আসসালামুওলাইকুম।আপনার সবাই কেমন আছেন?আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি ভালো আছি। আজ আমার আমি আলোচনা করবো বর্তমানে দেশের মুদ্রা বাজার নিয়ে। আশা রাখি সবাই পড়বেন।
বর্তমানে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মুদ্রা বাজার সমস্যা। মানে, ডলারের দাম আকাশছোয়া বেড়ে যাওয়া। এবার এবং এইযাবত কালের সর্বোচ্চ দামে ডলার ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে৷ ১১৮/১১৯ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। যা দেশের জন্য ক্ষতিকর, এটা হচ্ছে খোলা বাজারের দাম। আবার ব্যাংকের ক্ষেত্রে কম, যেমন ১১৪ টা। যদিও দামটা খুবই বেশি। দেশের বাইরে থেকে প্রবাসী এবং এক্সপোরট /ইমপোর্ট করতে ৯৫/ ১১০ টাকা রাখার প্রস্তাব রাখা হয়। কোন কোন ব্যাংক মানে আবার কেউ মানে না।
ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানেরা ব্যাংকের জন্য ডলার কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না।ফলে বিদেশি যেসকল ব্যাংক আছে,তারা তাদের ক্রেডিট এর রাস্তা বন্ধ করে দিতে পারে।
গত তিনমাস আগে ব্যাংকের ডলাদের দাম ছিল ৮৫/৮৬ টাকা।কিন্তু রপ্তানী কম আবার আমদানী বেশি থাকার জন্য এবং নিত্যনতুন প্রয়োজনীও পন্যের দাম বেড়ে যাবার জন্য টাকার দাম কমে গেছে। ফলে বেশি টাকা দিয়ে পণ্য আমদানী করা লাগছে।
ব্যাংকের সবচেয়ে আয় আসে প্রবাসী আয় হতে। তাছাড়া সরকার ২% প্রনোদনা দেয় যা। এতে প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে অনেক আগ্রহী হয়ে গেছে। কিন্তু করোনার জন্য অনেকে সব ছেড়ে দেশে চলে আসে তাই দেশের আয় কমে গেছে।আবার ডলার রির্জাভ থেকে বেশি বিক্রি করায় ডলারের দাম কমে গেছে।
যারা মুদ্রা ব্যাবসায়ী তাদের ভাষ্যমতে, খোলা বাজারে ডলারের সরবরাহ কম, আবার করোনার জন্য বিদেশ থেকে পর্যটক আসা কমে গেছে।তাই তারা ডলার পাচ্ছেন না৷ কিন্তু কেনার চাহিদা বেশি
খোলা বাজার এর চাহিদা মেটাতে মিটিং এ বসেছিলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা তবে কোন সমাধান হয় নি।তারা বলেন তারা খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করবেন না।
সমাধানঃ
প্রথমত, দেশে ডলাদের চাহিদা মেটানোর জন্য আমদানী নির্ভর কমিয়ে আনতে হবে। রপ্তানী নির্ভর বাড়াতে হবে৷ আমাদের পোশাক শিল্পই আমাদের নির্ভরতা৷ কিন্তু এটাও আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে। মানে, শুধু পোশাক শিল্পই নয়, অন্যান্য শিল্প এর দিকে ঝুকতে হবে। দেশে রপ্তানী নির্ভর পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। অন্যান্য দেশগুলার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তারা সেবা খাতে নজর দেয়। যেখানে ভালো লাভ দেখা যায় আবার দেখা যায় যে, তারা এগরিকালচারাল প্রোডাক্টে নজর বেশি দেয়। শুধু একটা প্রোডাক্ট নয়, অন্যান্য প্রোডাক্ট গুলার উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। যেমন দেশে চামড়া শিল্প এর গুরুত্ব অনেক। চামড়াজাত পণ্য আমাদের রপ্তানী করতে হবে।
দেশের ডলারের দাম কমানোর আরেক পদ্ধতি হলো প্রবাসী আয়। করোনার প্রভাবে দেশে প্রবাসী কমেছে৷ যদিও দেশে করোনার সময় ডলার রির্জাভ বেশি হয়েছে। ৪৪ বিলিয়ন ডলার ডলার রয়েছে। কিন্তু সমস্যা ডলার রির্জাভ না। সমস্যা, অনেক প্রবাসী সব কিছু ছেড়ে দেশে চলে এসেছে। সুতরাং যদি প্রবাসীদের আয় বাড়ে তাহলে ডলার রির্জাভ বাড়বে এবং আয়ও বাড়বে। এই জন্য সরকারকে প্রনোদনা বাড়াতে হবে।
খোলা বাজারনীতিতে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।
যদিও নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব না। তবুও মনিটরিং পদ্ধতি আনতে হবে। খোলা বাজারের জন্য অনেক ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডলার পাচ্ছেন না। ফলে ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

