আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি ও ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদেরকে "ইসলামে শিক্ষা, নবীনে স্নেহ ও প্রবীণে শ্রদ্ধা" এই বিষয়ে আজকের এই পোস্ট।
শৈশব ও বার্ধক্য হলো মানবজীবনের একটি অনিবার্য বিধান। কোরআন মাজিদে এই উভয়ের স্বরূপ সম্পর্কে সবকিছু বিস্তারিত বলা হয়েছে, "আল্লাহ", যিনি তোমাদের দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, দুর্বলতার পর তিনিই শক্তি দিয়ে থাকেন, শক্তির পর তিনিই আবার দেন দুর্বলতা এবং বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করতে পারেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৫৪) শৈশবে সকল মানুষই দুর্বল থাকে, বার্ধক্যেও দুর্বলতার দিকেই ফিরে আসে কারণ বার্ধক্য মানেই হলো নানাবিধ দুর্বলতা।
ইসলাম হলো একটি মানবকল্যাণের বিধান। মনুষ্য সভ্যতার ও সমাজের সুখ, শান্তি–সম্প্রীতি, স্থিতি, উন্নয়ন এবং অগ্রগতির লক্ষ্য। যার সুফল প্রতিফলিত হবে ব্যক্তিজীবনে ও আচরণে, যৌথ কর্মে, পরিবারে, সমাজে, জাতিতে, প্রশাসনে ও রাষ্ট্রে।
শুদ্ধাচার ও শিষ্টাচার হলো মানবজীবনের অলংকার। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এসবের আগেই তোমরা আমল করে নাও। ওই দারিদ্র্য, যা মানুষকে আত্মবিস্মৃত করে দেয়, ওই রোগব্যাধি যা জরাগ্রস্ত করে ফেলে, ওই বার্ধক্য যা একেবারে বুদ্ধিহীন করে ছাড়ে।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস: ২৩০৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসের আগে, এই পাঁচটি জিনিসের মূল্যায়ন করো। ১.যৌবনকে বার্ধক্যের আগে, ২.অবসরকে ব্যস্ততার আগে,৩. সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে, ৪.জীবনকে মৃত্যুর আগে।’ (তিরমিজি ও আবুদাউদ)
আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক তোমাকে আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সুন্দর সদ্ব্যবহার করতে। তাদের মধ্যে একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে, তাদেরকে উফ্ বলো না এবং তাদেরকে কোনো রকম ধমক দিয়ো না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচকভাবে কথা বলো। মমতা বশে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত করো এবং বলো, “হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন” (সুরা-১৭ বনি ইসরায়েল, আয়াত: ২৩-২৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচারের একটি দিক হলো, বাবা–মায়ের বন্ধুস্থানীয় ও সমবয়সীদের সবার সঙ্গে সদাচার ও সুসম্পর্ক রাখা।’ (মুসলিম শরিফ)
এটা নবীন ও প্রবীণের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সদাচারের এক অতুলনীয় ব্যবস্থা।
ছোটদের প্রতি স্নেহ–ভালোবাসা ও সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য। যারা আমাদের থেকে বয়সে বা অবস্থানে ছোট, তাদের স্নেহ-মমতা প্রয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম অসহায় শিশুদের জন্য তো আরও বেশি প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "যে এতিম ও অসহায়কে সম্মান করলো, সে আমাকেই সম্মান করলো।" (তিরমিজি)
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তুমি কি তাদের দেখেছো? যারা বিচার ও কর্মফলকে অবিশ্বাস করে! যারা এতিমদেরকে ধাক্কা দেয়। দুর্ভোগ ওই সব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজে উদাসীন; যারা শুধু লোকদেখানো কাজ করে।
মানবতার মহান শিক্ষক প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করে না, সে আমার উম্মত নয়।’ (আবু দাউদ ও তিরমিজি)
আসুন আমরা সবাই নবীজির প্রকৃত উম্মত হিসেবে জীবনকে সাজাই স্নেহ, মায়া–মমতা, প্রীতি, অনুরাগ, দয়া, করুণা, প্রেম, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাতে।
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এই ব্লগটি পড়ার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

