My school

N

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি ও ভালো আছি। আজকে আমি, আমার বিদ্যালয়ে এক স্মরনীয় ঘটনার উদ্দেশ্যে আজকের এই প্রতিবেদনের উপস্হাপনা করছি। সাধারণভাবে আমাদের সমগ্র বিদ্যালয় জীবন প্রায় ১২ বৎসরের। এই দীর্ঘ সময় জুড়ে আমরা সকলে অসংখ্য ছোট-বড় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হই। স্কুল জীবন আমাদের সবার কাছে এক বিশেষ স্মরনীয় অধ্যায় হয়ে থাকে। স্কুলে কাটানো প্রতিটি দিনই আমার কাছে স্মরণীয় কিন্তু স্কুলে কিছু কিছু দিন থাকে যা কখনো ভোলার নয়। কিছুমাস আগের কথা, তেমনি সেই দিনের স্মৃতি নিয়ে আজকে আমার এই ব্লগটি লেখা।

 

আমাদের বিদ্যালয়ের দিনগুলি ভালো-মন্দ নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কেটে যাচ্ছিল। আমরা যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন একদিন জানতে পারলাম বিদ্যালয় থেকে অষ্টম ও দশম শ্রেণির ছাত্রদের শিক্ষা সফর উপলক্ষে শান্তিনিকেতন নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের সকল বন্ধুদের মন তো আনন্দে নেচে উঠলো। ইতিপূর্বে কখনো আমরা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সফরে যাইনি।

 

তাছাড়া শান্তিনিকেতনের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সম্বন্ধে এর আগেই আমাদের ইতিহাসের শিক্ষক শহিদুল স্যার বিস্তারিতভাবে ক্লাসে বলেছিলেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের স্পোর্টস ডে এবং ছোটখাটো বনভোজন ভিন্ন স্কুল থেকে বন্ধুরা ও শিক্ষকদের সঙ্গে, একসাথে কখনো আমরা বাইরে কাটাইনি। সেখানে আমাদের এই শিক্ষা সফর ছিল তিন দিনের। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে এই সফর সম্পর্কে দারুন উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছিল। 

 

শান্তিনিকেতন যাওয়ার জন্য দুটি শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৯৭ জন ছাত্র ছাত্রী ছিলো এবং আমাদের সঙ্গে ৮ জন শিক্ষকের যাওয়ার জন্য মোট তিনটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা পরের দিন সকাল ৮ টায় শান্তিনিকেতনের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। বাসের মধ্যে সকল বন্ধুরা অনেক আনন্দ, গল্প, গানবাজনা করতে করতে সে জায়গায় পৌঁছালাম। সেইখানে হোটেলে গিয়ে সেই দিনটা বিশ্রাম নেওয়া স্থির হল। সেই দিন বিকেলে হোটেলে মালপত্র রেখে সকল বন্ধুরা মিলে শিক্ষকদের সাথে কাছেই নাম না জানা একটি নদীর পাড়ে খানিকক্ষণ বেরিয়ে আসলাম। স্যার ও সেই নদীর বিষয়ে আমাদেরকে কিছু কথা বললেন। তারপর হোটেলে, রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। এই তিনটি দিন আমরা অনেক জায়গায় গিয়েছিলাম,, অনেক কিছু শিখেছি। সেই জায়গাগুলো থেকে অনেক কিছু উপভোগ করেছিলাম।

 

 

এটি হলো আমার বিদ্যালয়ে ঘটা সবচেয়ে স্মরণীয় একটি ঘটনা। সেই শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা আমার মনে এক উপলব্ধি সৃষ্টি করেছিল। জীবনে কখনো আমি এত সুন্দর ও পরিপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতার সাক্ষী হইনি। হয়তো বিদ্যালয় জীবনের বাকি অংশে আমি আরো বিভিন্ন স্মরণীয় অভিজ্ঞতা লাভ করবো কিন্তু মনের স্মৃতিপটে বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সফরের এই অভিজ্ঞতাটির চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমার কাছে। 

 

এখানেই সমাপ্ত করছি, আমি আমার ব্লগ। 

সবাই অনেক ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Comments