আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সকলে ভালো আছেন আমিও ভালো আছি আপনাদের দোয়ায়। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব রাতে ঘুম না এলে করণীয় কী? তা সম্পর্কে:-
ছবির উৎসঃ Unsplash.com
আপনি অনেক ক্লান্ত, তাই লম্বা একটা ঘুম দেবার জন্য বিছানায় শুয়ে পড়লেন। কিন্তু আপনার তখন কিছুতেই ঘুম আসছে না । বহু মানুষরা এ সমস্যায় কোনো না কোনো সময় পড়েছেন। সুতরাং আমার প্রশ্ন হলো, কীভাবে নিজের মনকে চাপমুক্ত রেখে চমৎকার ঘুমের জন্য নিজেকে তৈরি করা যায়।
তাই ঘুমানোর আগে কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করলে অনিদ্রা সমস্যা অনেকটা দূর হতে পারে। সে সম্পর্কে নিচে জেনে নেওয়া যাক–
১. রাতে ভালোভাবে ঘুম না আসার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে— ঘুমাতে যাওয়ার আগে চা, কফি বা নিকোটিনজাতীয় কিছু পান করা। সারা দিন কাজের শেষে যদি আপনি মনে করেন যে, এগুলো পান করে নিজে কিছুটা রিল্যাক্স হবেন, তা হলে আপনি ভুল ভাবছেন। কারণ সেটিই হতে পারে আপনার রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার কারণ।
২. রাতে আপনি তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চাইলে তুলনামূলক ঠান্ডা স্থান নির্বাচন করুন। ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস প্রবেশ না করলে সেখানে ঘুমের সমস্যা করে থাকে। ঘুমানোর সময় ঘর গরম থাকলে এবং বিশেষ করে বালিশ ও বিছানা গরম থাকলে তা ঘুমের জন্য উপযুক্ত জায়গা নয়। কারণ ঘর গরম থাকলে বা বালিশ ও বিছানা গরম থাকলে তা ঘুমের ব্যঘাত ঘটায়। তাই ঘুমানোর জন্য ঠান্ডা ঘর এবং শোবার জায়গা ঠান্ডা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ছবির উৎসঃ Unsplash.com
৩. আপনার রাতে ঘুমের সমস্যা হলে ঘুমানোর আগে আপনি হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। অনেকে মনে করেন ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে তা শরীরকে ঠান্ডা করে এবং ভালো ঘুম আসতে সাহায্য করে। কিন্তু এটি একদমই ভুল ধারণা। ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে তা শরীরকে ঠান্ডা করে কিন্তু তাও সেটি অল্প কিছু সময়ের জন্য। আর হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে সেটি শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঠান্ডা করে রাখতে সাহায্য করে।
৪. ভালো ঘুমের জন্য আমাদের দিনে অন্তত ১৫ মিনিট হলেও হালকা ব্যয়াম করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে হালকা ব্যয়াম করলে সেটি শরীরকে চটচটে ও সক্রিয় করে তোলে। কারণ এটি রাতে ঠিকমতো ঘুম আনতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া বেশিরভাগ সময় দুপুরে ঘুমানো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ এটি রাতের ঘুমকে নষ্ট করে দেয়।
৫. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকার চেষ্টা করুন। কারণ এটি আপনার মস্তিষ্ককে দিন ও রাতের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে। আপনার মস্তিষ্ক দিন আর রাতের পার্থক্য ঠিকমতো বুঝলে আপনার রাতে নিজে থেকেই ঘুম আসতে সাহায্য করবে।
ছবির উৎসঃ Unsplash.com
পরিশেষে বলতে চাই। আমরা সবসময় তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করবো। যা আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। আজকে এই পর্যন্ত অন্যদিন অন্য কোন বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো। ধন্যবাদ।

