আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে মধ্যবিত্তদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করবো।
স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্ন ভাঙা নিয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তদের জীবন। একদিকে দারিদ্র্যের ভয়, অন্যদিকে উপরে ওঠার লড়াই হলো মধ্যবিত্তদের প্রধান চরিত্র।
মধ্যবিত্তের সংজ্ঞায়ন এক লাইনে করা সম্ভব নয়। কিংবা অর্থনৈতিক প্যারামিটার দিয়েও এটাকে ভালোভাবে বোঝানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত শব্দটি যেমনি অর্থনৈতিক, ঠিক একইভাবে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক।
ধনীরা বাজারে নিজেদের অবস্থান জানান দেয় নিজেদের মূল্যবান অর্থ ও টাকার শক্তি,কিন্তু মধ্যবিত্তরা সেখানের বাজারে অবস্থান করে টিকে থাকার জন্য, যাতে তারা হারিয়ে না যায়।
বাংলাদেশে কারা মধ্যবিত্ত?
সোজাসাপ্টা সংজ্ঞা দিতে গেলে, যাদের মাসিক আয় ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের মধ্যবিত্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২১ সালের জরিপ থেকে জানা যায়, বর্তমানে ২২ শতাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ কোটি।
যাদের দৈনিক আয় ১০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা মধ্যে তাদের মধ্যবিত্ত বলা হয়। মধ্যবিত্তকে আবার দুভাগে ভাগ করেছেন। যেমন, যাদের প্রতিদিনকার আয় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, তাদের নিম্নমধ্যবিত্ত ও যাদের ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা তাদের উচ্চবিত্ত বলা যায়।
তবে মধ্যবিত্ত মানেই অর্থনীতির কাটখোট্টা হিসাব নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক জীবনব্যবস্থার আলোকে দেখতে গেলে, যারা মূলত দরিদ্র হওয়ার ভয় ও উচ্চবিত্তদের জীবন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে দিয়ে ভোগে, তাদেরকেই মধ্যবিত্ত বলা যায়।
মধ্যবিত্ত ধারণাটি অনেক ব্যাপক। একেক জায়গা থেকে এটিকে একেকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। আমরা পপুলেশন সায়েন্সে মধ্যবিত্ত শব্দটি ব্যবহার করি না। আমরা মূলত সমাজের মানুষকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করি আর এটা মূলত তাদের গৃহস্থালি সম্পদের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। এখানে মোটা দাগে কাদের মধ্যবিত্ত বলা যায়, তা আলোচনাসাপেক্ষ।
মধ্যবিত্তরা কী চান?
এখন এককথায় বলতে গেলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তরা সবদিক থেকে জীবনের নিরাপত্তা চান। মধ্যবিত্তরা তাদের জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটে এই নিরাপত্তা অর্জনের মধ্য দিয়ে।
এখন অর্থনীতির ভাষায় বলতে গেলে সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণিদের বুঝায়, আর্থিক ও জীবনগত নিরাপত্তা অগ্রাধিকার সর্বাগ্রে।
আমরা যারা মধ্যবিত্ততে বসবাস করি, তাদের বেশ কিছু স্বপ্ন থাকে। আমরা স্বপ্ন ও বাস্তবতার সঙ্গে সমানভাবে অবস্থান করি। যারা উচ্চ মধ্যবিত্ত, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তার বাবা হয়তো নিম্নমধ্যবিত্ত ছিলেন। অনেক কষ্টে তাদের ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে চাকরির বাজারে প্রস্তুত করেছেন। এখানে সেই নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবার স্বপ্ন ছিল তার ছেলে-মেয়ে যাতে জীবনে সাফল্য পায়। এটাই কিন্তু ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য। আমরা একটা বেটার লাইফ পাওয়ার জন্য প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছি।
আমরা যারা মধ্যবিত্ত, তাদের জীবনটা একটি নির্দিষ্ট বাজেটকেন্দ্রিক। মাসের শুরুতেই আমাদের হিসাব করতে হয় কোথায় কত টাকা খরচ করতে হবে। কিন্তু যখন বাজারের অবস্থা খারাপ হয় বা হঠাৎ কোনো সমস্যায় পড়লে, সেটা হিসাব করা বাজেটে ঘাটতি দেখা দেয়। আর এইটাই মধ্যবিত্তদের একটা ভয় ও অস্বস্তির কারণ। আমরা সবসময় চাই মাস শেষে আমাদের যাবতীয় খরচটা যাতে বাজেটের মধ্যেই থাকে। যখন একজন মধ্যবিত্ত তার খরচ সামলিয়ে সঞ্চয় করতে শুরু করেন, তখন তিনি স্বপ্ন দেখার সাহস পান। অন্যদিকে সঞ্চয়ে টান পড়লে তার মধ্যে প্রতিনিয়ত একটি ভয় কাজ করে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মধ্যবিত্তদের মধ্যে আর্থিক নিরাপত্তা বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব।
এ দেশের মধ্যবিত্তরা আর্থিক নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক উভয়ই অধিকার নিতে যায়। আর যেকোনো সংকটে মধ্যবিত্তরাই অগ্রগামী থাকেন। অন্যদিকে অধিকারবঞ্চিতদের তালিকাতে কিন্তু প্রথমেই আসে মধ্যবিত্তদের নাম।
আজকে এই পর্যন্তই। অন্যদিন অন্য কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো। যদি আমার লেখাটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগে তাহলে নিচে আপনাদের মতামত জানাবেন এবং একটি আপভোট দিয়ে পাশে থাকবেন। ধন্যবাদ আপনাকে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।


আপনার পোস্ট @sereybd দ্বারা কিউরেট করা হয়েছে। Serey Bangladesh কমিউনিটিতে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
realsort-elyas দ্বারা ম্যানুয়ালি কিউরেট করা হয়েছে