেই লোক গুলো এখানে থাকে? আর কীভাবেই যাতায়াত করে? বিষয়টা এভাবে না দেখে আমরা যে কেউ অন্য ভাবে দেখতে পারি কারণ এটা তাদের জন্মস্থান আর জন্মস্থান সবার কাছেই প্রিয় হয়ে থাকে। তাদের পরিবার পরিজন আত্মীয়-স্বজন এখানেই বসবাস করে থাকে তাই এই জায়গার প্রতি এই মানুষগুলোর একটি অন্যরকম টান। এদের মধ্য থেকে দেখা যায় খুবই কম সংখ্যক লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে একটু দূরে অবস্থান করলেও সুযোগ পেলেই তারা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসে সেই অবসর সময় কাটানোর জন্য। 

 

এই গ্রামের মানুষেরা খাবার এবং পানির খুব সমস্যায় ভোগেন প্রায় বছরের বারো মাস। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী যত গ্রাম রয়েছে এদের পানির যে কষ্ট এটা এখানে না গেলে উপলব্ধি করা যাবে না। সুপেয় পানির খুবই অভাব বৃষ্টির সময় এরা কিছু প্রাণী সংরক্ষণ করে রাখে। যদিও সেই পানির পরিমাণ টা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য কিন্তু কি আর করা বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু সংরক্ষণ করে রাখা যায় তারা সেটাই করেন। এবং কিছু দাতা সংস্থা এখানে কাজ করে থাকে তারা কিছু কিছু পরিবারকে পানি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন এক্ষেত্রে কেউ কেউ একটু উপকৃত হয়ে থাকেন। 

 

আর সবথেকে বড় সমস্যা হচ্ছে এদের আর্থিক অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন এখনো আসেনি। এই দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামের মানুষগুলো এখনো কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এর জন্য আসলে মানুষ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ দুটোই দায়ী। কারণ এই লবণাক্ত এলাকায় ফসল একেবারে হয় না বললেই চলে। আর অধিকাংশ মানুষের ফসলের জন্য যে জমি দরকার সেটা নাই। নদী ভাঙ্গনের জন্য যার যেটুকু ছিল তাও নেই এক কথায়। 

 

গ্রামের মানুষের অসুবিধা গুলো দূর করার উপায়:

প্রথমত গ্রামের মানুষেরা এখনো অসচেতন তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে কিভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা সম্ভব? প্রথমত উচিত ওই গ্রাম অঞ্চলের যারা প্রভাবশালী আছেন বা ইউপি সদস্য এবং চেয়ারম্যান তাদেরকে উদ্যোগী হতে হবে। এবং গ্রামে অবস্থানরত প্রত্যেকটি পরিবার প্রধান যারা কর্মক্ষম আছেন তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমান একটি উপার্জনের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। আর এটা করলে যা হবে তা হচ্ছে তার পরিবারের আর্থিক অর্থাৎ একটা পরিবারের ভরণপোষণ খাওয়া-দাওয়ার জন্য যা কিছু দরকার সেই বিষয়টিতে আর কোনো সমস্যা দেখা যাবেনা। এটা যদি করা সম্ভব হয় তাহলে দেখা যাবে ওই পরিবারের সন্তানেরা উপযুক্ত বয়সে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু শুধুমাত্র যে নির্দিষ্ট কিছু লোকের দায়িত্ব এটা কিন্তু আবার ঠিক নয় এমন কোন গ্রাম নাই যেখানে কিছু শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ নেই। এই মানুষগুলো কেউ এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন পড়লে বিভিন্ন দাতা সংস্থা প্রত্নতত্ত্ব গ্রামাঞ্চলে রয়েছে তাদেরকে অবগত করতে হবে। তাদের সাথে যোগ হয়ে গ্রামের মানুষের প্রতিটা ঘরে ঘরে সচেতনতা পৌঁছে দিতে হবে। এবং এটা করা যেতে পারে বিভিন্ন দলে ভাগ ভাগ করে ওই গ্রামের মানুষের বা নারীদের সময় অনুসারে তাদেরকে নিয়ে বসতে হবে। তাদেরকে ন্যূনতম লেখাপড়া সম্বন্ধীয় কিছু জ্ঞান এবং শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা তাদের ছোট শিশুদের কে কিছু শিখাতে পারেন। আর একটা কাজ করা যেতে পারে আর যেটা হচ্ছে নারীদেরকে হস্তশিল্পের কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের নারীরা হস্তশিল্পে খুবই পাকা এটা ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়। 

* এছাড়া সরকারি কিছু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে যেগুলো গ্রামের এই মানুষদেরকে অনেক বেশি সহযোগিতা করতে পারে। উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কম্পিউটার, কৃষি, মোবাইল, মৎস্য চাষ, মুরগি পালন, ছাগল পালন, গরু পালন ও দর্জি কাজ ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এই প্রশিক্ষণ গুলোর মাধ্যমে একজন মানুষ তার উপার্জনের স্থান খুঁজে নিতে পারে যেখান থেকে সে উপার্জনক্ষম হতে পারে। এমনকী আরো একটি বড় সুবিধা রয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ গুলো যে বেকার যুবককে দিয়ে থাকেন তাকে এককথায় বিনা সুদে ঋণ দিয়ে থাকেন এবং এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ টাও বেশ দীর্ঘ যেটা একজন যুবকের পক্ষে খুব একটা অসুবিধার বিষয় নয়।

 

ধন্যবাদ সকলকে আমার লেখাটা পরিদর্শন করার জন্য।

Comments