Myself

N
najim219

কিছু বছর আগে আমি উপলব্ধি করি যে আমাদের সকলের মধ্যেই একজন লেখক, কাহিনীকার ও শ্রোতা রয়েছে।

এর কারণ হল গল্প – সিনেমা হোক, বই হোক, গান হোক বা ঠাকুরমার ঝুলি – আমাদের সবার ভাল লাগে। বাচ্চা হোক কিংবা বুড়ো, গল্পই আমাদের আশেপাশের পৃথিবীকে পূর্ণ করে।

গল্প শুধু আমরা অন্যদেরই শোনাই না, নিজেদেরকেও শোনাই।

কারণ নিজের সাথে কথা বলা আসলে অবচেতন ভাবে নিজেকে গল্প বলা ছাড়া আর কি?

আমরা আসলে নিজেদেরকে বলা কাহিনী

আমার গল্প বলার যাত্রা শুরু হয় নিজেকে বলা গল্পগুলি বিশ্লেষণ করা শুরু করে, অর্থাৎ নিজের সাথে বলা কথাগুলি উপলব্ধি করে।

 

আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি খুব চুপচাপ, রোগা, তীব্র ব্যাঙ্গাত্বক, খুব আবেগপ্রবণ, স্বাধীনচেতা… কারণ এই কথাগুলো আমি লোকের থেকে শুনেছি এবং নিজেকে ঠিক বলে বুঝিয়েছি।

 

দেখা গেল যে, সেই চুপচাপ মেয়েটাই ১৫ বছর বয়সে জার্নাল লেখা শুরু করল

 

সেই তীব্র ব্যাঙ্গাত্বক, রোগা মেয়েটা ২২ বছর বয়েসে রসবোধের সাথে বডি-শেমিং নিয়ে লেখা শুরু করল

 

স্বাধীনচেতা মেয়েটা যার একলা ঘুরে বেড়ানোর সাহস ছিল, সে ২৪ বছর বয়সে নিজের চাকরি ছেড়ে ২৬ এর মধ্যে নিজের পছন্দমতন ব্যবসা করা শুরু করল

 

আবেগপ্রবণ মেয়েটি থেরাপির সাহায্যে আর নিজের যত্ন নিয়ে – নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করল – নিজের গল্পগুলিকে খুঁজে পেল

 

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার জীবনের দীর্ঘ কাহিনীর একাধিক সূত্র উঠে এসেছে।

 

একটা কথা বরাবর আমার মাথায় ঘুরেছে, “যখন নিজের জীবনের গল্প বলতে গেলে আর কান্না পাবে না, জানবেন আপনি সেরে গেছেন।”

 

এক সময় আমি লেখার মাধ্যমে (আবার) নিজের গল্প বলতে শুরু করলাম – নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের সাথে লড়াই এর গল্প, কারণ আমি যে রোগা, কোথাও মানিয়ে নিয়ে পারি না, নিজের মানসিক সুস্থতা নিয়ে নিজেকে বিভ্রান্ত আর অসহায় লাগে।

 

এই গল্পগুলি ছিল হৃদয়বিদারক এবং ক্ষতিকর।

 

লেখার সাহায্যে আমি বরাবরই নিজের অন্তরের চিন্তা ও আবেগগুলিকে চিহ্নিত করতে পারতাম। এটা আমার নিজের জন্য একটা যায়গা তৈরী করে দিয়েছে যেখানে আমি নিজের সাথে সময় কাটাতে পারি বা মনের অস্বস্তিগুলি নিয়ে আলোচনা করতে পারি।

 

সেই সময়ই আমি প্রথম উপলব্ধি করি যে আমার চেহারা নিয়ে শুধু বাকিরাই বলছে না, আমি নিজেও বলছি – যে আমি রোগা, আমি কমজোর – এবং তাতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিটা হচ্ছে। 

 

লেখার অভ্যাস আমাকে আমার নিজের বলা গল্পের ফাঁকগুলো বুঝতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাসের ফলে আমি এখন আমার আশেপাশের মানসিক চাপের উৎসগুলিকে চিনতে পারি যা আমার মানসিক সুস্থতাকে নষ্ট করতে পারে। 

Comments

আপনার পোস্ট টি অন্য একটি সাইট থেকে নকল করা। নকল করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দয়াকরে এভাবে নকল করবেন না। অন্যথায় আপনার অ্যাকাউন্ট কালো তালিকাভূক্ত ( ব্ল্যাকলিস্ট) করা হবে।

এই লিংক থেকে থেকে কপি করেছেন।

https://bengali.whiteswanfoundation.org/mental-health-matters/understanding-mental-health/telling-my-story-reclaiming-myself