নায়ক থেকে খলনায়ক মাহিন্দা রাজাপাকসে

N
nahiyan

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কা মোকাবেলা করছে চরম অর্থনীতি সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি সহ ভয়াবহ দুরবস্থা দেশটিতে। তবে এর জন্য রাজাপাকসে পরিবারকে দায়ী করে গত ৯ এপ্রিল থেকে ব্রেজিদেন্ট গোতাবাইয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দার পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নামেন সাধারণ নাগরিকরা। শেষ পর্যন্ত তোপের মুখে পদত্যাগ করেন মাহিন্দা রাজাপাকসে। কিন্তু একসময় নায়ক বনে যাওয়া মাহিন্দা কিভাবে খলনায়কে পরিণতি হলেন তা জানবো। 

শ্রীলঙ্কার ২ বারের প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে ১৯৭০ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে পার্লামেন্টে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা কুমারিন্তের অধীনে শ্রম মন্ত্রী ১৯৯৪ থেকে ২০০১ এবং মৎস্য ও জলজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৭ থেকে  ২০০১ পর্যন্ত মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন মাহিন্দা। ২০০৫ সালের নভেম্বেরে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সক্রিয় লিবারেশন টাইগারস অফ তামিল এলটিটি বিদ্রোহীদের উৎখাত করতে চান। পূর্বশরীরীরা ব্যর্থ হলেও ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে শ্রীলঙ্কার তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে মানুষের কাছে নায়ক বনে যান মাহিন্দা রাজাপাকসে। ঐ যুদ্ধের পর পরই তাকে তুলনা করা হয় সিংহল বৌদ্ধ রাজাদের সঙ্গে। এতকিছুর পরও শেষ রক্ষা হয়নি। সবশেষ ২০১৯ সালে বৌদ্ধ সংখ্যাঘরিষ্ঠ দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোতাবায়ে জয়ী হলে মাহিন্দাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন গোতাবায়ে রাজাপাকসে। তবে সরকারের একের পর এক অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপক পরিকল্পনায় ভুগতে থাকে দেশটির অর্থনীতি।

 

জাতীয় আয়ের চেয়ে জাতীয় ব্যয় বেশি, করোনার কারণে পর্যটন এলাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর ভ্যাট কমানো, বিদেশী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় তৈরি হয় তীব্র সংকট।

মূলত এইসব কারণে দেশের মাহিন্দা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এইজন্য তিনি নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন।       

Comments