মাইগ্রেনের ব্যথায় যেসব বিষয়ে থাকতে হবে সতর্ক

N
nahiyan

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সকলে ভালো আছেন আমিও ভালো আছি আপনাদের দোয়ায়। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব মাইগ্রেনের ব্যথায় যেসব বিষয়ে থাকতে হবে সতর্ক তা সম্পর্কে:-

ছবির উৎসঃ Unsplash

ভ্যাপসা গরম প্রায় অনেকেরই মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরবাড়ির বাইরে সূর্যের তাপের সংস্পর্শে আসলে এ সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে মাথাব্যথার সমস্যা সবচেয়ে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মাইগ্রেনের সমস্যা।

মাইগ্রেন হলো এক বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা। এ ব্যথা প্রথমত মাথার যেকোনো একপাশ থেকে শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণা অনুভব শুরু হয়। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার দুপাশেও হতে পারে। এ ধরনের মাথাব্যথার কারণে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়।

মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে মাথা দপদপ অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি চোখের চারপাশেও ব‌্যথা হতে থাকে। বংশগত বা হরমোনাল,  কিংবা পারিবারিক কারণে কোনো কোনো ব্যক্তির মাইগ্রেনে আক্রান্ত হতে পারে।

এসব কারণ ছাড়াও নানা পারিপার্শ্বিক অনেক কারণ রয়েছে, যা মাইগ্রেনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো হলো ঠিকমতো ঘুম ও খাওয়া-দাওয়া না করা, অতিরিক্ত টেনশন বা ডিস্টার্বনেস, অস্থিরতা ইত্যাদি। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের আগে ও পরে মাইগ্রেনের সমস্যা বেশি বেড়ে যায় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

ছবির উৎসঃ Unsplash

এ সমস্যাটি কখনো পুরোপুরি সেরে ওঠে যায় আবার কখনো সারে না। তবে যেসব মাইগ্রেনের সমস্যা কখনো পুরোপুরি সেরে উঠে না, সে ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের মাথাব্যথাকে অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।

মাইগ্রেনের মাথাব্যথা সাধারণত মাঝে মাঝে হয়ে থাকে। মাথায় প্রচণ্ড ব্যথার পাশাপাশি রোগীর বমিভাব হয়ে থাকে। কখনো কখনো রোগী বমিও করে ফেলতে পারে। এ ছাড়াও রোগী এ সময় চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করে। কারণ অন্ধকারে রোগী অনেকটা স্বস্তিবোধ করেন।

দ্রুত মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর জন্য অনেকে চা, ম্যানথল নিয়ে থাকেন। অনেকে অনেকে প্যারাসিটামল খেয়ে ব্যথা কমান। কিন্তু এ সময় পর্যাপ্ত ঘুমালেও মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকটা কমে আসে। তখন তরল পানীয় বেশি বেশি গ্রহণ, চোখে-মুখে-কপালে পানির ঝাপটা দিলেও মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যায়।

তবে প্রায়ই যদি আপনি মাইগ্রেনের ব্যথায় ভোগেন তবে দ্রুত এর সমাধান না খুঁজে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। কারণ চিকিৎসা গ্রহণ না করার বিকল্প নেই বলে আমি মনে করি।

ছবির উৎসঃ Unsplash

সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীরা মাইগ্রেনের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। তবে মাইগ্রেনের সমস্যায়  একজন চিকিৎসককে বেশি খেয়াল রাখতে হয় একজন গর্ভবতী নারী, বয়স্ক আর কোমলমতি শিশুদের ক্ষেত্রে। কারণ, এমন অবস্থায় চাইলেই কোনো চিকিৎসক রোগীকে যেকোনো ওষুধ দিতে পারেন না।

মাথাব্যথা নিয়ে অনেকের মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণাও দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, এমন মাথাব্যথার কারণ জিন বা ভূতের আসর তার উপর ভর করেছে। অনেকে রোগ সারাতে কবিরাজের কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা নিয়ে থাকেন, যা কখনোই কাম্য যোগ্য নয়। বরং এসব ভুল চিকিৎসায় না গিয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগের মাধ্যমেই মাইগ্রেনের মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

 

আজকে এই পর্যন্ত। অন্যদিন অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো। আশা করি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। 

আল্লাহ্‌ হাফেজ। 

Comments

sereybd

অভিনন্দন, আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

@mahmud552 দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে
20220913_222205.png