ছোট শহর।মফ:স্বল আর কি!!সাল টা এক দুই এর কাছাকাছি।হাইস্কুলে সবে ঢুকেছি।সাইকেল চালাতে পারতাম না।উচ্চতাতেও পেতাম না প্যাডেল।দেখতাম বিরাট চাইনা ফনিক্স(এখন জানি ফিনিক্স উচ্চারণ হবে) সাইকেলের রডের নিচে পা দিয়ে প্যাডেল করে আমার চেয়েও পিচ্চি পোলাপান দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে।লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম।তখন লোভ গুলি নিষ্পাপ ছিল;হয়তো সীমানার মধ্যেও ছিল।
সাইকেল আসলো বাড়িতে।হিরো কোম্পানির টারগেট নামের লাল পিচ্চি।সারাদিন সাইকেল চালানোর চেষ্টা।একটু গিয়েই ধপাস।
একদিন দেখি,কেউ ধরে নাই।নিজেই প্যাডেল করে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি।আনন্দ পেলাম খুউব।তখন আনন্দ গুলি আনকোরা ছিল;হয়তো কিছুটা হিসাব বিহীন ও ছিল।
একটু পরে আবার ধপাস।উঠে দেখি;বন্ধুবান্ধব হাসছে।আবার শুরু!
চালানো শিখলাম।এবার রাস্তায় চালানো।বন্ধু দেখলাম;হ্যান্ডেল ছেড়ে চালাচ্ছে।আমি ও শুরু করলাম।এবার রাস্তার পাশের ড্রেনের ওপর ধপাস।কাঁদা টাদা লেগে;একাকার।তখন কষ্টগুলো সারফ এক্সেল দিয়ে ধুলেই চলে যেত;ব্যথাও মাত্র কয়েকমিনিটের।
দুই হাজার দুই তিন এর দিকে সাইকেলের এক ধরনের সাইরেন বাজারে উঠলো।সবাই ইউজ করে।সাউন্ড টা শুনলে এখন হাসি আসে!তখন তা নিয়ে কি হুড়াহুড়ি!কেনা লাগবেই।পচাত্তর না আশি টাকা দাম ছিল যেন।
একবার কি নিয়ে চিন্তা করতে করতে সাইকেল চালাচ্ছিলাম।হঠাৎ বিকট শব্দ।
দেখলাম সাইকেল ছয় হাত দূরে।আমি মেইন রাস্তায়।পাশে একটা হোন্ডা (বাইকের আঞ্চলিক নাম) পড়ে আছে!লাফিয়ে উঠে দেখলাম,আমার পায়ের হাড় দেখা যাচ্ছে।মাথা ঝিম ঝিম করে উঠলো।আবার ধপাস!
সাইকেল নিয়ে তোমার;তোমাদের কোচিং বাড়ি বা বাড়ি স্কুল কোচিং এর সামনে ঘোরাঘুরি।বাড়িগুলি আছে।তুমি আগেও ছিলে না;এখন ও নেই। হেহে!
স্কুল যাবার পর বন্ধুদের মত সাইকেল টাও কেমন প্রতিদিনের নিত্য সঙী না হয়ে "মাঝে মাঝের হয়ে গেল"!
কলেজ শেষে "মাঝে মধ্যের।"
এখন সাইকেল নেই।বন্ধুগুলি আছে।দেখা হয়।এই ঈদে।রাস্তায়।ব্যস্ত শহরে।দু এক মিনিট।মাঝে মধ্যেও না।দু এক বছরে।


