যে সব কারণে ভেঙে যায় সম্পর্ক

N
nahiyan

ছবির উৎসঃ Unsplash

 

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সকলে ভালো আছেন আমিও ভালো আছি আপনাদের দোয়ায়। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব যে সব কারণে ভেঙে যায় সম্পর্ক তা সম্পর্কে:-

 

সঙ্গী মানে অনেকের কাছে মনে হয় ‘ও তো আছেই' । একটু স্বীকৃতি দেয়া, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এগুলোতে যেন চরম উদাসীনতা। অবসর সময় পেলে সঙ্গীকে যে ভাবতে হয়, এসএমএসে দিয়ে হলেও সেটা জানানো যায়-এটাই অনেকের কাছে অনেক সময় খুব একটা গুরুত্ব পায় না।

সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে এসব কারণ বেশ প্রভাব ফেলে। কঠিন দায়িত্ব থাকতেই পারে তাই বলে অপর মানুষটা কী করছে বা কী করছে না, তার কী ভালো লাগছে বা ভালো লাগছে না-এটা জানতে চাওয়ার সময় নিয়মিত হোক বা না হোক একেবারেই যে হয় না সেটাওতো ঠিক না। 

আর এসব কারণেই বেশির ভাগ সম্পর্কগুলো বিচ্ছেদের দিকে গড়িয়ে যায়। কিছু সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় থাকে যার জন্য সেগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আলোচনা করে হয় ঠিক করা উচিত, নয়তো সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। অন্যথায় এর জন্য আপনাকে সারাজীবন পস্তাতে হতে পারে। কিছু সমস্যাকে ছোট করে দেখলেও সেটি কিন্তু ধীরে ধীরে অনেক বড় সমস্যা হতে থাকে। যার জন্য পরবর্তী জীবনে প্রভাব পড়ে। এর জন্য আমার মত হলো, এসব ক্ষেত্রে চুপ থাকা বা এড়িয়ে চলা যাবে না। বরং যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

ছবির উৎসঃ Unsplash

সঙ্গীর লক্ষ্য নিয়ে উদাসীন

সঙ্গী মানে যে শুধু সুখের ভাগীদার তা নয়, দুঃখের সময়ও পাশে থাকা লাগে। আপনার স্বপ্ন, আপনার প্রত্যাশা, আপনার আকাঙ্ক্ষা কোনোকিছুই যদি তাকে স্পর্শ না করে তবে তা আপনার জন্য দুঃখিত, কারণ সেটি আসলে কোনো সম্পর্কই নয়। যিনি আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন সময়ই ভাবে না, তার সঙ্গে আপনি আর কতদূরই বা যেতে পারবেন? সঙ্গী মানে হলো পরস্পরের পাশে থাকা। কারণ তিনি আপনার পাশে না থেকেও কীভাবে সঙ্গী হতে পারে? আপনার দুঃসময়ে তার ভরসার হাত যদি কাঁধেই না পান, তাহলে তাকে বয়ে বেড়ানোর তো কোনো মানেই হয় না!

ছবির উৎসঃ Unsplash


মতামতকে গুরুত্ব না দিলে

অনেক অনেক প্রেমিক বা স্বামী থাকে, যাদের বৈশিষ্ট্য হলো স্বৈরাচারী ধরনের। সম্পর্কে তাদের কথাই শেষ কথা। যেকোনো বিষয়ে তারা একাই মতামত দেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। আপনার সঙ্গী কি আপনার মতামতকে কখনও গুরুত্ব দেয়? নাকি তিনিও সেসব স্বৈরাচারীদের দলে? প্রথম দিকে আপনার এই বিষয়কে স্বাভাবিক মনে হতে পারে, তারপর একটা সময় তার এই স্বভাব আপনার কাছে অসহ্য মনে হয়ে উঠবে। এমন একজন মানুষের সঙ্গে কতদিন টিকে থাকতে চান, তার সিদ্ধান্ত আপনার কাছেই।
 
সুযোগ পেলেই ছোট করে
 
এমন অনেক মানুষ আপনার আশপাশেই দেখতে পাবেন, যারা সুযোগ পেলেই নিজের সঙ্গীকে ছোট করে কথা বলে। মানুষের সামনে ছোট করতে পারলে, আপনাকে অপমান করে কথা বলতে পারলেই যেন তার মনে আনন্দ হয়! সঙ্গীর মাঝে এমন স্বভাব দেখতে পেলে আপনাকে আগেই সতর্ক হতে হবে। কারণ তার এই স্বভাব আপনাকে ভেতর থেকে ভেঙেচুরে ছাড়খার করে দেবে। আর আপনার আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট করে দিবে। তাই এমন মানুষের সঙ্গে কে আর কতদিন মানিয়ে চলতে পারে আপনি বলেন!
ছবির উৎসঃ Unsplash

হিংসা করলে
 
সঙ্গী মানে পরস্পরের সুখে সুখী হওয়া। কারণ তখন দুজন মিলেই আপনারা একই। যদি আপনার সব সাফল্যে তিনি কেবল হিংসাই করে থাকে, তাহলে সতর্ক হয়ে যান এখনি। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে চিৎকার করলে, এমনকী গায়ে হাত তুললে সেই সম্পর্ক ভাঙতে একটুক ছাড় দিবে না। কারণ এমন সম্পর্কে শেষটা খুবই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ নেয়!
ছবির উৎসঃ Unsplash
 
 
তাই সবশেষে বলতে চাই, নিজের সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকে সতর্ক হোন। তা না হলে জীবনে আপনাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হবে। আশা করি ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আজকে এই পর্যন্ত, অন্য একদিন অন্য কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে আমি হাজির হবো। 
আল্লাহ্‌ হ��ফেজ।

 

Comments