ওয়েম্লিতে ফাইনাল ম্যাচটা শুধু একটা শিরপার লড়াই বললে ভুল হবে। বরং ম্যাচ ছাপিয়ে হয়ে উঠেছিল লাতিন ও ইউরো ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের দ্বৈরথ। যেখানে খেলাটার যে সৌন্দর্য লাতিন ফুটবল তা আর একবার প্রমান করলো লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার দল। ইউরো এবং কোপা জয়ী দুই দল আর্জেন্টিনা এবং ইতালি মুখোমুখি ঐতিহাসিক ওয়েম্লিতে। ইতালিয়ান লিজেন্ড কেল্লেনির বিদায়ী ম্যাচ। শুরুতে তাকে সম্মনা জানানোর হয় তাকে। কিন্তু এই রাতটা যে ছিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। শুরু থেকে উত্তাপ ছড়ায় ম্যাচে। প্রথম ২০ মিনিটে লড়াই সমান মনে হলেও তা সময়ের সাথে মিলিয়ে যায় উত্তাপ। তখন ম্যাচটা হয়ে যায় এক তরফা দিবক্স এর বাইরে থাকা লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনার। সে সময় ডিবক্স এর বাইরে ফ্রী কিক পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সে ফ্রী কিকে কোন গোলের দেখা পায় না আর্জেন্টিনা। এরপর অপেক্ষা করে থাকতে হয়নি কোপা জয়ীদের। ২৯ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লিওনেল মেসির পাস থেকে স্কোর শীটে নাম লেখান লাউতারিও মার্টিনেজ। তখন আর্জেন্টিনা ১-০ তে লিড নেয়। গোল হজম করে ইউরো জয়ীরা হয়ে পরে দিশেহারা। সেই সুযোগটা দারুণ ভাবে কাজে লাগায় আর্জেন্টিনারা। প্রথমার্ধে ইনজুরির সময় লিডটা ২-০ করেন ডি মারিয়া। দারুণ গোলে ইতালিয়ান গোলরক্ষককে বোকা বানান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আর ক্ষিপ্ত হয় আর্জেন্টিনারা। একেরপর এক আক্রমণের শিকার হয় এই ইতালিয়ান গোলরক্ষক। কিন্তু আর্জেন্টিনার সামনে দেয়াল হয়ে দাড়ায় গোলরক্ষক ডোম্মা রমা। ডি মারিয়ার দুইটি শট ফিরিয়ে বড় করতে দেননি এই গোলরক্ষক। গোলপোস্টে তাঁর দানবীয় পারফর্মেন্স হতাশ করেছে মেসিকেও। দারুণ এক শট ঠেকিয়ে গোল বঞ্চিত করেন খুদে জাদুগরকে। তবে ওইদিন মাঠ জুড়ে অনন্য ছিলেন লিওনেল মেসি। শেষ মুহূর্তে চমক নিয়ে হাজির হন পাউলিও দিবালা। গোলটা মেসি পেতে পারতেন। তবে সতীর্থকে দিয়ে গোল করালেন তিনি। এতে ব্যবধান হয় ৩-০ তে। সেই সাথে শেষ বাঁশি বাজান রেফারি। এতে আর্জেন্টিনারা ৩-০ তে ফিনালিসিমা কাপ জয়ী হয়। এরপর মেসিকে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠে তাঁর সতীর্থরা। আর দুইটি আসিস্ট নিয়ে লিওনেল মেসি হন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।
ধন্যবাদ সবাইকে আমার পোস্টটি পরার জন্য।

